ফেরান তোরেস
ফেরান তোরেস

তিনজন কথা রাখলেও কেন ফাঁকি দিলেন তোরেস

ক্যামেরার সামনে কথা দিয়েছিলেন নিজেই—স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে ফেরান তোরেসের মাথায় থাকবে না একগাছি চুলও। স্পেন বিশ্বকাপও জিতল, কিন্তু পরদিন সাফোয়েলা প্রাসাদে রাজপরিবারের সংবর্ধনায় তোরেস হাজির হলেন সেই পুরোনো চুল নিয়েই—যেন কিছুই হয়নি।

প্রিন্সেস লেওনর ভোলেননি। পুরো রাজপরিবারের সামনে প্রিন্সেসের সরাসরি প্রশ্ন, ‘তুমি না মাথা কামাবে বলেছিলে?’ তোরেস একটু অপ্রস্তুত হয়েই বললেন ‘না, না।’
ভিডিওটা ভাইরাল হতে সময় লাগেনি এক ঘণ্টাও।

সপ্তাহ কয়েক পর নিজের শহর ফইওসে ফিরে তোরেসের আর পালানোর জায়গা রইল না। সেখানে সংবর্ধনায় উপস্থাপক মানোলো মাস সরাসরি তুললেন প্রসঙ্গটা, ‘শুনলাম প্রিন্সেস লেওনর নাকি কিছু একটা বলেছিলেন তোমাকে।’

স্পেনের ফেরান তোরেস

জনতা হর্ষধ্বনি দিল। তোরেস চেষ্টা করলেন বল ঠেলে দিতে দর্শকদের কোর্টে—‘এই প্রশ্নের জবাব আমার দেওয়া ঠিক না। জনতাকেই জিজ্ঞেস করুন, ওরা চায় কি না আমি চুল কামাই।’

ফইওসের জনতা সমস্বরে বলল, ‘হ্যাঁ।’ কিন্তু এরপর তোরেস জনতার উৎসাহে জল ঢেকে বললেন, ‘চুল কাটা যাবে না, দাদি না বলেছেন।’ এক বাক্যেই যেন পুরো তর্কের সমাপ্তি!

মজার ব্যাপার হলো, তোরেস একা নন, যিনি বিশ্বকাপ জেতার শর্তে অদ্ভুত এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—তবে তালিকায় তিনিই একমাত্র যিনি এখনো কথা রাখেননি। মার্ক কুকুরেয়া কথা দিয়েছিলেন, স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখ খোদাই করবেন নিজের হাতে।

ট্রফি জেতার কয়েক দিনের মধ্যেই বাহুতে সেই ট্যাটু করলেন। গাভি চুলটা রাঙালেন গোলাপি রঙে, পেদ্রিও চুল করলেন সোনালি।
তিনজনই কথা রাখলেন। শুধু তোরেসই দিলেন ফাঁকি!