
ভাইরাসে আক্রান্ত ভিনসেন্ট কোম্পানি ডাগআউটে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কিছুটা সংশয় ছিল গোলপোস্টের নিচে মানুয়েল ন্যয়ারের থাকা নিয়েও। শেষ পর্যন্ত দুজনই থাকলেন। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের আর জয়ে ফেরা হলো না।
আগের ম্যাচে ভাইকিংয়ের মাঠ থেকে ড্র করে ফেরা বায়ার্ন এবার নিজেদের মাঠে পয়েন্ট খোয়াল আর্সেনালের কাছে। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইনের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরুতে দুই দলই ছিল সতর্ক। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখা মাইকেল ওলিসেকে ছাড়া নেমে বায়ার্ন আক্রমণে গুছিয়ে উঠতে সময় নিয়েছে। এর মধ্যেই সপ্তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আর্সেনাল অধিনায়ক বুকায়ো সাকাকে। তাঁর বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজে-ই দলকে এগিয়ে দেন ২৫ মিনিটে। মার্টিন ওডেগার্ডের দারুণ লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ন্যয়ারকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
১০ মিনিট পরই সমতায় ফেরে বায়ার্ন। মাঝমাঠ থেকে কেইনের অসাধারণ এক পাস ধরে আর্সেনালের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢোকেন আলফোনসো ডেভিয়েস। এরপর ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান এই ফুটবলার। চলতি মৌসুমে এটি ছিল কেইনের সপ্তম অ্যাসিস্ট, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এর চেয়ে বেশি আছে শুধু লামিনে ইয়ামালের (১০টি)।
বিরতির পর দুই দলই গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে। ৪৮ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে ব্রুনো গিমারাইসের হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ন্যয়ার। বল ক্রসবারে লেগেও ফিরে আসে। পরের মিনিটে বায়ার্নের উপামেকানোর হেড দারুণভাবে ঠেকান রায়া।
৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বায়ার্ন এগিয়ে যায় কেইনের গোলে। ইংলিশ অধিনায়কের শট ব্লক করতে গিয়ে হাতে বল লাগান আর্সেনালের ইয়ুরিয়েন টিম্বার। ভিএআরে যাচাইয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে রায়ার বিপরীত দিকে বল পাঠিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন।
তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি স্বাগতিকেরা। ৮২ মিনিটে ননি মাদুয়েকের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে ভিক্টর ইয়োকেরেস বল বাড়ান ডেকলান রাইসকে। বক্সের ডান দিক থেকে নিচু শটে ন্যয়ারকে পরাস্ত করে আর্সেনালের হয়ে সমতা ফেরান ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এই ড্রয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে আছে আর্সেনাল। ভাইকিংয়ের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করা বায়ার্নের এটি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানো। তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে ১৪তম স্থানে।
দুঃসময় যেন কাটছেই না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এবার ইতালিতে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্টে কোমোর জয়ের নায়ক আর্জেন্টাইন প্লেমেকার নিকো পাজ।
ম্যাচ শুরুর দুই মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে কোমোকে এগিয়ে দেন পাজ। বিরতির পর ৪৯ মিনিটে তাঁর পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস। ৫৭ মিনিটে ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবার ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পাজ। ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে হেডে চতুর্থ গোলটি করেন জ্যাকোবো রামন।
যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোদের ক্রস থেকে হেডে ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন জশুয়া জির্কজি। তবে তাতে হার এড়ানোর কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকল ইউনাইটেড।
অন্যদিকে নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেক মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা কোমোর এটি টানা দ্বিতীয় জয়।