দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে পরাশক্তি ভারত। আর সেই ভারতকে বাদ দিয়ে সাফের কোনো টুর্নামেন্ট হবে? ফিফার দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবে না ভারত। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার উপায় রইল না ভারতের। অথচ নেপালে আগামী ৬-১৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। একই সময়ে শ্রীলঙ্কায় ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ হবে ৫-১৫ সেপ্টেম্বর।
তবে বড় প্রশ্ন এখন টুর্নামেন্টগুলো ভারতকে বাদ দিয়ে হবে, নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হবে? আগামীকাল হয়তো এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে তেমনটাই জানালেন, ‘আগামীকাল সাফের ভার্চ্যুয়াল সভা আছে। সেখানে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এরপর ফিফা-এএফসির পরামর্শ নেব। তারা কী বলে, সেটা জেনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ভারত ছাড়া কোনো টুর্নামেন্ট হোক, সেটা তিনিও চান না, ‘ভারত এ অঞ্চলের ফুটবলে পরাশক্তি। তারা না থাকলে অন্যদের জন্য বড় সুযোগ সেটা বলাই যায়। তবে আমরা এখনই এত দূর ভাবতে চাই না। আশা করি, দ্রুত ভারতের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারা খেলতে পারবে।’
অতীতে বাংলাদেশকে একবার ফিফা নিষিদ্ধ করেছিল। পাকিস্তানও নিষিদ্ধ হয়েছে। এবার নিষিদ্ধ হলো ভারত। বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘ফেডারেশনের কাজে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ফিফা বরদাশত করে না। সেটারই প্রতিফলন দেখলাম আমরা। যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছিল এমন কিছু হবে। ফলে ভারতকে ফিফা নিষিদ্ধ করায় অবাক হইনি। তবে এমন কিছু হওয়া উচিত নয়।’
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ভারত না খেলা মানেই বাংলাদেশের সুযোগ বেড়ে যাওয়া। সেটা যেকোনো স্তরেই হোক না কেন। নারী ফুটবল, ছেলেদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে এই সম্ভাবনা বেশি। ভারতকে আজ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
মেয়েদের সাফে কখনোই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ২০১৬ সালে শিলিগুড়িতে একবার রানার্সআপ হয়েছে, সেটি ছিল মেয়েদের চতুর্থ সাফ। মেয়েদের এ পর্যন্ত হওয়া পাঁচটি সাফের শিরোপাই গেছে ভারতের ঘরে।
ভারত না থাকলে মেয়েদের সাফে কি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, সাফে মেয়েদের সিনিয়র বিভাগে সব দেশই ভালো। কাজেই এটা বলা যাবে না ভারত না থাকায় আমরা বিরাট সুবিধা পাব। তবে ভারত না থাকলে সুযোগ অবশ্যই বাড়বে। ওরা না থাকা মানে মানসিক বাধাও দূর। ভারত শেষ পর্যন্ত না থাকলে আমরা চেষ্টা করব ভালো করতে। তবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব, এমনটা বলা যাবে না।’
ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব–১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে বরং সুযোগটা বেশি। এর আগে ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব–১৫, ১৬ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অনূর্ধ্ব–১৭ বিভাগ এই প্রথম টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এই বিভাগে তুলনামূলক বেশি ভালো করা সম্ভব মনে করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ দলের কোচ পল স্মলি অনূর্ধ্ব–১৭ দলেরও কোচ। তিনিও মনে করেন, ভারত শেষ পর্যন্ত না খেললে বাংলাদেশের সুযোগ বাড়বে।
এ বছরের নভেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল। বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে এমনিতেই বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী। বিভিন্ন বিভাগে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। ফলে ভারত না থাকা মানে বয়সভিত্তিক নারী বিভাগে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ আগের চেয়েও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।