উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন পাউ কুবারসি
উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন পাউ কুবারসি

মেসির জন্য খারাপ লাগছে উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা কুবারসির

পাউ কুবারসির সময়টা কেমন কাটছে?

মাত্রই বিশ্বকাপ জিতেছেন। স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পথে পেয়েছেন উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এরপরও এমন প্রশ্ন কেন?

কারণটা লিওনেল মেসি হেরেছেন বলে। এই মেসিই যে তাঁর আদর্শ! তাই তরুণ এই ডিফেন্ডারের মন কাঁদছে মেসির জন্যও।

বিশ্বকাপে মেসি শেষটা ভালো করতে পারেননি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তাঁকে থাকতে হয়েছে বোতলবন্দী হয়ে। আর এই কাজটা যাঁরা করেছেন, তাঁর মধ্যেই একজন কুবারসি।

এরপরও নিজের আদর্শ মেসির হারে খারাপ লাগছে ১৯ বছর বয়সী কুবারসির, ‘আমি এর আগে কখনো তাঁকে সামনাসামনি দেখিনি। যখন তিনি আমার সঙ্গে হাত মেলাতে এলেন, তখনই বুঝলাম ঘটনাটি সত্যি। তাঁর সঙ্গে খেলা আমার জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। তিনি আমার আইডল। তিনি হেরে গেছেন বলে আমার খারাপ লাগছে। তবে আমাদের জয়ে আমি অনেক খুশি।’

আদর্শের জন্য একচিলতে মন পুড়লেও মাঠের লড়াইয়ে কিন্তু বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি কুবারসি। কিছু পরিসংখ্যানে কুবারসি কতটা ভালো খেলেছেন, তা স্পষ্ট হবে। ফাইনালে ১২৬টি পাস বাড়িয়েছিলেন কুবারসি। যার মধ্যে ১২১টিই ছিল নিখুঁত। শতকরা হিসাবে যা ৯৬ ভাগ!

শুধু রক্ষণভাগে বল ধরে রাখাই নয়, স্পেনকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন সামনের দিকেও। প্রতিপক্ষের অর্ধে ৪৮টি পাসের মধ্যে ৪৫টিই সফল ছিল তাঁর। আর নিজেদের অর্ধে ৭৮টি পাসের মধ্যে ৭৬টিই পৌঁছায় সতীর্থদের পায়ে।

ম্যাচে মোট ১৩৯ বার বল ছুঁয়েছেন কুবারসি। বল যেন চুম্বকের মতো বারবার তাঁর পায়েই ফিরে আসছিল। এর মধ্যে ৪টি দূরপাল্লার পাসের ২টি সফল হয়, সঙ্গে ছিল ১টি কি পাসও। ঠিক কোন মুহূর্তে আক্রমণে উঠতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত কুবারসি নিয়েছেন একদম পাকা জহুরির মতো। এমনকি প্রতিপক্ষের গোলবারে একটি শটও নিয়েছিলেন তিনি।

মেসিকে বোতলবন্দী করে রেখেছেন কুবারসিরা

আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও কুবারসি ছিলেন চীনের প্রাচীর। পুরো ১২০ মিনিটের ম্যাচে এই তরুণ বল হারিয়েছেন মাত্র ৫ বার!

একজন সেন্ট্রালব্যাকের জন্য এই পরিসংখ্যান দুর্দান্ত। তিনি ৬ বার বল ক্লিয়ার করে বিপদ এড়ান। বল রিকভারি করেছেন ৫ বার। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সঙ্গে ১০টি দ্বৈরথের ৭টিতেই জিতেছেন এই তরুণ। বল পায়ে এতটাই বিপজ্জনক ছিলেন যে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা তাঁকে থামাতে ৩ বার ফাউল করেছেন।

দুই দশক আগে কুবারসির বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনাই আবিষ্কার করেছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে। নিজের আঁতুড়ঘরের সেই পরম আরাধ্য কিংবদন্তিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতা কুবারসির কাছে এখনো সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে।

বিশ্বকাপ জেতা কুবারসি বলেছেন, ‘সবকিছু কেমন যেন অবাস্তব মনে হচ্ছে। এই দারুণ অভিজ্ঞতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, আমাদের মনে হলো আমরা ইতিহাস গড়ে ফেলেছি। আমি সব সময়ই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু কখনো ভাবিনি নিউইয়র্কে এসে সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরব! ভাবলেই আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।’

স্পেনের এই শিরোপা জয়ের পেছনে কোনো একক জাদু ছিল না। কুবারসির মতে, তাঁদের মূল শক্তি ছিল দলের একতা। তিনি শেষ করেন এভাবে, ‘এই টুর্নামেন্টে আমাদের কঠিন সব দলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা একটা পরিবারের মতো খেলেছি। আর সেই বন্ধনের কারণেই আমরা আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’