ফাইনালে ওঠার পর আরিনা সাবালেঙ্কা
ফাইনালে ওঠার পর আরিনা সাবালেঙ্কা

ইউএস ওপেন

‘সিংহাসন’ হারানো ও জয়ের হিসাব চুকানোর লড়াই ফাইনালে

ফাইনালের লাইনআপ এর চেয়ে ভালো হতে পারে না।

সেটা মেয়েদের এককের ফাইনালে। এমন দুজন মুখোমুখি হবেন, যাঁদের একজনের মনে নিশ্চিতভাবে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ফাইনালেরই প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে। আর যিনি সেই সিংহাসনের দখল নিয়েছেন, তাঁর চ্যালেঞ্জও তো কম নয়। সিংহাসনটায় যে যোগ্যতাবলেই বসছেন, সেটা সেই রাজপাট হারানো প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে তো তাঁকে প্রমাণ করতে হবে!

ভণিতা রেখে সরাসরি বলাই ভালো। ইউএস ওপেনে আগামীকালের ফাইনালে শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হবেন দ্বিতীয় বাছাই ইয়েলেনা রিবাকিনা। বাছাইয়ের ক্রমে তাকালেও কিন্তু ফাইনালের জন্য এর চেয়ে ভালো লাইনআপ হতে পারে না। তবে আসল লড়াইটা অন্য জায়গায়।

ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর তৃতীয় নারী হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় ট্রফি জয়ের চ্যালেঞ্জ সাবালেঙ্কার সামনে। ফ্লাশিং মিডোজে এ নিয়ে টানা চতুর্থ ফাইনাল খেলবেন বেলারুশ তারকা। সব মিলিয়ে রিবাকিনার সামনে ফাইনালে আসলে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া কাজাখস্তানের এই তারকাও কম কী!

ফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করেন রিবাকিনা

রিবাকিনার সামনে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সুযোগ। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে রিবাকিনার। গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এ নিয়ে সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবেন দুজন। ২০২৩ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে রিবাকিনাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে সাবালেঙ্কারও।

কিন্তু রিবাকিনাকে নিয়ে এখন সাবালেঙ্কার মনের ভেতরের কাটা ঘা-টা বেশ দগদগে। সেমিফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কার কাছ থেকে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা কেড়ে নেওয়া আগেই নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। নিউইয়র্কের বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আজ সেই সেমিফাইনালেই যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বাছাই কোকো গফকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রিবাকিনা। তাতে কি সাবালেঙ্কার খুশি হওয়ার কথা? সম্ভবত।

যে প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর কাছ থেকে শীর্ষস্থানের সিংহাসন কেড়েছেন, তাঁকে ফাইনালে পেয়ে দেখিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সাবালেঙ্কার আর যা–ই হোক, মন খারাপ হওয়ার কথা নয়।

সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের সামনে দাঁড়াতে পারেননি পেগুলা

বরং জেদটা মনের ভেতর চেপেই সেমিফাইনালের কোর্টে নেমেছিলেন সাবালেঙ্কা। তাতে ঝড়টা গেছে জেসিকা পেগুলার ওপর দিয়ে। সরাসরি সেটে জয়ের পথে আজ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পাত্তাই দেননি সাবালেঙ্কা। ৭-৫, ৬-২ গেমে জয়ের পথে পাওয়ার টেনিস এবং শক্তিশালী গ্রাউন্ড স্ট্রোকে পেগুলাকে স্রেফ উড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের সামনে পেগুলাকে অসহায়ে লেগেছে। সাবালেঙ্কা যেখানে ২৯টি উইনার হাঁকান, সেখানে পেগুলা মাত্র ১২টি। এ জয়ে ওপেন–যুগে টানা সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম হার্ডকোর্ট ফাইনালে ওঠার রেকর্ড নিজের করে নিলেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ইউএস ওপেনে প্রতিটি ফাইনালে উঠলেন।

ম্যাচ আগে হওয়ায় সাবালেঙ্কা রিবাকিনার আগে ওঠেন ফাইনালে, তারপর রিবাকিনা। অর্থাৎ ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাকে পান, সেটাই দেখার অপেক্ষা ছিল তাঁর। সেখানে রিবাকিনাকে পেয়ে যাওয়ায় আসলে সিংহাসন হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও পেলেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু সেই সুযোগটা নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে সবার আগে তাঁকে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হতো। সে জন্য সাবালেঙ্কা কতটা মরিয়া ছিলেন শুনুন তাঁর মুখেই, ‘ভীষণ ব্যাকুল ছিলাম। খুব করে ফাইনালে উঠতে চেয়েছি এবং এখন ট্রফিও নিজের করে নিতে চাই। তৈরি হয়েই ছিলাম। থাকা। জিততে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলাম।’

জয়ের পর গফের সঙ্গে রিবাকিনা

সেই প্রস্তুতি কতটা ছিল, তা বুঝে নিতে পারেন পেগুলার মুখেই, ‘সত্যি বলতে, আজ আমার তেমন কিছু করার ছিল কি না, জানি না। আমার মনে হয়, আজ সে যেভাবে খেলেছে, তাতে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ খেলোয়াড়কে হারিয়ে দিত। সম্ভবত চলতি বছরে তার সেরা পারফরম্যান্স।’

সাবালেঙ্কা যে প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসছেন, রিবাকিনা তা সম্ভবত আন্দাজ করে নিয়েছেন। ফাইনাল সামনে রেখে তাই বলেছেন, ‘আমার মনে হয় খেলার ধার অবশ্যই আরও বাড়াতে হবে। আজকের চেয়ে অনেক ভালো সার্ভিস করতে হবে এবং আক্রমণাত্মক খেলা ধরে রাখতে হবে।’

২০১৩ সালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-সেরেনা উইলিয়ামস ফাইনালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নারী এককের দুই শীর্ষ বাছাই। এবারের ফাইনালের ফল যা–ই হোক না কেন, আগামী সোমবার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠবেন রিবাকিনা। তার আগে ট্রফি জয়ের এই ম্যাচটা জিততে পারলে রিবাকিনার জন্য সেটা হবে সোনায় সোহাগা। আর সাবালেঙ্কা জিতলে?

অনেকের মনে হয়তো তিনিই র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা হয়ে টিকে থাকবেন!