
অনলাইন পেমেন্ট সমস্যা সমাধানে ভারচুয়াল কার্ড চালু করল ডাচ-বাংলা ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই ভারচুয়াল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যক্তি পর্যায়ের অ্যাপস ডেভেলপার বা প্রোগ্রামাররা অনলাইনে লেনদেন করতে পারবেন। এ কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস (উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, ব্ল্যাকবেরি, ফায়ারফক্স ইত্যাদি) গেমস, সফটওয়্যার লাইসেন্স, মোবাইল কিংবা গেমস অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ভেন্ডর সার্টিফিকেশন পরীক্ষার ফি, যেকোনো ডোমেইন নিবন্ধন, হোস্টিং, ক্লাউড সেবা, হ্যাকাথন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
এই কার্ড গ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে প্রোগ্রামার, ডেভেলপার বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রমাণ দেখাতে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) থেকে পাওয়া সনদ নিতে হবে ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। এর আগে বেসিসের সদস্য কোম্পানিরা এ ধরনের সুবিধা পেতেন। এখন থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে ভারচুয়াল কার্ড গ্রহণ করা যাবে।
আজ বুধবার বেসিস ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ভারচুয়াল কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এস. তাবরেজ ও বেসিসের পরিচালক সানি মো. আশরাফ খান প্রমুখ।
শামীম আহসান বলেন, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ অনলাইন বাজারে ছাড়ার জন্য বিশ্বখ্যাত অ্যাপ স্টোরে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিবন্ধিত হতে হয়। এছাড়া অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কোর্স কিংবা ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। এ অর্থ দেওয়ার সহজ সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশের ব্যক্তি পর্যায়ের অ্যাপস নির্মাতা বা প্রোগ্রামাররা অনেকেই নানা সমস্যার মধ্যে ছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি করছিল বেসিস। সম্প্রতি ‘ভারচুয়াল কার্ড’ চালুর নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বছরখানেক আগে বৈদেশিক মুদ্রা (এফই) বিজ্ঞপ্তি নং ২৩-এ ভারচুয়াল কার্ড চালুর জন্য বিভিন্ন ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড তাদের দেশব্যাপী সব শাখায় এই সেবা চালু করেছে।