সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস
সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

‘এই ফুটবলাররা হারতে জানে না’, ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ কোচ

মাঠের সবুজ ঘাসে কেউ আড়াআড়ি শুয়ে আকাশ দেখছেন, হয়তো খুঁজছেন হারের সান্ত্বনা। কেউ সাইড বেঞ্চে পাথরের মূর্তির মতো বসে, চোখেমুখে রাজ্যের অন্ধকার। গোলপোস্টের পাশে দাঁড়িয়ে কেউবা আনমনে ভাবছেন—ঠিক কোথায় খেই হারাল ভারত? নীল জার্সিধারীদের এমন বিষাদসিন্ধুর বিপরীতে মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে তখন লাল-সবুজের এক উদ্দাম বসন্ত। টাইব্রেকারের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ভারতকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে দেখা যায় জাতীয় পতাকা নিয়ে উদ্‌যাপন করতে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই যমজ ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভানের জন্য রাতটা ছিল আরও বিশেষ। কারণ, অভিষেক টুর্নামেন্টেই ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন দুই ভাই। রোনান ফাইনালে গোল না করলেও পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন উজ্জ্বল। দুই গোলের পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল।

এই উৎসবের রংটা আরও রঙিন করেছেন মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে আসা বাংলাদেশি দর্শকেরা। আজ ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই লাল–সবুজের জন্য গলা ফাটিয়েছেন তাঁরা। বাংলাদেশও হতাশ করেনি, পুরো ৯০ মিনিট দাঁতে দাঁত লাগিয়ে লড়েছে। টাইব্রেকারেও দেখিয়েছে দাপট। বিশেষ করে বাংলাদেশ গোলকিপার ইসমাইল হোসেন পেনাল্টি শুটআউটে ভারতের প্রথম শট থামিয়েই শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা দারুণভাবে জাগিয়ে তোলেন।

এমন দিনে হয়তো ২০২২ সালটাও মনে পড়বে বাংলাদেশি সমর্থকদের। সেবার ভুবনেশ্বরে একই প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। পরে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট জিতেছে। তবে চার বছর পর আগে ভারতের কাছে হারের সেই হিসাবটাই যেন আজ সুদে–আসলে মেটাল বাংলাদেশ। তাই তো ফুটবলারদের খুশিরও সীমা নেই। ম্যাচ জয়ের পর অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। এমন একটা জয় নিয়ে গর্ব করাই যায়। দেশের হয়ে শিরোপা জিততে পেরে বেশি ভালো লাগছে। দর্শকদের ধন্যবাদ, তাঁরা পুরোটা সময় আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন।’

সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ট্রফির সঙ্গে বাংলাদেশ দলের কোচ ও অধিনায়ক

বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্সও রোমাঞ্চিত। অনূর্ধ্ব–২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম টুর্নামেন্ট। আর প্রথম অভিযানেই মুকুট নিয়ে ফিরছেন তিনি। যদিও এমন সাফল্যে প্রশংসার মালাটা শিষ্যদের গলায়ই পরিয়েছেন তিনি। উচ্ছ্বসিত কক্স বলেছেন, ‘এই ফুটবলাররা হারতে জানে না। তারা কখনো হাল ছাড়ে না। আজও সেটাই করে দেখিয়েছে। তারা তাদের পতাকার জন্য খেলে।’