২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করেছে ইংল্যান্ড
২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করেছে ইংল্যান্ড

আর্জেন্টিনাকে যে ৪ কারণে হারাতে পারে ইংল্যান্ড

আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া ইংল্যান্ডের জন্য শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সুযোগও। কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

বরং টমাস টুখেলের দলের বিশ্বাস করার মতো কয়েকটি জোরালো কারণও আছে। সেগুলো মিললে ৬০ বছরের অপেক্ষাও ফুরোতে পারে ইংল্যান্ডের।

১. আর্জেন্টাইন রক্ষণের দুর্বলতা

সেমিফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে খুব একটা জমাট দেখা যায়নি। শেষ ৩২–এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার জন্য অতিরিক্ত সময়ে যেতে হয়েছে। আবার শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষেও ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল দলটি।

সব মিলিয়ে নকআউট পর্বে খেলা তিন ম্যাচে মোট ৫টি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে প্রতিপক্ষের শট সেভের দিক থেকেও সবচেয়ে পিছিয়ে (৫৭%) ছিল তারা।

দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ সুযোগ পেলেই তাদের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পেরেছে। প্রতিপক্ষ সুযোগ পেলেই আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে ফেলতে পেরেছে। একই সুযোগ কাজে লাগানোর আশা করতেই পারে ইংল্যান্ড।

২. কেইন-বেলিংহাম জুটি দুর্দান্ত ছন্দে

এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রাণ হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজনই ৬টি করে গোল করেছেন। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন বেলিংহাম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুটি নকআউটে যা করার কীর্তি ছিল শুধু ডিয়েগো ম্যারাডোনার।

অপর দিকে কেইনও আছেন ছন্দে। শেষ ৩২–এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে জিতিয়েছেন এই নাম্বার নাইনই। সুতরাং নকআউটে চাপের মুহূর্তে দুজনেরই পারফর্ম করা এখন প্রমাণিত। একজন সুযোগ তৈরি করেন, আরেকজন শেষ করেন—এমন জুটি যেকোনো রক্ষণকে ভোগাতে পারে।

বেলিংহাম ও কেইন ৬টি করে গোল করেছেন

৩. সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে

পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের বক্সে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। হেড, কাটব্যাক, দ্রুত আক্রমণ—বিভিন্ন উপায়ে গোলের পরিস্থিতি তৈরি করছে টমাস টুখেলের দল।

যে চারটি দল সেমিফাইনালে উঠেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮টি ‘বিগ চান্স’ তৈরি করেছে ইংল্যান্ডই। এখন সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার রক্ষণ যদি আগের ম্যাচগুলোর মতোই ফাঁক দেয়, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা সেটার পুরো সুবিধা নিতে পারবেন।

সেমিতে ওঠার আগে সবচেয়ে বেশি ‘বিগ চান্স’ তৈরি করেছে ইংল্যান্ড

৪. এবার সত্যিকারের পরীক্ষার মুখে আর্জেন্টিনা

গ্রুপ পর্বের পর আর্জেন্টিনা নকআউটে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে এসেছে। এ পর্যন্ত আসার পথে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের একটিরও মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। সেই অর্থে ইংল্যান্ডই হবে তাদের প্রথম বড় পরীক্ষা।

টুখেলের দল তাই আত্মবিশ্বাসী হতে পারে যে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো যদি আর্জেন্টিনাকে ভোগাতে পারে, র‍্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দল হয়ে ইংল্যান্ড কেন নয়?