
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, কিছুদিন আগে এমন খবর দিয়ে তোলপাড় ফেলেছে দ্য অ্যাথলেটিক। এরপর বিবিসিও জানিয়েছে, ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে একটি বাদ দিয়ে বাকি সবগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ক্লাবটি। তবে শাস্তি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপিলসহ প্রক্রিয়ার অনেক কিছুই এখনো বাকি।
সিটি অবশ্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর অস্বীকার করেনি। তবে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে প্রক্রিয়াটি ‘এখনো চলমান’।
এর মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, আসলে কী শাস্তি হওয়া উচিত সিটির? নানাজন নানা মত দিচ্ছেন। পয়েন্ট কাটা, আর্থিক জরিমানা, প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার করা, এমনকি সিটির সব ট্রফি কেড়ে নেওয়ার মতো শাস্তির আলোচনাও হচ্ছে ফুটবল বিশ্বে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বলেছেন, এই মামলার প্রভাব শুধু শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। সাউদাম্পটন ও টটেনহামের সাবেক এই কোচ বলেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো, শাস্তি কী হওয়া উচিত, সেটা ঠিক করা।’
পচেত্তিনো মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগে তাঁর সময় এমন অনেক ক্লাব ছিল, যারা নিয়ম মেনে চলেছে। অথচ একই সময়ে তাদের সিটির মতো দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। তাঁর মতে, ‘তারা যে শাস্তিই দিক না কেন, সময়কে পেছনে নেওয়া সম্ভব নয়। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’
কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই আর্জেন্টাইন কোচ, ‘অনেক ক্লাব নিয়ম মেনেছে, আবার কেউ কেউ মানেনি। হয়তো তারা ভেবেছিল, শাস্তি কখনোই হবে না। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, কোথায় ছিল সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যা এমনভাবে নিয়ম ভাঙার সুযোগ দিল! এই জায়গাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়।’
চেলসির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন পচেত্তিনো। কয়েকটি ট্রান্সফার উইন্ডোতে খেলোয়াড় কেনায় নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিল ক্লাবটি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি ফিরে গেছেন ২০১৬-১৭ মৌসুমে। চেলসি তখন লিগ জিতেছিল, আর তাঁর টটেনহাম হয়েছিল দ্বিতীয়।
পচেত্তিনোর প্রশ্ন, ‘টটেনহামের মতো একটি দল, যারা শিরোপার জন্য লড়ছিল, প্রতিবছর শীর্ষ চারে ছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলেছে, তারা যদি ১৮ মাস কোনো খেলোয়াড় কিনতে না পারে, সেটা কি শুধু আর্থিক নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই? আমাদের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল খুব কঠোর, কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয়। তাই বলি, সবকিছুই খুব অদ্ভুত লাগে।’
পচেত্তিনোর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই পুরো ঘটনার যে ছাপ পড়ে গেল প্রিমিয়ার লিগের ওপর, সেটাই তাঁকে বেশি ভাবায়? তাঁরও প্রশ্ন, ‘আমরা এমন এক সময় পার করেছি, যখন লিগে ন্যায়বিচার ছিল না। যা ক্ষতি হয়ে গেছে, সেটা কীভাবে পূরণ করবেন?’
পচেত্তিনো তাই মনে করেন, শুধু ম্যানচেস্টার সিটির শাস্তি নির্ধারণ নয়, বরং এই ঘটনার ফলে প্রতিযোগিতা, ক্লাব ও সমর্থকদের বিশ্বাসে যে ফাটল ধরল, সেটা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।