সব নাকি তার ভালো, যার শেষ ভালো। তবে লড়াই যেখানে লম্বা দৌড়ের, আত্মবিশ্বাস যেখানে বড় জ্বালানি—সেখানে শুরুটাই কখনো কখনো বড় হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শুধু দলগুলোর ওপরই চোখ থাকে না, বিশেষ দৃষ্টি থাকে তারকাদের ওপরও। তাতে কেউ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, কেউ আবার প্রত্যাশার ভারে ম্লান। প্রথম রাউন্ড শেষে তাই স্কোরলাইনের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরাও।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে যদি তারকাদের জন্য মার্কশিট তৈরি করা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ‘এ প্লাস’ই পাওয়ার কথা লিওনেল মেসির। কাছাকাছি নাম্বার পাবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হলান্ডরাও।
তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য টেনেটুনে পাস করাটাই বোধ হয় কষ্টকর হয়ে যাবে! অন্তত ফুটবল বিশ্লেষকেরা যেভাবে তোপ দাগিয়ে চলেছেন প্রথম ম্যাচের পর...।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেসি গোল করবেন, এমন ভবিষ্যদ্বাণী অনেকেই ঠিকঠাকভাবে করতে পারার কথা। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি যা করেছেন, তা ভাবনায় থাকার কথা খুব কম মানুষেরই।
আগের পাঁচ বিশ্বকাপে যা পারেননি, সেই হ্যাটট্রিকই করেছেন তিনি। যা তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও বসিয়ে দিয়েছে। সেদিন হ্যাটট্রিকের পরই মাঠ ছেড়ে যাওয়া মেসি ৮০ মিনিটে বল ছুঁয়েছেন ৫৭ বার, নিখুঁত পাস দিয়েছেন।
বড় সুযোগ তৈরি করেছেন দুটি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভয় ধরিয়ে দিলে শট নিয়েছে ৬টি, যার ৪টিই আবার অন-টার্গেট। কদিন পরই যে ৩৯ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন, সেটি একপ্রকার ভুলিয়েই দিয়েছেন মেসি।
মেসির ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি! ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় তিনি ছিলেন ছায়া হয়ে। দুটি সুযোগও নষ্ট করেছেন।
পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পর্তুগালের শুরুটা যে ১–১ সমতার হতাশার ড্রয়ে শেষ হয়েছে, তাতে সবার তোপ এখন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর দিকে।
এমবাপ্পে ও হল্যান্ড অবশ্য নিজেদের চেনারূপেই দেখা দিয়েছেন। সেনেগালের বিপক্ষে এমবাপ্পের জোড়া গোল ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগে বক্সের বাইরে থেকে করা তাঁর গোলটি ফ্রেমবন্দী করে রাখার মতো। সেনেগাল গোলকিপার শুধু চেয়ে চেয়ে বল জালে জড়ানোটা দেখেছেন।
ম্যাচে এমবাপ্পের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে গোল না পেলেও ফাইনাল থার্ডে ৯টি পাস দিয়ে আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েকে প্রথম ম্যাচে প্রায় একাই টেনেছেন হলান্ড।
ইরাকের বিপক্ষে ৪–১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি তারকা করেছেন জোড়া গোল। তাঁর নেওয়া ৪টি শটের ২টিই ছিল অন-টার্গেট।
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনও শুরুটা করেছেন জোড়া গোলে। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কেইনকে শুধু গোল দিয়ে বিচার করলে কমই হবে।
পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় আক্রমণভাগে ৭টি শটের পাশাপাশি রক্ষণভাগে ট্যাকল, ব্লক, ক্লিয়ারেন্স এবং রিকভারিতেও (একবার করে) অবদান রেখেছেন। যদিও মূল দায়িত্বটা তাঁর গোলস্কোরারের। ২১টি পাসের ১৪টিতে সফলও ছিলেন।
এদিকে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করলেও সমর্থকদের সান্ত্বনার উৎস ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনির গোলেই সমতায় ফেরে সেলেসাওরা।
আক্রমণভাগে ৫৩ বার বল স্পর্শ করা ভিনি ৪টি নিখুঁত লং বল এবং মরক্কোর বক্সে ৫ বার বল টাচ করে প্রতিপক্ষকে তটস্থও রাখেন। জয় না পেলেও ব্রাজিলের একমাত্র প্রাপ্তি তাই ভিনির এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্স।
তবে শুরুটা যার যেমনই হোক, এখন সময় বিশ্বকাপের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরার।