
প্রায়ই ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা নিয়ে টুইটারে লেখেন টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। বিটকয়েন ও ডোজকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির সাম্প্রতিক অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির সেটি একটি কারণ বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে গতকাল ৮ মে মার্কিন টিভি চ্যানেল এনবিসির ‘স্যাটার্ডে নাইট লাইভ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে টুইটারে তাঁর ৫ কোটি ৩০ লাখ অনুসারীকে দিলেন ভিন্ন বার্তা।
এককভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের কথা না বললেও, বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন তিনি।
ইলন মাস্ক লিখেছেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি আশাব্যঞ্জক, তবে বিনিয়োগে সাবধানতা অবলম্বন করুন।’
সে টুইটের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে টিএমজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিডিওর লিংক জুড়ে দিয়েছেন মাস্ক। সেখানেও একই মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
টিএমজিকে মাস্ক বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, নিজের আজীবনের সঞ্চয় ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করা উচিত না।’
পরিষ্কার করে বলছি, নিজের আজীবনের সঞ্চয় ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করা উচিত না।ইলন মাস্ক, সিইও, টেসলা
সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘তবে আপনি যদি অনুমান করে কিছুটা মজা পেতে চান, তবে এই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ মুদ্রা ক্রিপ্টো হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। পরের প্রশ্নটি তাহলে, কোন মুদ্রা সেটি? হয়তো একাধিক। তবে এই মুহূর্তে এর সবকিছু কেবলই অনুমান।’
অনেকেই অবশ্য ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সঞ্চয়ের মুদ্রা হিসেবে মানতে নারাজ। বিশেষজ্ঞরাও বলেন, ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কিনতেই যদি হয়, তবে সেটুকুই বিনিয়োগ করুন যা হারালেও আপনার খুব একটা ক্ষতি নেই।
‘ফিন’ নামের এক ফিনটেক নিউজলেটারের সম্পাদক জেমস লেডবেটার সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য যেহেতু কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত না, তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ে এর মূল্য বাড়বে না কমবে, তা পূর্বানুমান করা প্রায় অসম্ভব।’
তবে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে ইলন মাস্ক বিশেষভাবে ডোজকয়েনের সমর্থক। টিএমজিকে ইলন মাস্ক বলেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মজা করার জন্য অনেকটা কৌতুক করে ডোজকয়েন উদ্ভাবন করা হয়। তবে ভাগ্য বিদ্রূপ ভালোবাসে। আর সবচেয়ে বিদ্রূপাত্মক ফল কী হতে পারে? যে মুদ্রা মজা করার জন্য শুরু হয়েছে, তা এখন কাজের মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, আকাশছোঁয়া মূল্য এখন।’
সব ক্রিপ্টোকারেন্সিই ঝুঁকিপূর্ণ এবং মূল্য দ্রুত ওঠানামা করে, তবে লেডবেটার বলেছেন, যখন আপনি ডোজকয়েন কিনছেন, তখন আপনার বিনিয়োগের প্রায় পুরোটাই খোয়ানোর আশঙ্কা থাকে। সে সঙ্গে এর মূল্য যত দ্রুত উঠছে, তত দ্রুত নামতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন লেডবেটার।
ইলন মাস্ককে আগে প্রায়ই ডোজকয়েন নিয়ে টুইটারে মজা করতে দেখা যেত। এদিকে তাঁর প্রতিষ্ঠান টেসলা দেড় শ কোটি ডলারের বিটকয়েন কিনেছে। আবার বিটকয়েনের বিনিময়ে গাড়ি কেনার সুযোগও রেখেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠানটি।