টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বল: নাহিদ রানার উত্থানের সেই সব দিন

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব তাঁর। হয়ে উঠেছেন গতির সমার্থক। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলারের উঠে আসার গল্প ও তাঁর ক্রিকেট–দর্শন নিয়ে কথা বলতে নাহিদ রানার সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাঁর ক্রিকেট–জীবন শুরুর দিকের কোচ আলমগীর কবিরকেও। ‘সঙ্গে উৎপল শুভ্র’ নামে সেই পডকাস্ট শনিবার রাতে পাবলিশ হয়েছে প্রথম আলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। সেটির লিখিত রূপ কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হচ্ছে ওয়েবসাইটে। এখানে থাকল দ্বিতীয় পর্ব।

পডকাস্টের প্রথম পর্ব: নাহিদ রানাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প, নাহিদ রানা হয়ে ওঠার গল্প

প্রশ্ন

আচ্ছা, আপনার কি কোনো নির্দিষ্ট দিনের ঘটনা বা কোনো একটা কথা মনে পড়ে? আলমগীরের কথা হতে পারে, অন্য কারও হতে পারে। আপনার এই যে চিন্তাভাবনা, এটা আইডিয়ালি সবার হওয়া উচিত, কিন্তু যেটা বললেন, সবার তো হয় না। সবাই তো একভাবে চিন্তা করে না। কারও কাছে মনে হয়, জীবনটা হেসেখেলে বেড়ালাম, যা হওয়ার হবে। সে–ও বোঝে, এটা করলে ভালো হতো, কিন্তু নিজেকে সে ওভাবে রেজিস্ট করতে পারে না, নানা কিছু করার টেম্পটেশন হয় তার। আপনার কি এমন কোনো পার্টিকুলার দিন বা ঘটনা মনে পড়ে, যেটা আপনাকে ভালো নাড়া দিয়েছিল? ওই কথাটা বা কোনো দিন হয়তো আগের রাতে ঘুমাননি, পরের দিন দেখলেন বল করতে গিয়ে ভালো লাগছে না, যা করতে চাচ্ছেন পারছেন না। এমন কোনো মোমেন্ট আছে, যেটা চিন্তাভাবনার দিক থেকে আপনাকে আজকের নাহিদ রানা বানিয়েছে?

নাহিদ রানা: আমার লাইফে একটা সময় ছিল, এজ লেভেলের সময়। আমি নাইনটিন... না, এজ লেভেলের সময় ওয়াইসিএল ক্যাম্পে ডেকেছিল। সেই ক্যাম্পে আমি টিমের সবার চেয়ে ভালো বল করছিলাম, কিন্তু টিমে সুযোগ পাইনি। সেই দিন আমি ক্রিকেট লাইফে সবচেয়ে বেশি মন খারাপ করেছি। আমি সেই দিনই আলমগীর স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম, স্যার, আমি ক্রিকেট খেলব না, বাসায় চলে যাব। তখন বয়স কম ছিল, অনেক আবেগ কাজ করত। প্রত্যেক মানুষের ভেতরে আবেগ কাজ করে, কিন্তু আবেগকে কেউ কন্ট্রোল করতে পারে, কেউ পারে না। হয়তো আমার বয়স তখন কম ছিল।

প্রশ্ন

তখন কত বয়স আপনার? ১৬, ১৫?

নাহিদ রানা: না, তখন ১৮ বছর।

প্রশ্ন

ও, ১৮। আপনি তো ১৮ বছর বয়সে প্রথম ক্রিকেট বলে বল করেছেন।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ। ওই সময় আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। এমন কষ্ট পেয়েছিলাম যে একা একা ছাদের ওপর গিয়ে বসে কান্না কান্না ভাব আসছিল। ওই সময় আমি স্যারকে ফোন দিয়ে বলেছি, স্যার, আমি খেলব না। স্যার তখন আমাকে বললেন, ক্রিকেট খেলবি না তো কী করবি? ক্রিকেটে একটা সুযোগ গেছে তো কী হয়েছে, লাইফে এ রকম বহু অপরচুনিটি আসবে, তুই শুধু চুপচাপ খেল, তুই থাক। সেদিনই আমি লাইফে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি। আর আমার নিজের যে গোল ছিল, এটা আমি জীবনে কখনো কাউকে বলিনি। যখন আমি ১৯ থেকে বাদ পড়ি, তখন আমার মাথায় শুধু একটা জিনিসই কাজ করত। সবকিছু আল্লাহ আমাকে হেল্প করেছেন, আল্লাহ চেয়েছেন বলেই হয়েছে। আমি জাস্ট চেষ্টা করেছি। সবকিছু আল্লাহর হাতে, আমার হাতে কিছু নেই, আমি জাস্ট চেষ্টা করতে পারি। যখন আমি ১৯ থেকে বাদ পড়ি, তখন আমার মাথায় একটা জিনিস আমি টার্গেট করেছিলাম যে...

প্রশ্ন

এটা কত সালে?

নাহিদ রানা: এটা ২০২২ সালে।

প্রশ্ন

আন্ডার-নাইনটিন টিম থেকে বাদ পড়লেন। যেটা চ্যাম্পিয়ন হলো? ও না, চ্যাম্পিয়ন তো হলো ২০২০ সালে।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ। আসলে আমি আন্ডার-নাইনটিন কিংবা এসব নিয়ে ওরিড না। আমি জাস্ট নিজের ভেতরে একটা গোল সেট করেছিলাম। আল্লাহ যদি চান, ১৯ থেকে বাদ পড়ার পর এখন আমি সবার আগে চেষ্টা করব ন্যাশনাল টিমে খেলার। ওখানে যতজন প্লেয়ার ছিল, হয়তো তাদের কতজন আগে খেলতে পেরেছে, কতজন পারেনি, সেটা জানি না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, এই দুটি জিনিস আমাকে অনেক কিছু চিন্তা করতে শিখিয়েছে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমি মনে করি, যারা এখন ছোট, ইয়াং পেস বোলার; আমি নিজেও ইয়াং, কিন্তু যারা আরও ইয়াং, তারা যদি কোথাও থেকে বাদ পড়ে কিংবা সে জানে যে সে ওখানকার জন্য পারফেক্ট, সে নম্বর ওয়ান, কিন্তু তাকে সিলেক্ট করা হচ্ছে না, তাহলে তাকে আমি বলব, নিজেকে বেশি আবেগপ্রবণ কোরো না, নিজে নিজে চেষ্টা করো, নিজের স্কিলটাকে কীভাবে আরও ডেভেলপ করবে। কারণ, তোমার মধ্যে যদি স্কিল থাকে আর তুমি যদি চেষ্টা করো, তুমি যেখানে যাওয়ার, সেখানে যেভাবে হোক যাবে। আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, আমার ভাগ্যে আল্লাহ যেটা লিখে রেখেছেন, সেটা হবে, নিয়তি। সেটা আমি যেভাবে হোক পাব। আর যেটা আমার ভাগ্যে লেখা নেই, সেটা আমার হাতে থাকলেও পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এই জিনিসটা আমি বিশ্বাস করি। এ জন্য যারা ইয়াং আছে, তাদের বলব, তোমরা যদি মনে করো, এই জায়গার জন্য আমি পারফেক্ট, কিন্তু আমাকে নেওয়া হচ্ছে না, সমস্যা নেই। তুমি তোমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাও। কখনো হতাশ হয়ো না এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো।

