ঘা-টা এখনো শুকায়নি। পেনাল্টি-ঘা। দগদগে হয়ে আছে ব্রাজিল সমর্থকদের মনে। ৫ জুলাই, ২০২৬। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রুনো গিমারাইসের সেই পেনাল্টি মিসে কপালও পুড়েছিল ব্রাজিলের।
আর্লিং হলান্ডদের কাছে ২-১ গোলের হারে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চয়ই মনে আছে? ম্যাচের ১৩ মিনিটে গিমারাইস পেনাল্টি মিস না করলে কে জানে ম্যাচের ফল অন্য রকমও হতে পারত! ব্রাজিলের সমর্থকদের বিশ্বাসটা অন্তত এমনই।
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠে নামবে ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। তাতে স্বাভাবিকভাবে পেনাল্টি শট নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে। ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া, এস্তেভাও, এনদ্রিকদের মতো তারকার সঙ্গে মারকিনিওসের মতো অভিজ্ঞ আছেন স্কোয়াডে। কিন্তু শুধু অভিজ্ঞতা কিংবা তারকা ইমেজ দিয়ে পেনাল্টিতে গোল পাওয়া নিশ্চিত হয় না, সেটাও তাঁদের ভালোমতো জানা আছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের এ চক্রে ব্রাজিলের প্রথম মাঠে নামার লগ্নে প্রশ্নটি তাই থেকেই যাচ্ছে—পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব নেবেন কে?
গিমারাইস বিশ্বকাপে সে পেনাল্টি মিসের পর ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি আরও এক হাজারবার এই একই শটই নেব।’ অর্থাৎ মিস করা নিয়ে আর্সেনাল মিডফিল্ডারের আসলে ভয়ডর নেই। সামনে এই দায়িত্ব আবারও পেলে গিমারাইস একইভাবে শট নিতে চান। তা, এ আত্মবিশ্বাস অবশ্যই ভালো এবং গিমারাইস যে প্রায় আড়াই মাস আগের সে মিসকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন সেটাও তাঁর কথায় পরিষ্কার, ‘পেনাল্টি মিস করা ফুটবলের অংশ। এমন কিছু (মিস) তো আর বলে কয়ে হয় না। এটি একটি ক্ষত, যার যন্ত্রণা এখনো রয়ে গেছে।’
কিন্তু শুধু যন্ত্রণা পুষে রাখলেই তো হবে না। সেই যন্ত্রণা উপশমে সঠিক সিদ্ধান্তও তো নিতে হবে। নেইমার থাকলে এ নিয়ে ভাবতে হতো না। কিন্তু নেইমার জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ায় আনচেলত্তি এখন কার গলায় পেনাল্টির ঘণ্টা বাঁধবেন?
উত্তরটা সম্ভবত রাফিনিয়া।
বার্সেলোনায় এবারের মৌসুমে রাফিনিয়ার যে উত্তুঙ্গ ফর্ম, আনচেলত্তি শুধু সেটুকু দেখেই তাঁর কাঁধে পেনাল্টি নেওয়ার ভার চাপানোর মতো বোকা নন। ব্রাজিলের এই কোচ তাঁর শিষ্যদের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা মেপেই নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নেবেন। ঠিক এ জায়গাতেই এগিয়ে রাফিনিয়া।
সবার আগে একটি প্রশ্ন—রাফিনিয়াকে সর্বশেষ কবে পেনাল্টি মিস করতে দেখেছেন? উত্তরে কারও কারও মাথা চুলকানোই স্বাভাবিক। কারণ, প্রায় এক দশকের মধ্যে সেই স্মৃতি নেই!
২০১৭ সালে ২৩ ডিসেম্বরের পর পেনাল্টিতে মিস নেই রাফিনিয়ার। তখন তিনি পর্তুগিজ ক্লাব ভিতোরিয়া গিমারাইসের খেলোয়াড় এবং সেদিন ক্লাবটির হয়ে পেনাল্টি মিসের পর আর সে পথে পা বাড়াননি। সে মিসের পর ২২ পেনাল্টি শট নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন সব কটিতেই।
ক্যারিয়ারে মোট ২৪টি পেনাল্টি নিয়েছেন রাফিনিয়া। গোল করেছেন ২৩টি এবং তার মধ্যে ২২টি টানা। বার্সায় ১৩ পেনাল্টির সব কটিতে গোল করেছেন। ব্রাজিল জাতীয় দলে ৩টি, লিডস ইউনাইটেডে ৪টি ও রেনেতে একটি পেনাল্টি নিয়েও কখনো ব্যর্থ হননি। শুধু ভিতোরিয়ার হয়ে ৩ পেনাল্টি নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন ২টিতে।
রাফিনিয়া পেনাল্টি নেওয়ায় কতটা দক্ষ, সেটা তুলে ধরেছে কাতালান সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো।’ তাঁর নেওয়া সর্বশেষ ১৬ পেনাল্টির (বার্সেলোনার হয়ে ১৩টি ও ব্রাজিলের হয়ে ৩টি) মধ্যে ৯টি শট গোলকিপারের ডান দিকে, ৬টি বাঁ দিক দিয়ে চিপ করে এবং ১টি পোস্টের মাঝ বরাবর দিয়ে। অর্থাৎ স্পটকিকে রাফিনিয়া কোন দিক দিয়ে শট নেবেন, তা প্রতিপক্ষ গোলকিপারের জন্য আগে থেকে ঠাহর করা খুব কঠিন।
প্রশ্ন তুলতে পারেন, রাফিনিয়া পেনাল্টি নেওয়ায় এত ভালো হলে বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে কোথায় ছিলেন? উত্তর হলো বেঞ্চে। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় মূল একাদশে ছিলেন না।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। রাফিনিয়া পূর্ণ ফিট। এ মৌসুমে বার্সার হয়ে ৮ ম্যাচে ১৪ গোল করে আছেন দুর্দান্ত ছন্দে ও ফুরফুরে মেজাজে। নতুন দায়িত্ব তুলে নেওয়ার সময় আসলে এখনই। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর ইঙ্গিত, তাঁর কাঁধেই পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব তুলে দেবেন আনচেলত্তি।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় প্রথম প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। আগামী মঙ্গলবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটিও শুরু হবে একই সময়ে। এরপর ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে টাউনসভিলে কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়াম ও ব্রিসবেনে সানকর্প স্টেডিয়ামে।