
বিশ্বকাপের পঞ্চম ম্যাচ ডেতে খেলেছে ৮টি দল। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে দলগুলোর র্যাঙ্কিং পার্থক্য বড়সড় থাকলেও ফলে তা ফুটে ওঠেনি। সব ম্যাচই ড্র হয়েছে। এর মধ্যে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন কোনো গোলই করতে পারেনি। ইরান–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আবার দুই দলই ২টি করে গোল করেছে। আর বেলজিয়াম–মিসর ও সৌদি আরব–উরুগুয়ে ম্যাচে প্রতিটি দলই করেছে ১টি করে গোল।
এসব ম্যাচ ঘিরে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান দেখে নিতে পারেন।
পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের হয়ে খেলা ভোজিনিয়ার বয়স ৩ জুন ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এত বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। এর চেয়ে বেশি বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মিসরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি। ২০১৮ বিশ্বকাপে অভিষেকের সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর ১৬১ দিন।
কেপ ভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রমাণ, স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তারা মাত্র একটি ফাউল করেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কোনো ম্যাচে একটি দলের এত কম ফাউল করার নজির নেই। ৩টি করে ফাউল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কোস্টারিকা (২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে) ও জার্মানি (১৯৭৪ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে)।
২০২৪ ইউরোর ফাইনালে গোল করেছিলেন মিকেল ওয়াইরসাবাল। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি।
বিশ্বকাপে স্পেন সর্বশেষ গোল করেছিল কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১১ মিনিটে আলভারো মোরাতার হেড থেকে এসেছিল গোলটি। এর পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেন ৪৯টি শট নিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার পাস সম্পন্ন করেছে, কিন্তু একটিও গোল করতে পারেনি। সেবার জাপানের ম্যাচের পর তারা মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্র করে টাইব্রেকারে হেরেছিল। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করেছে আরেকটি ০-০ ড্র দিয়ে।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না জিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় মিসরের অবস্থান দ্বিতীয়। বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ ড্র করা দলটি এখন পর্যন্ত খেলেছে ৮ ম্যাচ। তাদের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেও কখনো জয়ের দেখা পায়নি শুধু হন্ডুরাস (৯ ম্যাচ)। আবার আজই ইরানের সঙ্গে ২–২ ড্র করা নিউজিল্যান্ড ৭ ম্যাচ খেলে এখনো জিততে পারেনি।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে ২২টি শট নিয়েছে, যা বিশ্বকাপের কোনো এক অর্ধে একটি দলের সর্বোচ্চ শটের রেকর্ডগুলোর একটি। এর চেয়ে বেশি ২৪টি শট নিয়েছিল পূর্ব জার্মানি ১৯৭৪ সালে চিলির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে।
আজ ৩৪ বছরে পা দেওয়া মোহাম্মদ সালাহ নিজের জন্মদিনেই বিশ্বকাপে একটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (অ্যাসিস্ট)। জন্মদিনে বিশ্বকাপে গোল বা গোলে সহায়তা করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার তিনি।