নাহিদ রানা
প্রশ্ন

খুবই ভালো লাগল। আচ্ছা, একটা জিনিস, যেটা কথায় কথায় এল—১৮ বছর বয়সে বোধ হয় আপনি প্রথম ক্রিকেট বলে বল করেন। এর আগে টেপ টেনিস। আর টেপ টেনিসের স্টার থাকে তো, না? খেপ, প্রচুর খেপ। এখন তো বাংলাদেশে টেপ টেনিস খেলে অনেকে সংসার চালান, শুনি আসলে। তো টেপ টেনিসে আপনি নিজের এলাকায় মোটামুটি খুব বিখ্যাত ছিলেন নাকি?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, ছিলাম এবং সব জায়গাতেই আসলে...

প্রশ্ন

প্রতি ম্যাচে কেমন নিতেন?

নাহিদ রানা: প্রতি ম্যাচে কত নিতাম, আসলে মনে নেই। আর তখন টাকার চেয়ে খেলার প্রতি নেশাটাই বেশি ছিল।

প্রশ্ন

ওটা কি চাঁপাইনবাবগঞ্জেই খেলতেন, নাকি রাজশাহীতে বা আশপাশের জেলাটেলাতেও যেতেন?

নাহিদ রানা: আশপাশের জেলাটেলাতেও যেতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন দেখলাম, ক্রিকেটে আসার জন্য আমার নিজের ভেতরে ইচ্ছা ছিল যে একদিন না একদিন আমি ক্রিকেট বলে প্র্যাকটিস করব। এটা একদিন হুট করে ভেতরে এল যে আমি যাব। আমাদের এলাকায় আগে অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট হতো, ফাইভ স্টার বলে। সবাই খেলতে আসত। আমি দেখতাম, আমি সবার চেয়ে জোরে বল করছি। মনে মনে ভাবতাম, একদিন প্র্যাকটিস করতে যাব। কিন্তু জানতাম না যে ক্লাবে ভর্তি হওয়া যায়। আমি জানতাম, ক্লাবে ভর্তি হলে অনেক কিছু করা লাগে। এখনো গ্রামের অনেক মানুষ জানে না যে ক্লাবে ভর্তি হওয়াটা আসলে নরমাল। তুমি নরমালি এসে টাকা দিয়েই ভর্তি হতে পারবে। হয়তো অনেক মানুষ এখনো জানে না যে নিজে এসেই ভর্তি হওয়া যায়। আমি তখন মনে করতাম, ক্লাবে ভর্তি হতে গেলে অনেকজনের সঙ্গে চেনাজানা থাকতে হয় কিংবা অনেক কিছুর পরীক্ষা দিয়ে তারপর ভর্তি হওয়া যায়। এটা তখনকার চিন্তাধারা। কারণ জানতাম না যে ক্লাবে ক্রিকেট বলে এ রকম প্র্যাকটিস করানো হয়। তখন শুধু একটা জিনিসই জানতাম, টেনিস বলে খেলতে হবে, আর খেলাটাকে এনজয় করতাম। এনজয় করতে করতে যখন মনে হলো, না, আমি যাব, তখন আমার ভাইয়াকে বললাম। উনি আমাকে বললেন, যদি পড়াশোনায় এসএসসি পাস করতে পারো, তখন তোমাকে আমি ভর্তি করব। আসলে পড়াশোনা সেভাবে করা হতো না। কারণ, আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই আমরা ছোট থেকেই খেলাধুলা করে অভ্যস্ত। তখন ফোন ছিল না। এখন হয়তো ফোন এসে গেছে। এখন গ্রামে গেলে দেখি, খেলার আর নেশা নেই।

অনেক ফ্যামিলি এমন আছে, মাসে সাত-আট হাজার টাকা দিতে তাদের অনেক সমস্যা হয়। এ রকম অনেক গরিব ঘরের পোলাপানের ট্যালেন্ট আছে, চাইলেও তারা অনেক কিছু করতে পারে না। এটা ফ্যামিলির জন্য অনেক স্যাক্রিফাইসের ব্যাপার।
নাহিদ রানা
প্রশ্ন

না, এখন সবাই ফোন নিয়ে পড়ে থাকে। একদম, খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

নাহিদ রানা: তখন আমাদের হাতে ফোন ছিল না। সবাই বিকেল হলেই খেলা বা সারা দিনই খেলা, সুযোগ পেলেই খেলা। ছোটবেলার ফ্রেন্ডরা সবাই একসঙ্গে খেলতাম আর ছোটবেলার খেলাটা শুরু করার ক্রেডিট ওদের সবার আছে। কিন্তু ক্লাবে আসাটা পুরোপুরি আমি নিজ থেকে এসেছি। অনেকে আপনাকে মানা করবে। আপনি যেকোনো জিনিস করতে যাবেন, ভুল থেকে অনেকে মানা করবে, আপনার কাছের মানুষও বলবে—যেয়ো না, এটা হবে না, ওটা হবে না। কিন্তু আমি মনে করি, নিজের প্রতি যদি আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক থাকে, তাহলে একবার হলেও জিনিসটা ট্রাই করা উচিত। আস্তে আস্তে নিজে বুঝতে পারবেন, আমার দ্বারা হবে কি হবে না। যদি ফিল করেন, না, আমার দ্বারা হবে না, তাহলে অবশ্যই আপনি নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালো জানতে পারবেন। আপনার নিজের চেয়ে নিজেকে কেউ বেশি ভালো জানে না। মানুষ হয়তো আপনাকে বলে, আমি তোর চেয়ে তোকে বেশি চিনি। আসলে এটা কেউ পারে না। পৃথিবীতে নিজের চেয়ে কেউ কাউকে বেশি ভালো চেনে না। আমি মনে করি, অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষের নিজের ট্যালেন্ট অনুযায়ী সামনে এগোনো উচিত, আর তার বোঝা উচিত, আমি যে জায়গাটায় যাচ্ছি, সেটা আমার ট্যালেন্ট অনুযায়ী ঠিক আছে কি না। অনেক সময় এই জিনিসটা আমার জন্য বলা সহজ, কারণ, আমার ভাইয়া ওই সময় আমার খরচটা চালিয়েছিলেন, এ জন্য আমার যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। না হলে হয়তো আমার জন্য আরও ডিফিকাল্ট হতো। হয়তো আরেকজনকে এখন বলা আমার জন্য সহজ। কারণ, আমি এটা করে এসেছি। হয়তো এখন অনেক ফ্যামিলি এমন আছে, মাসে সাত-আট হাজার টাকা দিতে তাদের অনেক সমস্যা হয়। এ রকম অনেক গরিব ঘরের পোলাপানের ট্যালেন্ট আছে, চাইলেও তারা অনেক কিছু করতে পারে না। এটা ফ্যামিলির জন্য অনেক স্যাক্রিফাইসের ব্যাপার। তাই আসলে সবকিছু আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যদি লিখে রাখেন, তুমি একটা ভালো জায়গায় যাবে, তাহলে যাবেই। আর ফ্যামিলির জন্য কিংবা অনেক কিছুর জন্য আমরা ছেলেরা স্যাক্রিফাইস করি। তাই আমি মনে করি, অবশ্যই প্রত্যেকটা ছেলের উচিত ট্যালেন্ট অনুযায়ী নিজের স্বপ্নটাকে তাড়া করা।

