
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ হকি দল। ভারতের জলন্ধরের সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে আজ স্বাগতিকদের কাছে ১৩–০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে জিমি–আমিরুলরা।
আগামী ২৯ অক্টোবর একই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি–নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও ভারতের কাছে ১০–০ গোলে হেরেছিলেন লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের হকিতে বড় ব্যবধানে হার অবশ্য নতুন কিছু নয়। ১৯৭৮ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ ওই বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংককে পাকিস্তানের কাছে ১৭–০ গোলে হেরেছিল। আন্তর্জাতিক হকিতে সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়।
আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) র্যাঙ্কিংয়ে ভারত আছে অষ্টম স্থানে, বাংলাদেশ ২৭ নম্বরে। দুই দলের শক্তির পার্থক্য মাঠের খেলাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম কোয়ার্টারেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে ভারত। আক্রমণে ওঠা তো দূরের কথা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয় পিটার গেরহার্ডের শিষ্যদের। প্রথম কোয়ার্টারেই চার গোল হজম করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও বদলায়নি খেলার চিত্র। ভারতের আক্রমণের চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। এই কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে বিরতিতে ৬–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। শেষ দুই কোয়ার্টারেও ভারতের আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ। আরও সাত গোল হজম করে ম্যাচ শেষ করে তারা ১২–০ ব্যবধানে। ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিনটি গোল করেছেন মনদীপ সিং।
এশিয়ান গেমসে সপ্তম হওয়ায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল না। তবে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এর আগে মাত্র একবার খেলেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে চারটি ম্যাচ খেললেও একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি দলটি। এবারও শুরুটা হলো বড় পরাজয় দিয়ে। এখন দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে।