দুই সাবেক ফুটবলার আলফাজ আহমেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব
দুই সাবেক ফুটবলার আলফাজ আহমেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব

হ্যান্ডবল ফেডারেশনে কেন আলফাজ, টেনিসে কেন নকীব

অন্য খেলার উন্নয়নে এখন মাঠে আলফাজ আহমেদসহ একঝাঁক ফুটবলার! জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ফুটবলে অন্যতম সেরা গোলকিপার আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর একসময়ের সতীর্থ বা অন্যদের বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটিতে দিচ্ছেন।

গত ১৮ জুলাই সরকার গঠিত ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিতে সাবেক ফুটবলারদের হকি, হ্যান্ডবল, টিটি, কুস্তি বা দাবা ফেডারেশনের মতো বিভিন্ন খেলায় যুক্ত করা হয়েছে। অতীতে দু–একজন সাবেক ফুটবলারকে বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটিতে দেখা গেলেও এবার ফুটবলারদের অন্য খেলায় অন্তর্ভুক্তির মাত্রা অনেক বেশি। সংখ্যাটা ২১।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদকে যেমন হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ছয়জন সহসভাপতির একজন করা হয়েছে। এই ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার এনামুল হককে। সদস্য হিসেবে আছেন আরেক ফুটবলার মুরাদ আহমেদ মিলন।

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবকে করা হয়েছে টেনিস ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক। কুস্তির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে হাসানুজ্জামান খান বাবলুকে আর জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার মিজানুর রহমান ডন হয়েছেন হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ।

ফেন্সিংয়ের সহসভাপতি করা হয়েছে মাসুদ রানাকে, আরমান আজিজকে যুগ্ম সম্পাদক। বক্সিং ফেডারেশনের সদস্য করা হয়েছে জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, জামাল হোসেন ও মোস্তাকিমকে। মোহাম্মদ সুজনকে ভারোত্তোলনের সদস্য করা হয়েছে, জুমরাতুল মিঠুকে দাবা ফেডারেশনের, শাহাজ উদ্দিন টিপুকে সাইক্লিং ফেডারেশনের। ক্যারম ফেডারেশনের সদস্য হয়েছেন আরাফাত রনি ও আওলাদ হোসেন; জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের বোরহান উদ্দিন ও খালেদ বাবু। জুডো ফেডারেশনের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে নাজিম উদ্দিন নাজু, মাকসুদুল আলম বুলবুল ও বাবু জামানকে।

আলফাজ আহমেদ

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) চাইলে যে কাউকে যেকোনো ফেডারেশনে দিতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাইক্লিং ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলেন সাবেক ফুটবলার আবদুল গাফফার, টেনিস খেলার সুবাদে শেখ মোহাম্মদ আসলাম ছিলেন টেনিস ফেডারেশনে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে খেলার সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না, হঠাৎ সেই খেলার ফেডারেশনের কমিটিতে সহসভাপতি কতটা কী করতে পারবেন? হ্যান্ডবলের সহসভাপতি আলফাজ বললেন, ‘আমাকে হ্যান্ডবলের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তো হয়ে যাইনি। আমিনুল আমাকে বলেছেন, হ্যান্ডবল ফেডারেশনে যান, এখানকার কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করেন। ঠিকভাবে কাজ হয় কি না দেখেন। তাই আসা।’

ঢাকায় আসন্ন আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের আঞ্চলিক নারী টুর্নামেন্টে ভেন্যু কনভেনর করা হয়েছে আলফাজকে। তবে অ্যাডহক কমিটির অধীনে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নেই তাঁর, ‘নির্বাচন করার আগ্রহ নেই আমার। তবে আলোচনা করব হ্যান্ডবলে আমার ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে কি না।’

পেশাদার ফুটবল–যুগে স্থানীয়দের মধ্যে একবারই বাংলাদেশ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এনামুল হক এখন নওগাঁ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব। হ্যান্ডবলের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের পারচেজ কমিটির কনভেনর তিনি। এনামুল বলেন, ‘বাফুফে আমাদের কাজ করার সুযোগ না দিলে অন্য খেলায় যেতেই হবে। তবে নওগাঁর বেশ কিছু মেয়ে হ্যান্ডবলে আছে। ফলে আমার কাজ করার সুযোগ আছে হ্যান্ডবলে।’

কুস্তির সিনিয়র সহসভাপতি হাসানুজ্জামান খান বাবলু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তায়কোয়ান্দোর সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছিলেন। এবার এলেন কুস্তিতে। তবে কুস্তি খেলাটার সঙ্গে তাঁর কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না। প্রায় চার দশক আগে খেলা ছাড়া বাবলু বলেন, ‘দেখি, কুস্তিতে কাজ করার সুযোগ কতটা কী আছে। সুযোগ থাকলে স্বচ্ছতার সাথেই আমি তা করব।’

ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব

সাবেক স্ট্রাইকার মিজানুর রহমান ডন ফুটবলেই থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাফুফে সুযোগ দেয়নি বলে অনুযোগ তাঁর। মিজানুরের দেওয়া তথ্য, সব ফেডারেশন মিলিয়ে বিভিন্ন খেলার অন্তত ১২০ জন সাবেক খেলোয়াড়কে নানা ফেডারেশনের কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর নিজের হকিতে আসার কারণটাও বললেন, ‘ফুটবল আর হকি কাছাকাছি খেলা হওয়ায় হকিতে এসেছি। মোহামেডানে একসঙ্গে হকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্যাম্প করেছি। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে হকির অনেকের সঙ্গে। খেলাটিতে বড় ইনভেস্টমেন্ট আসছে। সৎভাবে কাজ করতে চাইব।’

তবে টেনিস ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী নন স্ট্রাইকার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। তিনি বিষয়টি নিয়ে একেবারেই নির্বিকার, ‘শুনেছি, এমন একটা পদে আমাকে রাখা হয়েছে। তবে আমি কোনো সভায় যাইনি। এসবে আমার আগ্রহও নেই। এটা আমার কাজও নয়। এই ফেডারেশনের অফিস কোথায়, সেটাও আমি জানি না।’

ফুটবলারদের বিভিন্ন ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘যেসব সাবেক ফুটবলার দেওয়া হয়েছে কমিটিতে, তাঁরা নামকরা খেলোয়াড়। খেলোয়াড় তৈরিতে কেমন ভূমিকা রাখা প্রয়োজন, সেটা তাঁরা জানেন। তাঁদের সংগঠকে পরিণত করতে এসব জায়গায় দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’