সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদরদপ্তর
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদরদপ্তর

৯৬টি দেশ বিপক্ষে দাঁড়ানোর পর ফিফা বলল, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’

বিশ্বকাপসহ নিজেদের টুর্নামেন্টগুলোর শেয়ার বা মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ফিফার এ প্রস্তাবের প্রতিবাদে সংস্থাটির অধীনে থাকা ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ (অ্যাসোসিয়েশন) গত বৃহস্পতিবার একযোগে ভোট দিয়ে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনক্যাকাফও জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্যদেশ এ পরিকল্পনা একবাক্যে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।

এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া বিবৃতিতে ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের কিছু ভুল প্রতিবেদনের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে তথ্য ও সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন যেন তাদের মতামত বা ভোট প্রদান করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা এ আলোচনাপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাব।’

ফিফার বিবৃতিতে দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করা হয়, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। ফিফা এমন চিন্তাভাবনা কখনো প্রশ্রয় দেবে না।’

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায় ফিফা। আর সেই নতুন প্রতিষ্ঠানেই বহিরাগত বা তৃতীয় পক্ষকে শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ফিফার মোট ২১১টি সদস্যদেশের ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে, যেখানে প্রস্তাবটি পাস করতে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অন্তত ১০৬টি ভোটের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ইতিমধ্যে উয়েফা ও কনক্যাকাফ মিলিয়ে যৌথভাবে ৯৬টি দেশের অ্যাসোসিয়েশন এ প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের নিওনে উয়েফার সদরদপ্তর

আজ সকালে ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জনসমক্ষে উঠে আসা বিভিন্ন পরামর্শ, মতামত ও উদ্বেগকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, আমরা তা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিটি সদস্যদেশ যেন নিজ নিজ অঞ্চলে ফুটবলের বড় বাণিজ্যিক সুযোগগুলোর অংশীদার হতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই কেবল এফএফই গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফিফা কিংবা ফুটবলের নিজস্ব চেতনা ও পরিচালনানীতিতে কোনো আঘাত আসবে না।’