পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস
পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস

রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নে জেসুস আবার বললেন, ‘নিয়ম সবার জন্য সমান’

ডেনমার্কের বিপক্ষে গতকাল রাতে জয়ের পর পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুসের সংবাদ সম্মেলনে প্রথম দুটি প্রশ্ন ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। জেসুস এর উত্তরে সচেতনভাবেই রোনালদোর বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশনস লিগের এ ম্যাচ ৪-২ গোলে জেতে পর্তুগাল। জেসুসের অধীন এটি টানা তৃতীয় জয় পর্তুগালের। মাঠের বাইরে রোনালদোকে ঘিরে যতই ঝড় উঠুক, মাঠের খেলায় জেসুসের দল কিন্তু ভালোই করছে।

কিন্তু ডেনমার্ক ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্ন অবধারিতই ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামাননি জেসুস। সেদিন সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদ্‌যাপন না করে বেঞ্চ থেকে রোনালদো সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। তখনই বোঝা গিয়েছিল, বেঞ্চে বসে থাকাটা ভালোভাবে নেননি রোনালদো। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

পুরো দেশ আমার সঙ্গে আছে কি না, আমি জানি না...জানি না, তবে আমি সেটাই চাই।
ডেনমার্কের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস

সেই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কিছু কড়া কথা বলেন জেসুস, ‘নিয়ম সবার জন্যই একই। কোচ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অতীত বিবেচনায় নেন। ম্যাচের সময় সবাইকে একইভাবে দেখা হয়...কোনো খেলোয়াড় কখনোই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না।’

এ কথার পর ডেনমার্ক ম্যাচের আগে রোনালদো পর্তুগালের অনুশীলন ছেড়ে চলে যান। মাঝে গত মঙ্গলবার দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেননি। কোপেনহেগেনে ম্যাচের পর রোনালদোকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন আসাটা তাই পর্তুগাল কোচ জেসুসের জন্য অবধারিতই ছিল। সাংবাদিকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার আগে রোনালদো তাঁকে কী বলেছেন?

জেসুস উত্তরে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘দারুণ এক জয়। চার গোল করেছি। উঁচুমানের পারফরম্যান্স। এটা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। অন্য যা কিছু ঘটেছে, তার চেয়ে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ এবং দ্রাগাও স্টেডিয়ামে পরের ম্যাচে আমি মনোযোগ দিতে চাই, যেখানে আমি (পর্তুগালে) ফিরব সমর্থকদের নিয়ে। তাঁরা কানায় কানায় গ্যালারি পূর্ণ করবেন। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

ডেনমার্কের বিপক্ষে ভালো খেলে জিতেছে পর্তুগাল

পরের প্রশ্নে সরাসরি রোনালদোর নাম উচ্চারণ করা হয়নি। একটু ঘুরিয়ে জেসুসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের মর্যাদা বা ‘স্ট্যাটাস’ নিয়ে কথা বলায় তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা আছে কি না? জেসুসের উত্তর, ‘একদমই নেই। কোনো অনুশোচনা নেই এবং আমি আগের মতো একই কথাই ভাবছি। কিছু খেলোয়াড় মর্যাদাবান, এটা পরিষ্কার। তবে আমি আবার বলছি, নিয়ম সবার জন্য সমান। আমি সব সময় এভাবেই ভেবেছি এবং ভবিষ্যতেও এভাবেই ভাবব।’

রোনালদোকে নিয়ে পর্তুগাল এখন দ্বিখণ্ডিত। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশ মনে করে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো স্বার্থপরের মতো আচরণ করেছেন। তবে ভিন্নমতও আছে। বিশেষ করে যেসব সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে রোনালদোর শেয়ার বা মালিকানা রয়েছে, তারা জেসুসের সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, জেসুস কথা রাখেননি। নরওয়ে ম্যাচে রোনালদোকে নাকি বদলি হিসেবে ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর প্রতিশ্রুতি দেন জেসুস। কিন্তু পরে আর সে কথা রাখেননি। এ নিয়ে জেসুসের ব্যাখ্যা ছিল, ম্যাচে গতিবিধি বিবেচনায়, ‘তাঁকে নামানোর জন্য তখন সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি।’

রোনালদোকে নিয়ে বিতর্কে পড়েছেন জেসুস

নেশনস লিগে আগামী রোববার রাতে স্বাগতিক হয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। দ্রাগাও স্টেডিয়ামে এ ম্যাচে পর্তুগিজ সমর্থকদের কাছ থেকে জেসুস কেমন অভ্যর্থনা পাবেন কে জানে! ডেনমার্ক ম্যাচের পর জেসুসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পুরো দেশ (পর্তুগাল) তাঁর পক্ষে আছে কি না, এ বিষয়ে তিনি কী মনে করেন?

জেসুসের উত্তর, ‘পুরো দেশ আমার সঙ্গে আছে কি না, আমি জানি না...জানি না, তবে আমি সেটাই চাই।’