সাফ ফুটবলে পাঁচ ম্যাচেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আরও ছয়জন খেলেছেন বদলি হিসেবে। ছয়জন মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তারপরও সবাই এই বিজয়ের অংশীদার। সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের ২৩ খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লিখেছেন বদিউজ্জামান

ময়মনসিংহের কলসিন্দুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও ফুটবল কোচ মফিজ উদ্দিনের অন্যতম পছন্দের ফুটবলার শিউলি আজিম। রাইটব্যাকে খেলা শিউলি জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানীর পছন্দের তালিকায়ও থাকেন সবার আগে। নেপালে অনুষ্ঠিত মেয়েদের সাফে প্রতিটি ম্যাচেই একাদশে ছিলেন শিউলি। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে দিয়েছে ২৩ গোল। বিপরীতে বাংলাদেশের জালে জড়িয়েছে মাত্র ১টি গোল। বাংলাদেশের এমন জমাট রক্ষণের অন্যতম সৈনিক শিউলি।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রামের আর দশটা মেয়ের মতোই বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে সবার নজর কাড়েন শিউলি। মেয়ে ফুটবল খেলবে, এ নিয়ে মায়ের আপত্তি ছিল অনেক। আপত্তি ছিল প্রতিবেশীদেরও। কিন্তু বাবার উৎসাহে শেষ পর্যন্ত ফুটবলার হয়েছেন শিউলি। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকপড়ুয়া শিউলি ২০১৫ সালে নেপালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে প্রথমবার জাতীয় বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পান।
শিউলিদের বাড়ি কলসিন্দুর গ্রামের নেতাই নদের পাড়ে। যেকোনো মুহূর্তে তাঁদের বাড়িসহ অন্য অনেক বাড়ি নদের প্রবল স্রোতের তোড়ে ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যেসব প্রতিবেশী শুরুর দিনগুলোতে শিউলির ফুটবল খেলা নিয়ে আপত্তি করতেন, এখন তাঁরাই শিউলিকে মনে করেন দিনবদলের রূপকার। বাফুফের ক্যাম্প থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরলে শিউলির কাছে এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নানা রকম আবদার করেন। বিশেষ করে নদে বাঁধ দেওয়াসহ এলাকার উন্নতির জন্য যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিউলি অনুরোধ করেন, সেটাই তাঁকে জানান।