প্রশ্ন

আপনি আগে যেটা বলছিলেন, একটা সময় গিয়ে যেন আফসোস না হয়, আরে, আমার এটা খুব শখ ছিল, পারত কি পারত না, সেটা তো তার জানাই হলো না।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, আসলে প্রত্যেকটা মানুষেরই স্বপ্ন আছে।

প্রশ্ন

হ্যাঁ, সেটা।

নাহিদ রানা: প্রত্যেকটা মানুষ কিন্তু নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে পারে না। হয়তো আমার জন্য ইজি, কারণ আমি যেটা ভালোবাসতাম কিংবা যেটা ভালোবাসি, ওই জিনিসটা আমার জন্য...

প্রশ্ন

তারপর কোন ক্লাবে প্রথম গেলেন?

নাহিদ রানা: ক্লেমন ক্লাবে। একটাই।

প্রশ্ন

আচ্ছা, ওখানেই প্রথম গেলেন। তো এসএসসি পাস করেছিলেন?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, মানে পরীক্ষা দিয়েই ভর্তি হয়েছিলাম।

প্রশ্ন

আচ্ছা, আচ্ছা, তখন বুঝেছে যে পরীক্ষা যখন দিয়ে ফেলেছে, পাস করবেই। আচ্ছা, তো ক্লেমনে গিয়েও আপনি প্রথমে টেপ টেনিসে বল করা শুরু করলেন, তাই তো?

নাহিদ রানা: না, প্রথম দিনই ক্রিকেট বলে বল করেছিলাম।

প্রশ্ন

ওটা কি আপনার জীবনের প্রথম ক্রিকেট বল?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, প্রথম ক্রিকেট বল।

প্রশ্ন

এর আগে ক্রিকেট বলে কোনো দিন বল করেননি?

নাহিদ রানা: না। ক্রিকেট বল আমি কখনো হাতেও নিইনি। গ্রাম অঞ্চলে ক্রিকেট বল আমি কোথায় পাব? সব সময় ফাইভ স্টার...

প্রশ্ন

তো ওটা অনেক ভারী লাগল না হাতে নিয়ে? টেপ টেনিসের তুলনায় তো ধরুন পাঁচ গুণ, ছয় গুণ।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, ভারী লাগল, আর বল করলাম। দুটো বল করেছিলাম। স্যার তখন ঢাকায় ছিলেন। দুটো বল করার পর আমাকে একটা গ্রুপে দিল। ওখানে কিছুদিন প্র্যাকটিস করলাম। তারপর স্যারের সঙ্গে পরিচয় ওই মহিলা কমপ্লেক্স থেকে।

নাহিদ রানার শুরুটা ছিল টেপ টেনিস বলে, ক্রিকেট বল হাতে নিয়েছেন অনেক পরে
প্রশ্ন

আচ্ছা, ওই সময়টা আমাকে একটু আবার বলুন। আমি একটু ভাবার চেষ্টা করছি, একটা ছেলে টেপ টেনিস বলে খেলছে, অনেক ম্যাচ খেলেছে, অসংখ্য ওভার করেছে, তারপর ক্রিকেট বলটা হাতে নেননি। আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে। আর বলটা তো অনেক ভারী। তো ওই বলটা হাতে নিয়ে...কী, নতুন বল ছিল, লাল টকটকে বল, নাকি ইউজ করা বল?

নাহিদ রানা: না, আসলে মনে নেই। ইউজ করা বলই হবে।

প্রশ্ন

একেবারে নতুন বল দেওয়ার কথা না প্র্যাকটিসে।

আলমগীর কবির: ও যে গ্রুপে প্র্যাকটিস করত, ওই গ্রুপে জুনিয়র সব ছেলেপেলে প্র্যাকটিস করে। ওখানে নতুন বল দেওয়ার কথা না। তারপরও নতুন থাকলেও হয়তো, যেহেতু তখন নতুন... নতুন পেস বোলার এলে নতুন বল দেয় না? হ্যাঁ, দেয়। তবে বলের তো দাম আছে, আমরাও তো একসময় খেলেছি। আমি বলব, পুরোনোও না, নতুনও না, আমরা বলি সেমি নিউ। এখনকার বলগুলোর কোয়ালিটি দেখুন। আগে ৫০০-৬০০ টাকার বল চার-পাঁচ দিন চলে যেত। এখন ৫০০-৬০০ টাকার ক্রিকেট বল কাগজের বল হয়ে গেছে। নতুন থাকে, তারপর একদম বাদ। আমরা যখন ক্লেমন সেকেন্ডারিতে প্র্যাকটিস করি বা বাংলাদেশের বিভিন্ন একাডেমিতে যারা প্র্যাকটিস করে, বলগুলোর দাম হয়তো দেখতে অনেক বেশি, কিন্তু বলের কোয়ালিটি আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে, কেন জানি না। আমরা যখন ডিং ডং বলে খেলতাম, ওই বলগুলো পুরোনো করা যেত না। সত্যি কথা বলতে, প্রথম থেকে পুরোনো পর্যন্ত। ওই বলগুলো মনে হয় লোহা দিয়ে তৈরি হতো। আল্লাহ মাবুদই জানেন কী চামড়া ছিল। কারণ, আমাদের তো উপায় ছিল না, একটা বল দিয়ে ৭ দিন, ৮ দিন, ১০ দিন খেলতে হতো, তাই না? তখন দেখতাম, বড় ভাইরা ৫০-৬০ টাকা দিয়ে বল কিনতেন। আমার ছোটবেলার খেয়াল আছে, সেলাই খুলে গেছে, ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে, ওটাই কোনোভাবে চাপা দিয়ে...ভেতরে একটা ছোট কালো বল থাকত। এখন কিন্তু ওই জিনিসগুলো থাকে না। ভেতরে যেটার ওপর বেস করে বলটা তৈরি হয়, ওটা এখন থাকে না। যেগুলো দামি বল, একদম সেগুলোতে থাকে। আগে যেমন বললাম, ডিং ডং বল ৬০-৭০ টাকায় কিনতেন বড় ভাইরা, তখন ওটা অনেক টাকার মনে হতো। এখন ৫০০-৬০০ টাকা দিয়ে বল কিনলেও আজকে ব্যাটিং করলে কালকে থাকে না। হয়তো এ রকম টাইপের একটা বল মানে...

