সিটির গোল উদযাপন।
সিটির গোল উদযাপন।

৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে সিটির দুর্দান্ত জয়, লিভারপুল জিতল ইসাকের একমাত্র গোলে

ম্যান সিটি ৫ : ৩ সান্ডারল্যান্ড

বোর্নমাউথ ০ : ১ লিভারপুল

৮ গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ, প্রথমার্ধেই ৫ গোল, প্রতিপক্ষ এক খেলোয়াড়ের হ্যাটট্রিক, এবং সবশেষে ম্যানচেস্টার সিটির দুর্দান্ত এক জয়। কী দারুণ এক ম্যাচই না আজ দেখল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ইতিহাদে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ গোলের রোমাঞ্চে শেষ হাসিটা হাসল ম্যান সিটি। ৫-৩ গোলের এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা সিটি ৩ পয়েন্টে এগিয়ে গেল দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে।

একই দিনে অন্য এক ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে লিভারপুল জিতেছে আলেকসান্ডার ইসাকের একমাত্র গোলে।

ইতিহাদে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। নবম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক শটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। চেলসি থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম গোল।

তবে সান্ডারল্যান্ড থেমে থাকেনি। শুরু থেকেই ছন্দে থাকা দলটি দ্রুত জবাব দেয়। এনজো লে ফি–র চমৎকার পাসে ব্রায়ান ব্রোবি গোল করে সমতা ফেরান। নেদারল্যান্ডসের এই ফরোয়ার্ড ঠাণ্ডা মাথায় বল পাঠান জালে।

সিটির হয়ে প্রথম গোলের পর এনজো ফার্নান্দেজের উদযাপন।

এনজো মারেসকার তারকায় ঠাসা দলের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই চালাতে থাকে সান্ডারল্যান্ড। কিন্তু নিজেদের বক্সের কাছ থেকে বিল্ড-আপ করতে গিয়েই মহা ভুলটি করে বসে তারা। নিখুঁত প্রেসিংয়ে বল ছিনিয়ে নিয়ে রায়ান শেরকির দিকে বাড়িয়ে দেয় সিটি। ঠাণ্ডা মাথার শটে বল নিচের কোনায় জড়িয়ে সিটিকে ফের এগিয়ে নেন শেরকি।

তবু আবারও ফিরে আসে সান্ডারল্যান্ড। লে ফি আবারও ডিফেন্স চিরে দেন। এবার থমাস মুনিয়ের বল বাড়ান ব্রবির দিকে। ফাঁকা জালে সহজেই গোল করেন তিনি। অফসাইডের জন্য দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষা হলেও শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকে।

হ্যাটট্রিক করেছেন সান্ডারল্যান্ডের ব্রায়ান ব্রোবি

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়ে সান্ডারল্যান্ড। সেই সুযোগে আধিপত্য বাড়ায় সিটি। বিরতির ঠিক আগে আন্তোয়ান সেমেনিওর দারুণ শটে আবারও লিড নেয় দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা কিছুটা ধীরগতির হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই আসে সিটির চতুর্থ গোল। মার্ক গেহির পাস গিয়ে পড়ে সেমেনিওর কাছে। বাঁ পায়ের শটে দূরের কোণে বল পাঠিয়ে দেন তিনি।

দুই মিনিট পর আবার নাটক। গ্রানিত শাকার পাসে নিলসন অ্যাঙ্গুলো বল বাড়ান সামনে। সেখান থেকে ব্রোবি গোল করে পূর্ণ করেন লিগে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।

রায়ান শেরকির গোল উদযাপন

ম্যাচ তখন ৪-৩, উত্তেজনা তুঙ্গে। সিটি বল দখলে রেখে গতি কমাতে চায়। কিন্তু সান্ডারল্যান্ড থামেনি। এক পর্যায়ে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার ভুলে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়ে যায় তারা। তবে রুবেন দিয়াজ দ্রুত সামলে বিপদ কাটান।

শেষ পর্যন্ত স্বস্তি আসে ম্যাচের ৮১ মিনিটে। ইওস্কো গাভারদিওলের ক্রসে পোস্টের পেছনে থাকা আর্লিং হলান্ড সহজে গোল করে ব্যবধান বাড়ান। শুরুতে অফসাইড ধরা হলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলায় ভিএআর। এই গোলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে মুখোমুখি হওয়া প্রতিটি দলের বিপক্ষেই গোল করার কীর্তি গড়লেন আর্লিং হলান্ড।