ম্যাচসেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে সতীর্থদের উদ্‌যাপন
ম্যাচসেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে সতীর্থদের উদ্‌যাপন

প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট

খুলনার প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে নড়াইলের ‘দুরন্ত’ মেয়েরা

সকালে অলিখিত সেমিফাইনাল আর বিকেলে আঞ্চলিক ফাইনাল—একই দিনে দুই ম্যাচের ক্লান্তি ছুঁতে পারল না নড়াইলের দুরন্ত উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমিকে।

প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের খুলনা অঞ্চলের প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্ব বা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা।
এর আগে রংপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী ফুটবল একাডেমি ও রাজশাহী থেকে বগুড়ার রক্সি ফুটবল একাডেমি চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আজ বিকেলে আঞ্চলিক ফাইনালে দুরন্তের মেয়েদের সামনে একপ্রকার অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে কুষ্টিয়া ফুটবল একাডেমি। বাই পেয়ে সরাসরি ফাইনালে খেলা দলটি প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। একের পর এক গোলের আনন্দে মেতে ওঠা দুরন্ত দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করে আরও তিন গোল। স্কোরলাইন ৫-০ হওয়ার পর কুষ্টিয়ার মিম আক্তার একটি গোল শোধ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধানটা বড়ই রেখেছে নড়াইলের দুরন্ত—৭-১।

কুস্টিয়া ফুটবল একাডেমির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতেছে নড়াইলের দুরন্ত উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমি

দুরন্তের হয়ে আঞ্চলিক ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন ফরোয়ার্ড পূর্ণিমা রানী মন্ডল। দলের তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম গোলটি করে এই টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকটি নিজের নামে লেখান তিনি। পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক ফিফা রেফারি এহসানুল হক, যিনি ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন।

একই দিনে দু-দুটি ম্যাচ খেলে এমন দাপুটে জয় পাওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা নিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। কারণ, সকালেই আরেকটা ম্যাচ খেলতে হয়েছিল। কিন্তু আমাদের টিমের কম্বিনেশন অনেক ভালো, আমাদের কোচ বেশ কিছুদিন ধরে সকাল-বিকাল দুই বেলা অনুশীলন করিয়েছেন। তার জন্যই আমাদের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব হয়েছে।’

খুলনার প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দুরন্ত উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমি

নড়াইলের ক্লাবটির নামের সঙ্গে ‘দুরন্ত’ থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা বলেন, ‘এখানে আমাদের বেশির ভাগ মেয়ের বয়স অল্প। তারা যাতে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলতে পারে, এ জন্য আমাদের স্যার এই নামটা দিয়েছেন।’

এর আগে দিনের সূচনাটাও দুরন্ত মেয়েরা করেছিল দারুণ ছন্দে। সকালে অলিখিত সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে সাতক্ষীরার রসুলপুর ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হারায় দলটি। সেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন দুটি গোল করা ফরোয়ার্ড মুন্নি। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার।

আগামীকাল খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ অঞ্চলের দ্বিতীয় দিনের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। দিন শেষে পাওয়া যাবে খুলনা অঞ্চলের দ্বিতীয় দল, যারা ঢাকার সাভারে হতে যাওয়া চূড়ান্ত পর্বে পা রাখবে।