প্রশ্ন

আচ্ছা, প্রথম ক্রিকেট বলটা শুনলাম। প্রথম স্পাইকের গল্পটাও এক জায়গায় শুনেছি। এটা বোধ হয় কেউ আপনাকে দিয়েছিল। জুতার নিচে এত বড় বড় কাঁটা, বোলাররা পরে। আমরা বুট বলব, স্পাইকই তো বলে। বোলাররা যে এসব পরে, এটা তো আপনার ধারণা ছিল না। তো এই স্পাইকটা কে দিয়েছিল আপনাকে? প্রথম স্পাইক পরে বোলিং করলেন, কে দিল?

নাহিদ রানা: প্রথম স্পাইক আসলে স্যার নিয়ে এসে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজশাহী ডিভিশনের যিনি ন্যাশনাল টিমে খেলেছেন, সানজামুল ইসলাম নয়ন ভাই...

প্রশ্ন

আচ্ছা, আচ্ছা। বাঁহাতি স্পিনার?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, লেফট আর্ম। আসলে আমি কখনো কোথাও বলিনি, কিন্তু এখানে বললাম, কারণ আসলে বলা উচিত। হয়তো ওই সময়টায় উনি হেল্প করেছিলেন বলেই ওই স্পাইকটা পেয়েছি।

প্রশ্ন

আপনি উঠে আসার পথে যাঁরা আপনাকে সাহায্য করেছেন, সবার তো অবদান আছে।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, অবশ্যই।

প্রশ্ন

তো সানজামুল প্রথম আপনাকে স্পাইক দিলেন?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ। স্যার গিয়ে ওনাকে বলেছিলেন। উনি ওই স্পাইকটা তখন স্যারকে দিলেন, স্যার ওনার কাছ থেকে নিয়ে আমাকে দিলেন।

প্রশ্ন

আচ্ছা, আচ্ছা।

নাহিদ রানা: স্যার আমাকে বললেন, এই স্পাইক নাও, সানজামুল ইসলাম নয়ন ভাই তোমাকে দিয়েছেন। ওনার কাছ থেকে ওটা আমার প্রথম স্পাইক। ওই স্পাইক দিয়ে আমি অনেক দিন খেলেছি। ওই স্পাইক নেওয়ার পর আরেক জোড়া স্পাইক স্যার নিয়ে দিয়েছিলেন মুক্তার আলী ভাইয়ের কাছ থেকে। ওই দুই জোড়া স্পাইক দিয়ে শুরু। তারপর মাঝেমধ্যে আমার স্পাইক লাগলে শরীফুল ভাইয়ের কাছ থেকে নিতাম।

স্পাইকের সঙ্গেও নাহিদ রানার পরিচয় পরে হয়েছিল
প্রশ্ন

কিন্তু আপনি যেহেতু ক্রিকেট বলে কোনো দিন বল করেননি, বোলাররা যে স্পাইক পরে বল করে, এটা তো বোধ হয় খুব একটা জানা ছিল না। এটা যখন প্রথম পরলেন, বোলিং করতে সমস্যা হয়নি?

নাহিদ রানা: প্রথমে একটু আনকমফোর্টেবল লাগত, কিন্তু আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। কারণ, মানুষ তো অভ্যস্ত হয়ে যায়।

প্রশ্ন

কী সাইজের জুতা আপনার? পায়ের সাইজ কত?

নাহিদ রানা: ইউকে ১২।

প্রশ্ন

১২? এটা কি বেশি বড়, নাকি মাঝামাঝি, মানে কমন?

আলমগীর কবির: না, এটা এর চেয়ে তো বড় আছে...

প্রশ্ন

বাংলাদেশ টিমে সবচেয়ে বড় সাইজের জুতা কে পরে?

নাহিদ রানা: মোস্তাফিজ ভাই।

প্রশ্ন

মোস্তাফিজের কত?

নাহিদ রানা: ১৩।

প্রশ্ন

আচ্ছা, মোস্তাফিজের ১৩। আপনার ১২, শরীফুলের ১২।

নাহিদ রানা: পেস বোলারদের ম্যাক্সিমামই ১১-১২।

প্রশ্ন

আচ্ছা, মুস্তাফিজের পা তাহলে অনেক বড়, না?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, ভাইয়ের পা অনেক বড়। লেগ কাটারের মতো। কাটারের মতো পা।

ক্লাব ক্রিকেট আর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট যেমন অনেক ডিফারেন্ট, ফার্স্ট ক্লাস আর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটও সেম অনেক ডিফারেন্ট।
নাহিদ রানা
প্রশ্ন

আচ্ছা, আপনি এই যে ছাড়া ছাড়াভাবে উঠে আসার গল্পটা বললেন—টেপ টেনিস, ক্লাবে গেলেন, স্যারের সঙ্গে দেখা হলো, একটু এগিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের রেসপেক্টে একটা জিনিস আপনার জন্য একটু আনইউজুয়াল। সাদা বলে খেলার আগে লাল বলে আপনার ডেব্যু হয়ে গেছে। আপনার ফার্স্ট ক্লাস ডেব্যু তো লিস্ট এ-এরও আগে। এটাও কিন্তু খুব একসেপশনাল একটু। তো ২০২১ সালে আপনার ফার্স্ট ক্লাস ডেব্যু। এর দুই বছর পর আপনার লিস্ট এ ডেব্যু। নরমালি তো এটা উল্টো হয়। আপনি রাজশাহী ডিভিশনের পক্ষে ফার্স্ট ক্লাস খেলা শুরু করলেন। কীভাবে আপনি দলে এসেছিলেন? কে আপনাকে প্রথম খবরটা দিয়েছিল? ওই টিমে গিয়ে এমন কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যাঁর নাম আগে শুনেছেন? ফার্স্ট ক্লাসটাকে আমি ধরতে চাই। আমাদের দেশে ইদানীং, এই যে তামিম ইকবাল ঘোষণা করলেন, নতুন করে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটটাকে একটু রিভ্যাম্প করা, একটু রঙিন করা। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটই তো আসলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের বেজ হওয়ার কথা।

আলমগীর কবির: অবশ্যই।

প্রশ্ন

পার্টিকুলারলি টেস্ট ক্রিকেটের। তো আপনি ঘটনাচক্রে ওটাতেই বড় লেভেলের ক্রিকেটে প্রথম ইন্ট্রোডাকশন পেলেন। ওটা কি একটু বলবেন? খবরটা কে দিল, রাজশাহী টিমে কীভাবে ঢুকলেন?

