১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল
১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল

‘আমাদের যেসব আর্জেন্টাইন ভাই মারা গেছেন, ইংল্যান্ড ম্যাচ তাদের কথা মনে করিয়ে দেয়’

ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের এক চিরন্তন রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ। কেন, সেই কথা নতুন করে না বললেও চলছে। এরপরও কৌতূহল থাকলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের হাইলাইটস দেখে ফেলুন।

আগামীকাল আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। এবার সেমিফাইনালে। আটলান্টার এই মহারণকে বিশেষ এক ম্যাচ বলে মনে করছেন ম্যারাডোনার ছেলে ডিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র। এটাকে তিনি দেখছেন বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেছেন, ‘আমার বাবা এটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। আমরা অনেক কিছুই বলতে পারি, তবে এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ হবে না।’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের উত্তাপ শুধু খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নয়, খেলার বাইরেও ছড়িয়ে আছে। স্মৃতি রোমন্থন করে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেছেন, ‘সব আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা–ভক্তদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই ম্যাচ ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং সেখানে আমাদের যেসব ভাই মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি ১৯৮৬ সালে আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা–ও মনে করায়। আমার বাবা সেবার একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন। এর পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই আর স্বাভাবিক থাকেনি।’

১৯৮৬ সালে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি হাতে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ম্যারাডোনা

১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ৭৪ দিনের একটি যুদ্ধে জড়িয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৯০৭ জন মানুষ নিহত হন। এর ঠিক চার বছর পর ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দেশ।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। প্রথমটি হাত দিয়ে, যা পরবর্তী সময়ে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়। কিছুক্ষণ পর অসাধারণ একক নৈপুণ্যে দ্বিতীয় গোলটি করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যারাডোনা। এই গোলের পর ফিফার জরিপে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জেতে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালে নভেম্বরে। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ৩৯ বছর বয়সী ম্যারাডোনা জুনিয়র মনে করছেন, আগামীকালের ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, ‘এই ম্যাচ আমাদের দলের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে ইংল্যান্ড ভালো খেলছে। তবে সাবধান—তাদের কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে হবে। এটি বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে...দুই দলের জন্যই।’