আর্জেন্টিনা আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনা দল এবং লিওনেল মেসি কী কী রেকর্ড গড়েছেন।
ইউরো ও কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের (স্পেন–আর্জেন্টিনা) মধ্যে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা–স্পেন ম্যাচ খেলেছে ১৪টি। দুই দলই জিতেছে ৬টি করে। বাকি দুটি ড্র।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করে একাধিক ম্যাচ জেতা একমাত্র দল এখন আর্জেন্টিনা।
ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর ইতিহাসের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ এখন আর্জেন্টিনার।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ছিল ১ নম্বরে আর স্পেন ২ নম্বরে। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শীর্ষ দুটি দল মুখোমুখি হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল সপ্তমবারের মতো। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তারা টানা দুবার ফাইনালে উঠল। সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলেছে জার্মানি, ৮ বার। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সাতবার করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
আর্জেন্টিনা টানা ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত ২টি বা তার বেশি গোল করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উরুগুয়ে, তারা ১১ ম্যাচে টানা দুটি বা এর চেয়ে বেশি গোল করেছিল।
মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বার বল দখলের লড়াই জিতেছেন। ২০১৪ সালের পর এটিই তাঁর যেকোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি ২০১০ সালের পর অতিরিক্ত সময় ছাড়া যেকোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি তাঁর সর্বোচ্চ বল দখলে জয়ের রেকর্ড।
২০২২ সাল থেকে শুরু করে মেসি টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে এটিই সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির অ্যাসিস্ট এখন ১০টি, যা গত ৬০ বছরে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে ৬টি বেশি। ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন পেলে ও গ্রিজম্যান।
মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯টি সফল ড্রিবলিং করেছেন, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের যেকোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ।
মেসি ৮ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা। একই সঙ্গে ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে অ্যাসিস্টের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ১৩টি বড় টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা) মধ্যে ৮টিতেই ফাইনালে উঠলেন মেসি (৬১.৫%)।
গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একাধিক অ্যাসিস্ট করা চতুর্থ খেলোয়াড় হলেন মেসি।
বিশ্বকাপে নিজের ৩৩ ম্যাচে মেসি ৩৩টি গোলে অবদান রেখেছেন (২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। এটিই সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান কিলিয়ান এমবাপ্পের (২৫টি)।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরির রেকর্ড লিওনেল মেসির—৯৯টি। এই তালিকায় ৭১টি সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
এই বিশ্বকাপে মেসি এখন পর্যন্ত ২৫টি সুযোগ তৈরি করেছেন। গত ৬০ বছরে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩১টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড ইয়োহান ক্রুইফ (১৯৭৪) ও আন্তোনিও সিমোয়েসের (১৯৬৬)। আর্জেন্টাইনদের মধ্যে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ড ডিয়েগো ম্যারাডোনার (১৯৮৬ সালে ৩০টি)।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি ৫.২ মাইল পথ দৌড়েছেন। এই বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে না যাওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ।
মেসি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় (গোলকিপার বাদে) হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়লেন (৩৯ বছর ২১ দিন)।
মেসি যদি রোববারের ফাইনালে খেলেন, তবে কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন।
এনজো ফার্নান্দেজ হলেন আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড়, যাঁকে মেসি বিশ্বকাপে দুবার গোলে অ্যাসিস্ট করলেন। এর আগে মেসির ১০টি অ্যাসিস্ট ছিল ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়কে।
বিশ্বকাপে লাওতারো মার্তিনেজকে মেসি এবারই প্রথম অ্যাসিস্ট করলেন। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লাওতারোকে দেওয়া এটি মেসির ১০ম অ্যাসিস্ট—যা আর্জেন্টিনার অন্য যেকোনো সতীর্থের চেয়ে বেশি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার খরা কাটাল আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটিই তাদের প্রথম জয় (টাইব্রেকার ছাড়া)।
৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর থেকে ৯২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের গোল হওয়া পর্যন্ত, ইংল্যান্ডের দখলে বল ছিল মাত্র ১২%, আর্জেন্টিনার ছিল ৮৮%। ২০২৬ বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম বল দখলে রেখেছিল শুধু কাতার (১১%), যখন তারা ৯ জনের দল নিয়ে কানাডার কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরেছিল।