এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেন ওলিসে
এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেন ওলিসে

এমবাপ্পের সঙ্গে রাতটা দেশম আর ওলিসেরও

ফ্রান্স ৩ : ০ সুইডেন

এই ম্যাচটা নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পের।

এই ম্যাচটা দিদিয়ের দেশমেরও।

ম্যাচটা মাইকেল ওলিসেরও।

এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। যে দুই গোলে চড়ে তিনি এখন বিশ্বকাপ নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। দেশম ছিলেন ডাগআউটে। মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে যাওয়া কোচ এক ম্যাচ পর মাঠে ফিরলেন। আর ফেরার ম্যাচেই প্রতিটি গোলের পর শিষ্যদের দেখলেন তাঁর কাছে ছুটে যেতে, এরপর হয়ে উঠেছেন উৎসবের মধ্যমণি। আর ওলিসে?

নিউ জার্সির রাতটা এমবাপ্পে ও দেশমের করে তোলার আসল নায়ক ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। গোল করিয়েছেন দুটি। ভাগ্য সহায় থাকলে পেয়ে যেতে পারতেন এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে দর্শনীয় গোলটিও। তবে সেটা না হলেও তিন দশকের মধ্যে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন ওলিসে।

এমবাপ্পে, দেশম আর ওলিসের স্মরণীয় রাতে রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচে সুইডেনকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ফ্রান্স। গত দুই আসরের ফাইনালিস্টরা ৪ জুলাই রাতে শেষ ষোলোয় খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।

শুরুতে অবশ্য সুইডেনই চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চমক বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচে যত সময় গড়িয়েছে, ততই যেন নিজেদের ছন্দে ফিরেছে ফ্রান্স। বলের দখল, পাসের গতি আর আক্রমণের ধারে দাপট দেখাতে শুরু করে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই।

এমনকি ৩–০ ব্যবধানও ফ্রান্সের আধিপত্য পুরোপুরি বোঝাতে পারে না। পোস্টে লেগে ফিরেছে দুটি শট, অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে আরও কয়েকটি সুযোগ। এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছে, আর মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিক লেগেছে পোস্টে। সব মিলিয়ে ২৫টি শটের ১২টিই থেকেছে লক্ষ্যে।

এমবাপ্পে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন

প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করা এমবাপ্পে আজও স্কোরশিটে নাম তুলতে বেশি সময় নেননি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপে এ নিয়ে এমবাপ্পে–দেম্বেলে জুটির যৌথ অবদান দাঁড়াল ছয় গোলে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের যেকোনো জুটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পেছনে পড়ে গেল জার্মানির মাইকেল বালাক–মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং পোল্যান্ডের গ্রেগরজ লাতো–আন্দ্রেজ শারমাখ জুটির ৫ গোল।

গোলের পর পুরো ফ্রান্স দল ছুটে যায় সাইডলাইনের দিকে। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা কোচকে জড়িয়ে ধরে উদ্‌যাপন করেন এমবাপ্পেরা।

গোলের পর কোচ দিদিয়ের দেশমের কাছে ছুটে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে

বিরতির পরও দেখা গেছে একই চিত্র। এই অর্ধের দুটি গোলেই অবদান রাখেন ওলিসে। ৫৩ মিনিটে তাঁর নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আর ৭৪ মিনিটে ওলিসের বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।

দুই অ্যাসিস্ট করে ওলিসও গড়েছেন ইতিহাস। এবারের বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্টসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫–এ, যা ১৯৯৪ আসরের পর এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।

তবে শুধু পরিসংখ্যানই নয়, পুরো ম্যাচেই ফ্রান্সের আক্রমণের ছন্দটা যেন তিনিই ঠিক করে দিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে একের পর এক রক্ষণচেরা পাসে সুইডেনের রক্ষণকে তটস্থ রেখেছেন বায়ার্নে খেলা এই মিডফিল্ডার। ম্যাচে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ৬টি শট এবং সবচেয়ে বেশি ৯৪বার বলে স্পর্শও ওলিসেরই।

গোল না পেলেও দুটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মাইকেল ওলিসে

অন্যদিকে এমবাপ্পের জোড়া গোলও এনে দিয়েছে নতুন মাইলফলক। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৮। লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি কম। তবে একটা জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১০ গোলের রেকর্ড এখন এককভাবে তাঁর দখলে (পেছনে ফেলেছেন লিওনাদাইজ ও রোনালদো নাজারিওর ৮ গোল)। এবারের বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোলদাতার তালিকাতেও মেসির পাশে বসেছেন এমবাপ্পে।

শেষ বাঁশি বাজার অনেক আগেই ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ৮৫ মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে নেন দেশম। মাঠ ছাড়ার সময় ৮০ হাজার দর্শকের গ্যালারি থেকে ‘স্টান্ডিং ওভেশন’ পেয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে হাততালি পেয়েছেন দেশম আর ওলিসেরাও। যেন সবাই মিলেই জানান দিলেন, এই নিউ জার্সিতে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালেও খেলার বড় দাবিদার ফ্রান্স।