নাহিদ রানা: আসলে আমি একজনের নাম বলতে চাই, জহুরুল ইসলাম অমি ভাই। উনি একজন সিনিয়র হিসেবে আমার কাছে পারসোনালি অনেক ভালো লাগত। উনি জুনিয়রদের স্নেহ করতেন, জুনিয়রদের হেল্প করতেন। রাজশাহী ডিভিশনে তারপর শান্ত ভাইও করেন। কিন্তু আমি শুরুতে নেট বোলিং করতাম। স্যার আমাকে পাঠাতেন, ওখানে যাও, ডিভিশন প্লেয়াররা আছে, ওখানে নেট বোলিং করো। ওখানে নেট বোলিং করতে করতে সব সিনিয়র ব্যাটসম্যানকে বোলিং করতাম, সবাই জানত যে ছেলেটা জোরে বল করে। এ রকম করতে করতে রাজশাহীতে একটা টুর্নামেন্ট হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে আমি অনেক ভালো বোলিং করেছিলাম। ওখানে ভালো বোলিং করার পর সবাই জহুরুল ইসলাম অমি ভাইকে বলেছিল, একটা ছেলে আছে, অনেক জোরে বল করে। ওই সময় অমি ভাই আমাকে ডেকেছিলেন। অমি ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় সেখান থেকে। তখন থেকেই নেট বোলিং করতাম, প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতাম। প্র্যাকটিস ম্যাচে ভালো করলাম, তারপর আস্তে আস্তে ২০২১ সালে, করোনার মধ্যে, দুই-তিন ম্যাচ পরে আমার ডেব্যু হলো।

প্রশ্ন

ও, তখন তো করোনা।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ। ডিভিশনের বড় ভাইরা স্যারকে সবকিছু জানিয়ে রাখতেন যে ওকে এ বছর ডেব্যু করাব, তোমাকে রেডি রাখব। স্যার আমাকে বলেছিলেন, তোর যেকোনো সময় সুযোগ আসতে পারে, তুই নিজেকে প্রিপেয়ার্ড রাখিস। ২০২১ সালে আমার ডেব্যু হয়েছিল। ক্লাব ক্রিকেট আর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট যেমন অনেক ডিফারেন্ট, ফার্স্ট ক্লাস আর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটও সেম অনেক ডিফারেন্ট। ক্লাব ক্রিকেট থেকে গিয়ে ফার্স্ট ক্লাস খেলার পর আমি বুঝেছিলাম, আমার অনেক ইমপ্রুভ করার বাকি, লাইন-লেংথ সব। তখন তো ডমেস্টিকে পেস দিয়ে ছাড় পাওয়া যায়। তখন আমি ফিটনেস ইমপ্রুভ করার জন্য নিজেকে নিয়ে প্রচুর চিন্তা করেছি। কারণ, তখন তো খেলা কম ছিল, ক্লাবে প্র্যাকটিস করতাম। এখন ইন্টারন্যাশনালে আসার পর সময়টা কম, খেলা বেশি। তখন আমি ফার্স্ট ক্লাস শেষ করার পর অফ টাইমে আমার যে জিনিসগুলো ল্যাকিং ছিল, বিশেষ করে ফিটনেস, ওই সময় আমি আমার লাইফে সবচেয়ে বেশি ফিটনেস ইমপ্রুভ করেছি। ওই সময় থেকে আমার রানিং বলুন কিংবা স্ট্রেন্থ বলুন—এই জিনিসগুলো ইমপ্রুভ করা শুরু। ওই বছর আমি রানিং ইমপ্রুভ করার পর নেক্সট ইয়ারের জন্য গোল সেট করেছিলাম। আমার একটা আইডিয়া হয়েছিল, নেক্সট ইয়ারে যদি ভালো পারফর্ম করতে চাই, তাহলে এই বছর আগে থেকে কী প্রিপারেশন নেওয়া উচিত। আমি ওভাবে প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, নেক্সট ইয়ার আমি টানা ছয়টা ম্যাচ খেলেছিলাম, ওখানে আমি ৩২টা উইকেট পেয়েছিলাম।

প্রশ্ন

এটা ২০২২ সালে।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ। আসলে এটাও না যে আমি প্ল্যান করেছি বলে সাকসেস হয়ে গেছি। অনেক সময় প্ল্যান করে সাকসেস হয় না। আসলে প্ল্যান করে কোনো কিছু হয় না, কিন্তু একটা গোল থাকে।

প্রশ্ন

প্ল্যান তো করতে হবে, হোক বা না হোক।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, আপনাকে প্ল্যান তো করতে হবে। আসলে আমি ওই প্ল্যানটা করেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ সাকসেস হয়েছিলাম। ওখান থেকে আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করলাম, লাইফে কিছু করতে গেলে প্ল্যান করতে হবে, আর সামটাইম আপনার প্ল্যান অনুযায়ী কিছুই হবে না। আসলে আল্লাহর প্ল্যান সবচেয়ে সুন্দর প্ল্যান, কিন্তু আপনার নিজেরও কিছু প্ল্যান থাকতে হবে। তো ওখান থেকে আসলে…ওখান থেকে নিজেকে আস্তে আস্তে চিনতে শুরু করলাম।

প্রশ্ন

এরপর বিপিএল খেললেন।

নাহিদ রানা: এরপর বিপিএল খেললাম।

প্রশ্ন

তারপর বিপিএল, মানে টি-টুয়েন্টি খেলতে আপনার ভালো লাগে?

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো লাগে।

প্রশ্ন

কেন, টাকা বেশি এই কারণে?

নাহিদ রানা: আসলে টি-টুয়েন্টিতে তো টাকা বেশি না। টাকা বেশি হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি, ওয়ানডে।

প্রশ্ন

যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়মিত খেলেন, বাংলাদেশের নতুন মোস্তাফিজুর রহমান হতে পারেন আপনি।

নাহিদ রানা: আসলে কেউ কারও মতো হতে পারে না। আমি নাহিদ রানা, আমি আমার মতো, ফিজ ভাইয়ের মতো না, তাসকিন ভাইয়ের মতো না।

মোস্তাফিজ বা অন্য কারও মতো নয়, নাহিদ রানা হতে চান নিজের মতো
প্রশ্ন

আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বলছি, যেহেতু ও রেগুলার খেলে, সেই অর্থে।

নাহিদ রানা: হ্যাঁ, আসলে উনি খেলেন, কারণ উনি ওনার ভ্যালুটা তৈরি করেছেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশে আরও পেস বোলার আছে। বোলার নাহিদ রানার স্বপ্নটা কী? সারা পৃথিবীর সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নাহিদ রানাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়বে, নাকি আজ থেকে ১০ বছর পরে বলবে, টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বেস্ট বোলার? আপনার এখনকার স্বপ্নটা কী?

