মামুনুল ইসলাম
মামুনুল ইসলাম

শুরুটা দেখেই চেনা যাবে আর্জেন্টিনাকে

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার চাপটাই আলাদা, যেখানে প্রত্যাশার পারদ থাকে আকাশছোঁয়া। আর্জেন্টিনা এবার সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই যাত্রা শুরু করছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, এই দলের মুকুট ধরে রাখার মতো সামর্থ্য আছে।

তবে পুরো টুর্নামেন্টের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে তাদের শুরুর ওপর। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং হবে। এই ম্যাচ দেখার পরই মূলত বোঝা যাবে, চ্যাম্পিয়নরা কত দূর যেতে পারবে।

আশা করি, আলজেরিয়াকে হারিয়েই আর্জেন্টিনা শুরু করবে। আর শুরুটা যদি মনের মতো হয়, তাহলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব জয় করা আর্জেন্টিনার জন্য অসম্ভব কিছু নয়।
আর্জেন্টিনার আগেই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ফ্রান্স।

ফরাসিরা এবার বিশ্বমঞ্চে নামছে হারানো মুকুট ফিরে পাওয়ার তীব্র ক্ষুধা নিয়ে, আর তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ সেনেগাল। আফ্রিকান দেশটি হয়তো নিজেদের চেনা শারীরিক শক্তির ফুটবল দিয়ে ফরাসিদের আটকাতে চাইবে, তবে ফ্রান্সের মতো বিশ্বমানের দলের সামনে তা খুব একটা বড় বাধা হওয়ার কথা নয়।

অনুশীলনে হাসিখুশি মেসি

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সকেই সবচেয়ে বড় ফেবারিট মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ওদের আক্রমণভাগ অন্যদের চেয়ে বেশি ক্ষুরধার। আর কিলিয়ান এমবাপ্পে এই বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিততে পারে, সঙ্গে গোল্ডেন বলও।

লিওনেল মেসিও তা-ই। বয়সের কারণে প্রতি ম্যাচে নিজের শতভাগ উজাড় করে দেওয়াটা হয়তো কঠিন হবে তাঁর জন্য। তারপরও মেসি এখনো বিশ্বের সেরা। চার বছর ধরে সে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করে যাচ্ছে এবং দলের প্রয়োজনে এখনো সেরা ফুটবলটাই খেলছে।

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের শক্তি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টাররা ক্লাব ফুটবলে দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে।

অন্যদিকে দি মারিয়ার মতো একজন ‘উইনিং খেলোয়াড়ের’ বিদায়ে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হলেও হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজের মতো অভিজ্ঞরা সেই জায়গাটি পূরণ করার মতো সামর্থ্য রাখে।

আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক বছরের সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আমি তাঁকে একজন ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলব। গত বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি তিনি কীভাবে প্রতিপক্ষ অনুযায়ী ফর্মেশন এবং খেলোয়াড় বদলে সফল হয়েছেন।

আধুনিক ফুটবলে শুধু গোল করলেই হয় না, গোল খাওয়াও ঠেকাতে হয়। স্কালোনি আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে যে দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছেন, সেটাই আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের পথ দেখাচ্ছে।

আমার বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ১৯৮৬ সালে জন্মেছি, তাই শৈশবে শুধুই ডিয়েগো ম্যারাডোনার নাম শুনতাম। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আমার বয়স ছিল ৮ বছর।

সেই বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ম্যারাডোনার দুটি ম্যাচ খেলেন। ম্যাচ দুটির কথা হালকা মনে আছে। সেই ম্যারাডোনার নাম শুনেই আসলে আর্জেন্টিনার ভক্ত হওয়া।

আগের আর্জেন্টিনা যেখানে মূলত একজন ফুটবলারের ওপর নির্ভর করে খেলত, এখনকার আর্জেন্টিনা খানিক আলাদা। বর্তমান দলে মেসির বিরাট প্রভাব থাকলেও তাদের বড় বা শক্তি ‘টিম গেম’ বা দলগত সংহতি।

মামুনুল ইসলাম: জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক