
জাপানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। প্রাথমিক ভাগে টোকিও, ওসাকার মতো কিছু শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল ১১ মে এ অবস্থা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় জরুরি অবস্থা শেষ হয়নি, উল্টো গত ৭ মে মাসের শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বাড়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, জরুরি অবস্থার অধীনে আইচি ও ফুকুওকাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত আবার বদলাতে হলো জাপান সরকারকে। নতুন করে আরও তিনটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মে মাসের শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থার আওতায় থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে নাম আছে উত্তর হোক্কাইডো অঞ্চল। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের ম্যারাথন পর্বটা এখানেই হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণের কারণেই রমনিতে অলিম্পিক এক বছর পিছিয়ে গেছে। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, ২৩ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিক এবারও হয়তো আলোর মুখ দেখবে না। এর মাঝেই অলিম্পিক গেমস বাতিল করার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহের এক পিটিশন শুরু করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, এরই মাঝে সাড়ে তিন লাখের বেশি সই জোগাড় করে ফেলেছে অলিম্পিক আয়োজনের বিরোধীপক্ষ।
এএফপির বরাতে জানানো হয়েছে তিনটি অঞ্চলের বিপুল জনসংখ্যাই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষকে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইওশিহিদে সুগা বলেছেন, ‘১৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত জরুরি অবস্থায় থাকা অঞ্চলের মধ্যে আমরা আজ থেকে হোক্কাইডো, ওকাইয়ামা ও হিরোশিমাকে যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অঞ্চল অনেক জনবহুল এবং প্রতিদিন নতুন করে সংক্রমণের হার বাড়ছে।’
একদিকে সামর্থ্যের সীমায় থাকা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ওদিকে আর ১০ সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব। কিন্তু অলিম্পিকের জন্য ১০ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও সংশ্লিষ্ট কোচ, কর্মকর্তা ও কর্মীদের দেখভালের জন্য জাপানের স্বাস্থ্য সেবায় যে চাপ পড়বে সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই। এ অবস্থায় অলিম্পিক আয়োজনের বিপক্ষের মত দিন দিন জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান, টোকিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান ও টোকিওর গভর্নর সম্মিলিতভাবে বারবার অলিম্পিক আয়োজনের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছেন।
আইনজীবী কেনজি উতসুনোমিয়াই অলিম্পিক বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আবেদনে ৩ লাখ ৫১ হাজার সই জোগাড় করে কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। টোকিও গভর্নর ইউরিকো কোইকেকে দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে উতসুনোমিয়ার দাবি, ‘আমার মতে, এখনই সময় আমরা জীবনকে গুরুত্ব দেব নাকি অলিম্পিক নামের একটি অনুষ্ঠানকে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।’ উতসুনোমিয়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির কাছেও তাঁর আবেদন পাঠিয়েছেন।
জাপান সরকার ও স্থানীয় আয়োজকদেরও অলিম্পিক আয়োজন বাতিল করার ব্যাপারে ভেবে দেখতে বলছেন উতসুনোমিয়া, ‘এ অবস্থায় অলিম্পিক আয়োজন করা মানে মহামূল্যবান চিকিৎসা উপকরণ গেমসের জন্য রেখে দেওয়া।’
গত বৃহস্পতিবার ডাক্তারদের একটি সংগঠন নিরাপদভাবে গেমস আয়োজন ‘অসম্ভব’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে টোকিও অলিম্পিকের প্রধান সেইকো হাসিমতো বলেছেন, ‘সবাইকে নিরাপদ রাখার জন্য কঠোর নিয়ম মানা হবে, আমরা ভাইরাস বিরোধী কঠোর ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছি। আমরা দৃঢ় বলয় সৃষ্টি করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব যেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ না পড়ে।’