এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পক্ষে নয়
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পক্ষে নয়

ইউরোপের পর এবার ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান এএফসিরও

বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে এর মধ্যেই ফিফার ‘বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির’ উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে উয়েফা। এবার আরেকটি ধাক্কা খেল ফিফা। এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিল, উয়েফা ও কনকাক্যাফের পাশে আছে তারা।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই নিয়ে এশিয়ার ফুটবল সংস্থাটি নিজেদের গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

তবে ইউরোপের মতো সরাসরি বয়কটের হুমকি দেয়নি এশিয়া। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে ফিফার সব আয়োজন বয়কট করবে তারা। উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা কনকাক্যাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এএফসি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ বর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা যে জনসমক্ষে আলোচিত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা প্রত্যেকের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।’ ‘ফুটবলের কখনোই এমন অবস্থানে পৌঁছানো উচিত ছিল না’ বলে উল্লেখ করেছে এএফসি।

বৃহস্পতিবারই এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছিলেন, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। শুক্রবারের বিবৃতিতেও একই সুর—প্রস্তাবিত এফএফই এমন এক কাঠামো, যা ‘বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাপক ঐকমত্য অর্জন করতে পারবে না’।

সংস্থাটি সরাসরি কারও নাম না বললেও ইঙ্গিতে আঙুল তুলেছে ইনফান্তিনোর দিকেই—এই বিতর্ক ফিফার ‘পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মৌলিক দুর্বলতা’ উন্মোচন করেছে, যা এখনই সমাধান করা প্রয়োজন।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এল আরেকটি ধাক্কা। ফিফা প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো শুক্রবার এই বিক্রয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে  প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। সাবেক ব্যাংকার ও যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের সাবেক সহসভাপতি কর্দেইরোকে একসময় ইনফান্তিনো নিজে বেছে নিয়েছিলেন বিশ্ব ফুটবলের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য। সেই মানুষটিই এখন বলছেন, তিনি ‘চুপ করে বসে থাকতে পারেন না, যখন ফিফা বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির কথা ভাবছে।’

‘এই প্রস্তাবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি’, কর্দেইরো বলেছেন তাঁর বিবৃতিতে। তাঁর প্রশ্ন সোজাসাপটা—ফিফা যেখানে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে বসে আছে, কোনো ঋণ নেই, সেখানে সংস্থাটির ‘সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের’ অংশ বিক্রি করে মাত্র ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার তোলার যুক্তি কোথায়?

উয়েফার বয়কটের হুমকি, কনকাক্যাফের প্রত্যাখ্যান, এএফসির ‘গভীর উদ্বেগ’, আর এখন ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টার পদত্যাগ—সব মিলিয়ে ফিফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামনে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন।