এশিয়ার ক্লাব প্রতিযোগিতায় কেমন করে আবাহনী
এশিয়ার ক্লাব প্রতিযোগিতায় কেমন করে আবাহনী

এশিয়ার ক্লাব প্রতিযোগিতায় কেমন ফল আবাহনীর

২০১৯ সালটা আন্তর্জাতিক ফুটবলে আবাহনীর জন্য দারুণ পয়া এক বছর ছিল। এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসের সেরা ফলটা নীল–হলুদ শিবির সেবারই পেয়েছিল। ভারতের মিনার্ভা পাঞ্জাব ক্লাবকে হারিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল এএফসি কাপের আন্ত–আঞ্চলিক সেমিফাইনাল পর্বে।

উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ ক্লাবকে সেমিফাইনাল রাউন্ডে ছেড়ে কথা বলেনি আবাহনী। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে ৪–৩ গোলের দারুণ এক জয়ও তুলে নিয়েছিল। যদিও ‘অচেনা’ উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে ২–০ গোলে হেরেছিল তারা। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে পিওংইয়ংয়ে লড়াইটা সেদিন মন্দ করেনি তারা। মোহামেডানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে এশীয় পর্যায়ের ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় আবাহনীর সেমিফাইনাল রাউন্ডের অভিযানটাকে স্মরণীয়ই বলতে হবে।

২০১৭ সালে এএফসি কাপে প্রথম খেলেছিল আবাহনী

এশীয় পর্যায়ের ক্লাব প্রতিযোগিতায় আবাহনী প্রথম খেলেছিল ১৯৮৫ সালে। সেটি ছিল এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্লাব প্রতিযোগিতা। আজকের দিনে যেটি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৩৮ বছর আগে সেটিই ছিল এশিয়ান ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ। কলম্বোর বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে মালদ্বীপের ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া, ভারতের ইস্ট বেঙ্গল, শ্রীলঙ্কার স্যান্ডার্স ক্লাব, নেপালের নিউরোড ক্লাব ও পাকিস্তানের পিআইয়ের বিপক্ষে খেলেছিল আবাহনী। ভ্যালেন্সিয়াকে ৮–১, স্যান্ডার্সকে ৪–১, পিআইএকে ৩–০ আর নিউরোডকে ২–১ গোলে হারিয়েও আবাহনী চূড়ান্ত পর্বে যেতে পারেনি। ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১–০ গোলে হেরে গিয়েছিল।

২০১৯ সালে এএফসি কাপের আন্তঃআঞ্চলিক সেমিফাইনাল পর্বে হোম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে হারিয়েছিল আবাহনী

১৯৯১ সালে আবাহনী এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। সেটি ছিল এশিয়ার ক্লাব প্রতিযোগিতার আরেকটি টুর্নামেন্ট। হালের এএফসি কাপের সঙ্গে যেটিকে মেলানো যায়। হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে সেবার আবাহনীর প্রতিপক্ষ ছিল ভারতের ইস্টবেঙ্গল। ঢাকায় হোম ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর কলকাতার অ্যাওয়ে ম্যাচে আবাহনী হারে ১–০ গোলে। এরপর আবাহনী এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপে খেলেছে ১৯৯৭ সালে। পূর্ব এশীয় অঞ্চলের প্রথম রাউন্ডে আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মালদ্বীপের ওল্ড বেনেডেকটাইনস ক্লাব। ঢাকার প্রথম লেগে তাদের ৫–০ গোলে হারানোর পর মালেতে আবাহনী জয় পায় ৩–০ গোলে। দ্বিতীয় রাউন্ডে আবাহনী খেলেছিল চীনের বেইজিং গুয়োয়ান ক্লাবের সঙ্গে। বেইজিংয়ের অ্যাওয়ে ম্যাচটি আবাহনী হেরেছিল ২–০ গোলে। ঢাকার হোম ম্যাচে আবাহনী হারে ১–০ গোলে।

