যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভালভের্দের গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ
যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভালভের্দের গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ

চ্যাম্পিয়নস লিগ

এথেন্স স্তব্ধ করে রিয়ালকে জেতালেন ভালভের্দে

এইকে এথেন্স ২ : ৩ রিয়াল মাদ্রিদ

একবার নয়, ম্যাচে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল এইকে এথেন্স। রিয়ালের হয়ে একবার জুড বেলিংহাম, আরেকবার কিলিয়ান এমবাপ্পে ফেরান সমতা।

সাত মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরা গ্রিক ক্লাবটির জন্য সমতার সমাপ্তিও হতে পারত সান্ত্বনা পাওয়ার মতো অর্জন। কিন্তু আচমকাই এক বুলেট গতির শট কেড়ে নিল সেই অর্জনের সম্ভাবনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক গোল করলেন ফেদে ভালভের্দে। আর এই গোলেই আরও একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে লিগ পর্বের ম্যাচটিতে রিয়াল মাদ্রিদ জিতল ৩-২ গোলে।

অথচ ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খেলেছে এইকে। ৫ মিনিটেই মিজাত গাচিনোভিচের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। সাত মিনিট পর অবশ্য আর রক্ষা হয়নি। লুকা ইয়োভিচের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে এইকেকে এগিয়ে দেন আবুবাকারি কোইতা। রিয়ালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মার্ক কুকুরেয়াকে কাটিয়ে নেওয়া তাঁর শট ঠেকানোর সুযোগই দেননি কোর্তোয়াকে।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার রিয়ালকে বিপদে ফেলেছে স্বাগতিকেরা। ইয়োভিচের একটি শটও ঠেকাতে হয়েছে কোর্তোয়াকে। তবে ৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। বাঁ দিক থেকে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে দারুণ এক ফ্লিকে জালে পাঠান জুড বেলিংহাম। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে এটি ইংলিশ মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। বিরতির আগে আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিল রিয়াল, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয় বেলিংহামের গোলটি।

রিয়ালকে প্রথমবার সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম, এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে

দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল। কিন্তু গোলের দেখা প্রথমে পায় এইকে। ৭৫ মিনিটে কোইতার পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন স্টাভরোস পিলিওস। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি স্বাগতিকদের। তিন মিনিট পরই সমতা ফেরান এমবাপ্পে। জুড বেলিংহামের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন ডেনজেল ডামফ্রিস। তাঁর বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে ঠেলে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন এমবাপ্পে। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ টানা গোলের রেকর্ডও এটি। শুধু তা-ই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোলে অবদান রাখতে এমবাপ্পের লেগেছে মাত্র ১০২ ম্যাচ। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন শুধু লিওনেল মেসি (১০১)। ১০২ ম্যাচে ৭৪ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট নিয়ে এমবাপ্পের সঙ্গে একই অবস্থানে আছেন রবার্ট লেভানডফস্কিও।

শেষ দিকে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। ৮৬ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আর রিয়ালকে আটকে রাখা যায়নি। বদলি হিসেবে নামা ভালভের্দে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান জালে। তাঁর এই গোলেই নিশ্চিত হয় রিয়ালের নাটকীয় জয়।

ভালভের্দেকে নিয়ে এমবাপ্পেদের উচ্ছ্বাস

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শতভাগ জয়ের ধারাও ধরে রাখল রিয়াল। চার ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে অবস্থান করছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতল জোসে মরিনিওর দল।