
বিশ্বকাপ এখন শেষের দিকে। সামনে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল। এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত হিসাব করে দেখা গেছে, পেনাল্টি থেকে গোল হওয়ার হার অতীতের যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
নকআউট পর্বে টাইব্রেকারসহ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত মোট ৬০টি পেনাল্টির মধ্যে গোল হয়েছে মাত্র ৩৯টি। পেনাল্টি থেকে গোল করার হার মাত্র ৬৫ শতাংশ।
পেনাল্টির তথ্য সংরক্ষণের ইতিহাস ঘেঁটে ‘অপ্টা’ জানিয়েছে, ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে গোল করার এটিই সবচেয়ে বাজে পরিসংখ্যান।
২০১৪ বিশ্বকাপে মোট ৪৯টি পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গোল হয়েছিল ৩৮টি (৭৭.৬ শতাংশ)। সেই আসরের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই পেনাল্টি থেকে গোল করার হার এবং পেনাল্টি পাওয়ার সংখ্যা কমেছে।
২০১৮ বিশ্বকাপে মোট ৬৮টি পেনাল্টির মধ্যে গোল হয়েছিল ৭০.৬ শতাংশ। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মোট ৬৪টি পেনাল্টির মধ্যে গোল হওয়ার হার কমে দাঁড়ায় ৬৭.২ শতাংশে। ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১৩টি করে পেনাল্টি দেখা গেছে এবং সবগুলোতেই গোল হয়।
এবার বিশ্বকাপে মিস হওয়া ২১টি পেনাল্টির মধ্যে দুটি থেকে গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শটটি গোলপোস্টের বাইরে মারেন ও অন্যটি মিস করেন মিসরের বিপক্ষে। তাঁর শট রুখে দেন মিসরের গোলকিপার।
রাইস ইউনিভার্সিটির কাইনসিওলজি বিভাগের সহযোগী শিক্ষক এবং ক্রীড়া ও পারফরম্যান্স মনোবিজ্ঞানবিশেষজ্ঞ আমান্ডা পারকিন্স-বল বলেন, ‘একটিমাত্র শট নির্ধারণ করে দিতে পারে কোনো টুর্নামেন্টের ভাগ্য, একটি বিশ্বকাপ কিংবা সেটি হয়ে উঠতে পারে কোনো খেলোয়াড়ের আজীবনের কীর্তি।’
পেনাল্টি মিস নিয়ে আমান্ডা যোগ করেন, ‘পেনাল্টি মূলত দক্ষতা এবং চাপের মধ্যকার এক দারুণ ভারসাম্য। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রতিটি খেলোয়াড়ই বিশ্বমানের। গোল করার দক্ষতা তাঁদের আছে। আসল পার্থক্যটা গড়ে দেয় তীব্র মানসিক চাপের মুখে সঠিক সময়ে সঠিক মুভমেন্টটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা। দূর থেকে আমাদের কাছে এটি সহজ মনে হলেও আসলে মোটেও তা নয়।’
মেসির কথাই ধরুন। এবার বিশ্বকাপে তিনি অন্যতম সেরাদের একজন। বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টি শট নিয়ে মাত্র চারটি গোল পেয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সে তুলনায় বেশ ভালো। চারটি পেনাল্টির মধ্যে তিনটিতে গোল পেয়েছেন।
ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানবিশেষজ্ঞ রবার্ট বি অ্যান্ড্রুস হিউস্টনে ‘ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস পারফরম্যান্স’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। হিউস্টন ড্যাশ ও ডায়নামোর পেশাদার ফুটবলারদের পাশাপাশি জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস এবং সাঁতারু সিমোন ম্যানুয়েলসহ বেশ কয়েকজন অলিম্পিয়ানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
অ্যান্ড্রুস বলেন, ‘হকি বা ফুটবলে গোল লক্ষ্য করে নেওয়া এ ধরনের শট বিশেষ করে বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের মতো মঞ্চে সবচেয়ে চাপের মুহূর্তগুলোর একটি। কারণ, তখন পুরো পৃথিবী আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ আপনার ওপর লেজার রশ্মির মতো চোখ স্থির করে রাখে। আমার মনে হয়, এটি খেলোয়াড়ের ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।’