নাহিদ রানা: আমার এখনকার স্বপ্ন হলো আমি বাংলাদেশ টিমকে অনেকগুলো ম্যাচ জেতাতে চাই। আর ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে মানুষ যেন একটা জিনিসই বলে যে বাংলাদেশে এমন একজন পেস বোলার এসেছিলেন, যত দিন খেলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ম্যাচে ইমপ্যাক্ট রেখেছেন। আমি সব সময় চাই দেশকে একটা ট্রফি জেতাতে। পারসোনাল গোল বলতে আমার একটাই গোল, দেশের হয়ে যেকোনো একটা ট্রফি জেতা। আমি পারসোনালি মনে করি, ট্রফি জেতার ব্যাপারে মুখে বলার চেয়ে কাজে করে দেখানোটা জরুরি। আমি এভাবে চিন্তা করি, মুখে বলার চেয়ে কাজে নিজের প্রিপারেশন নেওয়াটা জরুরি। আমি ওয়ার্ল্ড কাপ জিততে চাই। ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার জন্য তো একা পারফর্ম করে আপনি জেতাতে পারবেন না। এক ম্যাচ, দুই ম্যাচ আপনি জেতাতে পারবেন। কিন্তু টিম ওয়াইজ আপনি কী করছেন? টিম ওয়াইজ যদি পারফর্ম করি, অবশ্যই আমাদের প্রত্যেকটা প্লেয়ারের দেশের ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার ইচ্ছা আছে, আর সবাই ওভাবে একেকজন একেক রকম...

প্রশ্ন

আচ্ছা, আমাদের এই টিমে তো আন্ডার-১৯ ওয়ার্ল্ড কাপ জেতা বেশ কয়েকজন প্লেয়ার আছে। ওটা তো ওয়ার্ল্ড কাপ। ওরা ১৯ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সারা ওয়ার্ল্ডের সেরা। ঠিক আছে, আমরা সিনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপ হয়তো জিতিনি। ওদের মানসিকতায় কি আপনি কোনো ডিফারেন্ট কিছু টের পান? শরীফুল, তাওহীদ হৃদয়, তামিম, ইমন, অনেক তো। এখন তো সব ফরম্যাট মিলিয়ে আপনার সঙ্গে যারা খেলে, তাদের মধ্যে আন্ডার-নাইনটিন প্লেয়ারই বেশি। ওদের মেন্টালিটিটা কি একটু ডিফারেন্ট, যেহেতু তারা একবার ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছে? একজন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নের একটা অহংকার থাকে না, অহংকারটা পজিটিভ অর্থে? ওরা কি ও রকম? ওদের স্বপ্নটা কি অন্যদের চেয়ে একটু বড়?

নাহিদ রানা: আসলে এই জিনিসটা বলা ডিফিকাল্ট, ওরাই বলতে পারবে। কারণ, তাঁরা আমার সিনিয়র। যদি কেউ আমার ফ্রেন্ড হতো...

প্রশ্ন

সবাই কি আপনার সিনিয়র?

নাহিদ রানা: ন্যাশনাল টিমে সবাই সিনিয়র। কিন্তু সবাই আমাকে অনেক...২০২০-তে যাঁরা আন্ডার-নাইনটিন ছিলেন...

প্রশ্ন

হ্যাঁ। ওটা তো ২০২০, এখন ২০২৬। ছয় বছর চলে গেছে এর মধ্যে। আমি ভাবছিলাম, ওরা বোধ হয় ছোটই আছে।

নাহিদ রানা: সবার খেলা দেখলে মনে হয়, না, সবাই দেশের জন্য খেলে। ওয়ার্ল্ড কাপ—এই জিনিসটা তো সবাই বলে, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব, চ্যাম্পিয়ন হব। যখন থেকে আমি খেলা দেখি, তখন থেকেই দেখে আসছি, বলে, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। আসলে বললেই তো চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না, চ্যাম্পিয়ন হতে অনেক কিছু করা লাগে। এখন আমি যাদের সঙ্গে খেলি, সবার মেন্টালিটি আমি দেখি। সবার মেন্টালিটি অ্যাগ্রেসিভ, যে কিছু করব, এ রকম একটা চিন্তাধারা আমাদের সবার মধ্যে আছে। আপনি হৃদয় ভাই বলুন, শান্ত ভাই বলুন, শরীফুল বলুন, ফিজ বলুন, তাসকিন বলুন, ন্যাশনাল টিমে লিটন দাস ভাই, যাঁরা আছেন, সবার মধ্যে একটা চেতনা আছে যে আমি কিছু একটা করব। সামনে বড় টিম, ছোট টিম, সেটা দেখার বিষয় না। আমি দেশের জন্য কিংবা নিজের জন্য কিছু একটা করব, ম্যাচ জিতব, বড় একটা ট্রফি...সবার মধ্যে একটা হাংরিনেস আছে। এই জিনিসটা আমি দেখেছি। এখন সবাই কীভাবে কী করছে, এটা আসলে ইন্ডিভিজুয়াল, একদম তার নিজের ওপর। কারণ, এটা জানার জন্য তো সবার সঙ্গে পারসোনালি মিশতে হবে। মাঠের মধ্যে যেটা দেখেছি, ড্রেসিং রুমে যেটা দেখেছি, সবার মধ্যে হাংরিনেস আছে, মানে সবাই জিততে চায়।

