উদ্বোধনের আগেই চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠল জাপানে চলা এশিয়ান গেমস নিয়ে। অ্যাথলেটদের বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, নিম্নমানের বাসস্থান নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তীব্র প্রতিবাদ গেমসের আবহকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আগামীকাল নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়া আসরের পর্দা উঠছে। তবে অলিম্পিকের চেয়েও বেশি ১৭ হাজারের অধিক অ্যাথলেট ও অফিসিয়ালের থাকার জায়গা দিতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন আয়োজকেরা। খরচ কমাতে কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ বানানো হয়নি। পরিবর্তে হোটেল, অস্থায়ী কেবিন ও ক্রুজ জাহাজে রাখা হচ্ছে খেলোয়াড়দের। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অ্যাথলেটদের জন্য দেওয়া বিছানাগুলো বেশ ছোট ও অস্বস্তিকর।
চীনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জিমন্যাস্ট ও প্যারিস অলিম্পিকে দুটি রৌপ্যজয়ী ঝাং বোহেং জানান, বুধবার পৌঁছানোর পর তাঁকে ও তাঁর সতীর্থদের টানা ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিওতে ২৬ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ক্লান্ত। সকাল সাতটায় প্রাতরাশ করার পর ভাবিনি আবার সন্ধ্যা সাতটার আগে কিছু খেতে পারব না।’
নিবন্ধন ও দাপ্তরিক কাগজের ঝামেলা শেষে নাগোয়া বন্দরে রাখা একটি ক্রুজ জাহাজে তাঁদের নেওয়ার কথা ছিল, যেখানে প্রায় চার হাজার অ্যাথলেট থাকবেন। কিন্তু বোহেং জানান, সেখানে পৌঁছে ভারী বৃষ্টির কারণে তাঁরা জাহাজে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে নিজেদের খরচে হোটেলে কক্ষ নিয়ে তাঁদের বিশ্রাম নিতে হয়।
চীনা ব্যাডমিন্টন দল নির্ধারিত বাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। পরে স্থানীয় চীনা প্রবাসীরা নিজেদের গাড়িতে করে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ‘এশিয়ান গেমস অবসার্ড’ হ্যাশট্যাগটি দেখা হয়েছে ৯ কোটির বেশিবার।
একই অভিজ্ঞতা হয়েছে ভারতীয় দলেরও। ভারতের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানান, অভিবাসন ও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের দীর্ঘ লাইনের কারণে বিমানবন্দরে তাঁদের অনেক দেরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাথলেটদেরও বিমানবন্দরে পাঁচ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়নহাপ জানিয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্ত হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়া অলিম্পিক কমিটি আয়োজকদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাপানি যোদ্ধা তোয়োতোমি হিদেওশির পোশাক পরা প্রতিনিধি রাখার কারণে। ১৫৯২ থেকে ১৫৯৮ সালে কোরিয়ায় জাপানি আক্রমণের মূল নায়ক ছিলেন এই হিদেওশি, কোরিয়ার ইতিহাসে যা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ক্ষতের জায়গা।
নানামুখী বিতর্ক আর অব্যবস্থাপনার সমালোচনা সত্ত্বেও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) মহাপরিচালক হুসেইন আল-মুসাল্লাম অ্যাথলেটসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষেই মত দিয়েছেন। আল-মুসাল্লাম স্বীকার করেছেন যে একটি অ্যাথলেটস ভিলেজ থাকলে ভালো হতো। তবে স্বাগতিকদের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই গেমস পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান ওসিএ মহাপরিচালক।