এক বছর আগের কথা। উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে অভিষেকেই এক গোল আর দুটি দর্শনীয় অ্যাসিস্ট। ম্যাচসেরার ট্রফি হাতে ডাচ মিডফিল্ডার তিয়ানি রেইন্ডার্স যখন মাঠে দাঁড়িয়ে হাসছিলেন, মনে হয়েছিল, ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠের নতুন ‘ট্রোজান হর্স’ বুঝি পেয়েই গেছেন পেপ গার্দিওলা।
কিন্তু ফুটবলের দৃশ্যপট বদলে যায় অলক্ষ্যে, সময়ের বুননে। ঋতুবদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাদের নীল আলোয় ফিকে হয়ে আসতে থাকে রেইন্ডার্সের উপস্থিতি। শুরুর সেই চোখধাঁধানো উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় ট্যাকটিক্যাল দাবা খেলার ছকে। বছর ঘুরতেই ডাচ তারকার ঠিকানা বদল হলো। ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে তিনি পাড়ি জমালেন সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল কাদসিয়াহতে।
তবে এটা শুধু একজন ফুটবলারের দলবদলের খবর নয়; আসল গল্প লুকিয়ে আছে এই দলবদলের পেছনের অর্থনৈতিক সমীকরণে।
চলতি দশকের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্য যখন আর্থিক শক্তির পেশি প্রদর্শন শুরু করল, অনেকেই ভেবেছিলেন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো হয়তো প্রতিভার সংকটে পড়বে। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির বোর্ডের কাছে এই অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ রূপ নিয়েছে ভিন্ন এক সমীকরণে। খেলোয়াড় কেনার বাজারে তারা যেমন সিদ্ধহস্ত, বেচার বাজারেও সমান চতুর। সৌদি প্রো লিগে এ নিয়ে চারজন খেলোয়াড় বিক্রি করেছে সিটি।
রেইনডার্সের আগে তারা রিয়াদ মাহরেজকে বিক্রি করেছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে, আইমেরিক লাপোর্তকে ২ কোটি ৮০ লাখ আর জোয়াও কানসেলোকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে। সব হিসাব একসঙ্গে মেলালে দেখা যাচ্ছে, সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় এখন সিটির।
তালিকায় দ্বিতীয় অ্যাস্টন ভিলা। জন দুরানকে ৭ কোটি ৭৭ লাখ আর মুসা দিয়াবিকে ৬ কোটি ইউরোতে বিক্রি করে সৌদি থেকে ভিলা মোট আয় করেছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।
তালিকার তৃতীয় লিভারপুল সৌদিতে তিন খেলোয়াড় বিক্রি করে পকেটে পুরেছে ১১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। চতুর্থ পোর্তো চার চুক্তিতে পেয়েছে ১১ কোটি ইউরো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো আয় করে পঞ্চম।
কেনাবেচার বাজারে সব সময় হইচই ফেলা চেলসি রয়েছে ছয় নম্বরে। চারজন ফুটবলার বেচে তাদের আয় ১০ কোটি ইউরো। ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়া ওয়েস্ট হাম ও উলভস আছে যথাক্রমে অষ্টম ও দশম স্থানে। ইতালির আতালান্তা সপ্তম আর শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে একমাত্র দল হিসেবে রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ রয়েছে নবম স্থানে।