গত মৌসুমে এএফসি কাপে আবাহনী–মোহনবাগান ম্যাচ

এর পরের দশকে আবাহনী এশীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। ২০০৮ সালে আবাহনী অংশ নেয় এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, এএফসি কাপের সঙ্গে এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সে সময় তৃতীয় ক্লাব প্রতিযোগিতা হিসেবে এটি চালু করেছিল। ২০০৮ সালে তাজিকিস্তানের রেগার তাদআজ ক্লাব, নেপাল পুলিশ ও পাকিস্তানের ওয়াপদার বিপক্ষে প্রেসিডেন্টস কাপে প্রথম খেলেছিল আবাহনী। নেপাল পুলিশের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে শুরু করা আবাহনী রেগার তাদআজের কাছে হারে ২-১ গোলে। পাকিস্তানের ওয়াপদাকে অবশ্য ১-০ গোলে হারিয়েছিল নীল-হলুদরা।

১৯৯৭ সালে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপে বেইজিংয়ের মাটিতে বেইজিং গুয়োয়ান ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে আবাহনী

২০০৮ থেকে মাঝখানে শুধু ২০১২ বাদ দিয়ে ২০১৩ পর্যন্ত প্রতিটি প্রেসিডেন্টস কাপেই খেলেছে আবাহনী। ২০০৯ সালে তুর্কমিনিস্তানের এফসি আশগাবাদ, শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রেসিডেন্টস কাপের গ্রুপে খেলে আবাহনী। লঙ্কান সেনাবাহিনীকে ২-১ গোলে হারানোর পর তুর্কমিনিস্তানের ক্লাবটির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে আবাহনী। ২০১০ সালে কিরগিজস্তানের দরদই দায়নামো, নেপালের নিউরোড ও তাইওয়ানের হাসুস টিএইউ ছিল আবাহনীর গ্রুপে। নিউ রোডকে ২-০ গোলে হারানোর পর দরদই ও হাসুসের সঙ্গে দুই ম্যাচেই গোলশূন্য ড্র করে আবাহনী। ২০১১ সালে কিরগিজস্তানের নেফচি, কম্বোডিয়ার নমপেন ক্রাউন ও শ্রীলঙ্কান ডন বস্কো ক্লাবের সঙ্গে খেলে আবাহনী। নেফচির কাছে হারে ২-০ গোলে। হার ছিল নমপেনের সঙ্গেও, ১-০ গোলে। ডন বস্কোর বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ই সেবার আবাহনীর সাফল্য। ২০১৩ সালে নেপালের থ্রি স্টার ক্লাব, মঙ্গোলিয়ার এরচিম, তাইওয়ানের পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে গ্রুপে পড়েছিল আবাহনী। থ্রি স্টারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আবাহনী। হারে এরচিমের বিপক্ষে। তাইওয়ানের দলটির সঙ্গে শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেই সেবারের প্রেসিডেন্টস কাপ শেষ করেছিল আবাহনী।

১৬ আগস্ট মালদ্বীপের ক্লাব ইগলসের বিপক্ষে এএফসি কাপের ম্যাচে মাঠে নামবে আবাহনী

২০১৭ সাল থেকে আবাহনী এএফসি কাপে অংশ নিচ্ছে। এটি এএফসির দ্বিতীয় টায়ারের ক্লাব প্রতিযোগিতা। ২০২২ পর্যন্ত প্রতিবছরই আবাহনী এ প্রতিযোগিতায় খেলেছে। এ সময় আবাহনী ২২ ম্যাচ খেলে ৭টিতে জিতেছে, ড্র করেছে ৫টি ম্যাচে, হেরেছে ১০টিতে। গোল করেছে ২৭টি। আবাহনীর বিপক্ষে গোল হয়েছে ৩৪টি। ২০১৯ সাল ছাড়া প্রতিবারই আবাহনী গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। নেপালের মানাং মার্সিয়ানদির বিপক্ষে ২০১৯ সালের গ্রুপ পর্বে ৫–০ গোলে জয়ই আবাহনীর সবচেয়ে বড় জয়।

১৯৮৫ সালে এশিয়ান ক্লাব কাপে প্রথম খেলেছিল আবাহনী

১৬ আগস্ট আরেকটি এএফসি কাপে খেলতে নামবে আবাহনী। তবে এবার ধানমন্ডির ক্লাবটিকে খেলতে হবে প্রাথমিক রাউন্ডে। প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের আরেক দল ক্লাব ইগলস। এ ম্যাচ জিতলে আবাহনী খেলবে প্লে অফ পর্বে ২২ আগস্ট। নেপালের মাচিন্দ্রা ও ভারতের মোহনবাগান সুপারজায়ান্টসের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলকে সে ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে আবাহনী।