প্রশ্ন

ক্ষুধাটা আছে।

নাহিদ রানা: ক্ষুধা আছে। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে।

প্রশ্ন

নাহিদ, আমার খুব অবাকই লাগছে। আমি কেন জানি ভাবছি যে এরা বোধ হয় নাহিদের জুনিয়র। পরে আমার এই আন্ডার-নাইনটিন নিয়ে সমস্যাটা হয় যে পরে হিসাব করে দেখি ২০২০, মানে ছয় বছর আগে। তার মানে ওদেরও তো ক্যারিয়ারে অনেক দিন হয়ে গেল। শরীফুলের তো প্রায় বোধ হয় কত, পাঁচ বছর হয়ে গেছে না ক্যারিয়ার? ওর তো সবার আগে বোধ হয় ওই টিম থেকে ডেব্যু হলো। আচ্ছা, আলমগীর, নাহিদ রানার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ডেব্যু হলো, আপনি ওকে দেখেছেন ছোটবেলায়, একটা স্বপ্ন পূরণ হলো যেদিন প্রথম টেস্ট খেলতে নামল। আপনি নিজে টেস্ট ক্রিকেটার। এটা তো একজন প্লেয়ারের আল্টিমেট গোল। তারপর যে নাহিদ রানাকে আমরা এখন চিনি, সারা পৃথিবী চেনে, ওটার শুরু যদি আমি স্পেসিফিক করতে চাই, এটা তো আর দিন-তারিখ দিয়ে লেখা থাকে না, পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে প্রবাবলি ওটার শুরু। যখন সারা পৃথিবীতে, মোটামুটি ক্রিকেটের পৃথিবী বলছি, সারা পৃথিবী তো আর ক্রিকেট নিয়ে পাগল না, ক্রিকেটের পৃথিবী মোটামুটি জানল যে না, একটা বোলার এসেছে ও রকম। ইভেন ওখানে অনেক সাবেক বোলার ছিলেন, অনেক বড় বড় বোলার, পাকিস্তান তো পেস বোলারদের দেশ। কত বড় বড় পেস বোলার এসেছেন…ওখানে গিয়ে ওর বোলিং নিয়ে, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, ইয়ান বিশপ, অনেকে। আমি বোলারদের নাম শুধু বলছি। আলমগীর, আপনারও কি মনে হয় যে ওই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটা ওর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট, যখন থেকে নাহিদ রানার নাহিদ রানা হয়ে ওঠা শুরু? মানে আমরা যাকে এখন চিনি, ওর কাছ থেকে যে এক্সপেক্টেশনটা আমাদের...ওই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটা আপনি বোধ হয় টিভিতে দেখছিলেন, খেলাটা, না? আপনার কেমন লাগছিল ওটা দেখে?

আলমগীর কবির: না, অবশ্যই টার্নিং পয়েন্ট। ওখান থেকে সবার শুরু যে নাহিদ রানাকে চেনা। স্টার হয়েছে তখন থেকেই।

প্রশ্ন

রানা, আপনি কি স্টার হয়েছেন?

নাহিদ রানা: আসলে আমি নিজেকে সব সময় নরমালই মনে করি। এটা তো মানুষ বলবে, আমি কী বলব? আচ্ছা।

প্রশ্ন

স্টার বললে কি লজ্জা লাগে নাকি? ইউ আর আ সুপারস্টার।

নাহিদ রানা: না, আসলে আমি নিজেকে সব সময় চেষ্টা করি কীভাবে মাটির সঙ্গে থাকা যায়।

প্রশ্ন

সেটা ঠিক আছে, কিন্তু ফাইনালি পৃথিবীতে অনেক জোরে বল করতে পারে, কনসিস্টেন্টলি ১৪৫-১৫০ বল করতে পারে, দেখতে-শুনতে মোটামুটি ভালো, স্টার হতে আর কী লাগে? তাই না? ঠিক না, আলমগীর?

আলমগীর কবির: ঠিক।

জোরে বল করা শক্তি, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হতে লাইন–লেন্থও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নাহিদ রানা
প্রশ্ন

জোরে বল করার মধ্যে তো একটা অন্য জিনিস আছে। পৃথিবীতে এর চেয়ে এক্সাইটিং কিছু হয় না। রানার সঙ্গে আমি জফরা আর্চারের একটা মিল খুঁজে পাই। আর্চারের মতো ওর বোলিং দেখলেও কিন্তু মনে হয় না যে এটা ১৫০-এ আসবে। কালকে না পরশু এ নিয়ে ইয়ান বিশপের একটা ভিডিও কোথায় যেন দেখলাম, দেখতে পারেন। আলমগীর, শুরুতে তো রানার অ্যাকশন এ রকম ছিল না?

আলমগীর কবির: ঠিক, হাত ধরে দৌড়াত। বল লুকিয়ে রেখে। ওর একটা অভ্যাস ছিল, কী কারণে জানি না আমি। তবে যখন ওই বললাম না, যখন আসলে পরিচয়, টেপ টেনিসে দেখেছি, এভাবে যখন দৌড়ায়, তখন কিছু বলিনি। আবার যখন ক্রিকেট বল ধরল, তখনো দেখি এভাবে দৌড়ায়। আমি বললাম, যদি টপ লেভেলে খেলতে হয়, কিছু জিনিস আছে, অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ, হয়তো এই অভ্যাসটাতে জোরে বল করছি, তখন যদি আমি পরের লেভেল খেলি, আন্ডার-১৮, তারপর যদি ওয়াইসিএলে চান্স পাই, ১৯-এ চান্স পাই, ন্যাশনাল টিমে চান্স পাই, তখন হয়তো এই জিনিসটা ঠিক করা অনেক অনেক পরে, তখন তো অনেক লেট হয়ে যাবে। তখন কী করবে? এটা যদি অভ্যাস হয়, এখন এই জিনিসটা ঠিক করার চেষ্টা করলে দেখব, ওর পেস যে ভালো আছে, এই পেসটা হয়তো নষ্ট হয়ে যাবে, ডাউন হয়ে যাবে। তো আমি ওকে শর্ত দিয়েছিলাম, যদি টপ লেভেলে খেলতে চাও, তাহলে এই অভ্যাসটা আস্তে আস্তে অফ করতে হবে। এই অভ্যাস ছাড়ানোর জন্য কী করতাম? প্রথমে বল না করিয়ে রানিং করাতাম। ও যখন বোলিং করতে যেত, তখন বলত যে...

প্রশ্ন

এটা ডিস্টার্বিং না? বিরক্ত লাগত না?

আলমগীর কবির: হ্যাঁ, শুরুতে একটু বিরক্ত হতো। একটা বোলার বল করতে চায়, বল নিয়ে দৌড়াও, বল নিয়ে দৌড়াও। তো যখন বোলিং করতে যেত, বলত, স্যার, একবার টাচ করতে দেবেন? তো বলল, যখন আমি ডেলিভারি দেব, তার আগে একবার ধরতে দেবেন। আমি জানি ওর স্ট্রেন্থ এখন এটা। আমি বললাম, সমস্যা নেই। একদম প্রথমে তো কোনো কিছুই শেষ করা যায় না, আস্তে আস্তে, ডে বাই ডে। আচ্ছা, ঠিক আছে, ওটা দেব। তখন ও যখন ডেলিভারি গ্যাদার করার পজিশনে যায়, তার আগে একবার হাতটা ধরে। আমি জানি এটা ওর স্ট্রেন্থ। এটা আস্তে আস্তে অভ্যাস করে ফেললে ঠিক হয়ে যাবে। তাই করেছে। কিন্তু আপনারা হয়তো আগের ডেলিভারিগুলো দেখেননি। আমার কাছে অনেক ভিডিও ছিল। মোবাইলটা ক্র্যাশ হওয়ার কারণে এখন আমার কাছে ভিডিওগুলো কিছুই নেই, ফেসবুকেও নেই।

প্রশ্ন

আহা রে, এগুলো তো ইতিহাস হয়ে থাকত, ওই ভিডিওগুলো। কিন্তু ওই বল লুকিয়ে রাখলে লাভ আছে না, কোন দিকে কী সুইং করবে, বোঝা যায় না?

