শটটা প্রথমে নিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেস। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হন লিওনেল মেসিও। কিন্তু পরের শটে ঠিকই খুঁজে নেন জালের ঠিকানা।
পুরো দৃশ্যটাই সামনে থেকে দেখেছেন হুলিয়ান। ম্যাচ শেষে তাঁর কণ্ঠে যেন সেই অবিশ্বাস, ‘মেসি যা করেছে, তা বোঝানোর মতো কোনো শব্দই নেই।’
এবারের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেরা সব মিলিয়ে করেছে ৫ গোল, সব কটিই এসেছে মেসির পা থেকে। আজই তিনি ভেঙেছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড।
এমন অবিশ্বাস্য কীর্তির পর মেসি তাঁর সমর্থকদের দিয়েছেন আরও বড় কিছুর প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা এরই মধ্যে মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দিয়েছি। তবে আমরা তাদের আরও আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করব।’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না মেসির জন্য। পাঁচ মিনিটের মাথায় পাওয়া পেনাল্টি মিস করেছেন তিনি। সেটা যে কষ্ট দিয়েছিল, তা ম্যাচ শেষে জানালেন মেসিই, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর কিছুক্ষণ আমি ভীষণ বিরক্ত ছিলাম; কিন্তু পরে সেটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি।’
আগের ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, আজ দুই গোলে। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২–এ খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। মেসি জানিয়েছেন, শুরু থেকে এ পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়েছেন তাঁরা।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমরা (পরের পর্বে) কোয়ালিফাই করেছি, সব কটি ম্যাচ জেতা আমাদের পরিকল্পনায় ছিল। পুরো দলটাই অনেক আনন্দ নিয়ে থাকে। আমরা যখন একসঙ্গে হই, উপভোগ করি, অনুশীলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও...।’
এমন দিনে মেসির জন্য বিবিসি রেডিওতে স্তুতি বাক্য শোনা গেল ফ্রান্সের সাবেক তারকা অলিভার জিরোর কথায়ও, ‘লিওনেল মেসি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠছেন। ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গায় নিজেকে হাজির করার অসাধারণ ক্ষমতা আছে তাঁর। আর যখন গোল করছেন না, তখন খেলার মাঝখানে থেকে সুযোগ তৈরি করছেন, খেলার গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করছেন।’