
প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণের ভুলে গোল হজম। তারপর লাল কার্ড, পেনাল্টি থেকে আরও এক গোল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশার যেন শেষ নেই!
স্টামফোর্ড ব্রিজে আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ইউনাইটেড। টানা ৯ ম্যাচে জয়হীন দলটি এখন অবনমন অঞ্চলের মাত্র ১ পয়েন্ট ওপরে। সপ্তাহ শেষে পয়েন্ট তালিকার শেষ তিনেও নেমে যেতে পারে ইংল্যান্ডের ২০ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে ইউনাইটেডের চেয়েও বেশি বিপদে সম্ভবত কোচ মাইকেল ক্যারিক। তাঁর চাকরিটাই যে এখন সুতোয় ঝুলছে!
গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলে হারের পরই ক্যারিকের বিদায় দেখেছিলেন অনেকে। ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ অবশ্য সাবেক এই মিডফিল্ডারকে আরও একটি সুযোগ দেয়। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারলেন না ক্যারিক।
অথচ প্রথমার্ধে গল্পটা অন্য রকম হতে পারত। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর কোচের কৌশলের সমালোচনা করায় বোর্নমাউথের বিপক্ষে বাদ পড়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। কাল অধিনায়ককে আবার প্রথম একাদশে ফেরান ক্যারিক।
ব্রায়ান এমবেউমোর ক্রস থেকে সহজ সুযোগ পেয়েও বল উড়িয়ে মারেন ফার্নান্দেজ। পরে তাঁর ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি এমবেউমো। আমাদ দিয়ালোর দুটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন চেলসির বদলি গোলকিপার মাইক পেন্ডার্স।
একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল ইউনাইটেড। হ্যারি ম্যাগুয়ারের হেড থেকে গোল করেন মাতেউস কুনিয়া। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় সেটি। বিরতিতে সম্প্রচারকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে হতাশা লুকাতে পারেননি ক্যারিক। কে জানত, আরও বড় হতাশা অপেক্ষা করছে দ্বিতীয়ার্ধে!
৫০ মিনিটে ইউনাইটেডের রক্ষণ চিরে গোল করেন মরগান রজার্স। মাঝমাঠের বৃত্তের ভেতর বল পেয়ে প্রায় বিনা বাধায় এগিয়ে যান ইংল্যান্ডের এই ফুটবলার। তারপর গোলকিপার সেন্নে লামেন্সের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
ক্যারিকের জন্য গোলটা ছিল আরও বেদনাদায়ক। মিডলসব্রোতে একসঙ্গে কাজ করার সময় ক্যারিকই রজার্সের ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দিয়েছিলেন। সেই রজার্সই এবার পুরোনো গুরুর বিপদ বাড়ালেন!
এরপর ইউনাইটেডের সর্বনাশ ডেকে আনেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
সম্প্রতি দলবদলের বাজারে ইউনাইটেডের পর্যাপ্ত অর্থ খরচ না করার সমালোচনা করেছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। অথচ মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে।
রজার্সকে টেনে ধরে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন মার্তিনেজ। এরপর ফ্রি-কিকের সময় উঁচু করা কনুই দিয়ে আঘাত করেন ওয়েসলি ফোফানাকে। ভিএআর দেখে রেফারি পিটার ব্যাংকস পেনাল্টি দেন। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়তে হয় মার্তিনেজকে।
কোল পালমারের পেনাল্টি শটে হাত লাগিয়েও গোল ঠেকাতে পারেননি লামেন্স।
চেলসির দায়িত্বে জাবি আলোনসো আসার পর খুব কমই শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এস্তেভাও। কাল সুযোগ পেয়ে পালমারের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোলও করেছিলেন। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় সেটি।
শেষ ২৫ মিনিটে ইউনাইটেডকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে চেলসি। গ্যালারি থেকে তখন ভেসে আসছে ক্যারিকের বরখাস্ত হওয়ার স্লোগান। তবে ব্যবধান আর বাড়েনি।
ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ইউরোপে প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে ইউনাইটেড। ইতালিয়ানদের কাছে আরেকটি হার মানে আগেভাগে বিদায়ের লজ্জা, সঙ্গে বড় আর্থিক ধাক্কাও।
প্রশ্ন একটাই, সেই ম্যাচে ইউনাইটেডের ডাগআউটে ক্যারিককে দেখা যাবে তো?