আলমগীর কবির: জিনিসগুলো কী যে...আপনি যখনই কেউ টপ লেভেলে আসে, তখন আমরা অনেক স্কিল চেঞ্জ করার চেষ্টা করি। কিন্তু ও যে পারফর্ম করে এই জায়গায় এসেছে, এই জিনিসটা কিন্তু আমাদের মাথায় থাকে না, যখন আমরা স্কিল প্রোগ্রাম করি। তাকে আমূল বদলে ফেলতে চাই। আন্ডার-১৫, আন্ডার-১৭, ন্যাশনালে যখন একজন বোলার আছে, কিন্তু সে ন্যাশনালে যে পারফর্ম করে এসেছে, এই জিনিসটা আমরা অফ করে দিয়ে স্কিল প্রোগ্রামে চলে যাই। যখন স্কিল প্রোগ্রামে যাই, তখন ওর যে আসল জিনিসটা ছিল, স্ট্রেন্থের জায়গাটা, সেটা কিন্তু হারিয়ে যায়। এটা বহু দেখেছি আমি। আমরা যখন ন্যাশনাল টিমে খেলছি, আমরা ডিরেক্ট ন্যাশনাল টিমে গিয়ে জিনিসগুলো পেয়েছি কিন্তু। আমি যে জোরে ইনসুইং বল করতে পারি, এই জিনিসটা কোচ কিন্তু ভুলে গেছেন। যেটা আমার মূল শক্তির জায়গা, যে কারণে আমি ওই জায়গায় গেছি। ওরা কী করেছে? আমাকে ইনসুইং করতে দেখে জোর করে আউটসুইং শেখাতে গেছে। ওটা শেষ। তখন আমার দুটোই নষ্ট হয়ে গেছে। এই জিনিসগুলো আমি দেখে এসেছি, শিখেছি বলে আজকে আমি কোচ হিসেবে চিন্তা করি, যার যেটা ন্যাচারাল, আমি ওটা নষ্ট করব না। ও যত দিন ক্রিকেট খেলবে, যত দিন আল্লাহ ওকে দেবেন, ততটুকুই দেবেন, কিন্তু আমি যত চেষ্টা করি না কেন। আপনি ফাইন টিউনিং করতে পারেন একটু একটু, যেটা রানা ঠিক করেছে। ছোট ছোট কাজ, এগুলো করলে ও কখনো নষ্ট হবে না, বরং আরও হেল্প পাবে ডে বাই ডে। সেই জিনিসগুলো ও প্রথমে...

প্রশ্ন

আমি আপনাকে থামিয়ে অন্যদিকে নিয়ে গেলাম। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তো স্টার হয়ে গেল। তারপর?

আলমগীর কবির: না, যখন ও স্টার হলো, তার আগে...যেটা বলছিলেন, ডেব্যু ম্যাচে এতটা রান দিয়েছে, এত কিছু, সিলেটে, হ্যাঁ। আমি তখন প্রাইম ব্যাংকের, মানে প্রিমিয়ার লিগ খেলা চলছে, ওখানে আমি হোটেলে বসে খেলা দেখছি আর চিন্তা করছি, ঠিক আছে, ও রান দিচ্ছে বা যেখানেই বল ফেলছে, এই বলটা কিন্তু ভালো করছে। ও ভালোটা কোন ক্ষেত্রে? ও যে লেংথে বল করছে, এটা জাতীয় লিগের খেলার লেংথ। ওখানে ব্যাটসম্যান তো অনেক সুপিরিয়র ব্যাটসম্যান। কারণ, ও ফার্স্ট ক্লাসে পারফর্ম করে এই জায়গায় এসেছে। তো পারফর্ম করেছে কোথায়? ন্যাশনাল লিগে। মানে ন্যাশনাল লিগে লোকাল ক্রিকেট প্লেয়ারদের বিপক্ষে যে জায়গায় লেংথ ঠিক, ও ওই লেংথেই বোলিং করছে। ও ওর জায়গায় ঠিক আছে। অনেকে অনেক কথা বলেছে। খেলা শেষে অনেকে কল করেছে, হয়তো সাংবাদিক কল করেছে, কেন এ রকম, কী কী ঠিক করতে হবে ওকে, আস্তে বল করে ঠিক করতে বলেন, এই করেন। শুধু অ্যাডভাইসই শুনি, ওরা আমাকে উল্টা অ্যাডভাইস দেয়। আমি বলি, ঠিক আছে ভাইজান, আপনারা বললেন, আমি চেষ্টা করব। কিন্তু ওর সঙ্গে যখনই কথা হতো, জোরের বিকল্প নেই। জোর থাকবে, এরপর জায়গা বলবে, কোনো সমস্যা নেই।

ওর সঙ্গে যখন কথা হয়েছে, গুড, ভালো বল হয়েছে, কিন্তু ন্যাশনাল লিগের একটা প্রভাব ওই জায়গায় আছে, নো প্রবলেম, খেলতে থাকবি, নিজে শিখে যাবি, লেংথটা কী হবে। তাই করে গেছে ও। কিন্তু আমি ওকে কখনো নেগেটিভ কথা বলিনি। আমি সবকিছু ওর খেলা দেখি, যতটুকু পরে দেখি, আগে দেখি, সব সময় আমার কাছে পজিটিভ মনে হয়েছে জিনিসগুলো। যে ও যখন বুঝতে শিখবে, লেংথ কোন জায়গায়, নিজে নিজেই বুঝে নেবে। ওটা হারাবে না। কারণ, ওকে শিখতে হবে, যে যা-ই বলুক না কেন। তারপর যখন পাকিস্তানে গেল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে, আপনারা সবাই জানেন, যখন থেকে ওই হিরো বা স্টার হওয়া শুরু হলো, আমি বুঝেছি, না, ও এখন বুঝে শিখে গেছে। এখন আর শেখানো লাগবে না। কখনো আঙুল ধরে হয়তো রাস্তা পার করেছি নিজের ছেলেমেয়েকে, তারপর যখন বুঝে গেছে, ও নিজে হাটবাজার করতে পারে, এর মানে আমি রিল্যাক্সড, ঘুমাচ্ছি একসময়। ও জানে, কীভাবে পার হতে হবে সব জায়গায়। যখন হাত ধরে নিয়ে গেছি, তারপর পজিটিভ কথা হতো, এখনো পজিটিভ কথা হয়। আমি জানি, ও জানে কাজটা কী করতে হবে। ওই জিনিসটা খুব তাড়াতাড়ি অ্যাচিভ করেছে বলেই হয়তো আজকে সেই রান-আপ থেকে ও নাহিদ রানা হয়ে গেছে।