বা ং লা ২ য় প ত্র

এইচএসসি পরীক্ষার বিশেষ প্রস্তুতি-৩৭

প্রশ্নোত্তর 
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ২য় পত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: বাংলা ব্যাকরণের পরিধি বা আলোচ্য বিষয় সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
অথবা, ব্যাকরণ কাকে বলে? ব্যাকরণে কী কী বিষয় আলোচিত হয়?
অথবা, ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় কী কী?
উত্তর: ব্যাকরণ: ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ব্যাকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, যে শাস্ত্রে কোনো ভাষাকে বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ, প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়, সে শাস্ত্রকে বলে
সে ভাষার ব্যাকরণ।
ব্যাকরণের পরিধি বা আলোচ্য বিষয়: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে বাংলা ব্যাকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যাকরণবিদদের মতে, ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় তিনটি। যেমন— ১. ধ্বনিতত্ত্ব
(Phonology)
২. রূপতত্ত্ব (Morphology) ৩. বাক্যতত্ত্ব (Syntax)
ধ্বনিতত্ত্ব: ব্যাকরণের এ অংশে ধ্বনি, ধ্বনির উচ্চারণ, ধ্বনির বিন্যাস, ধ্বনির পরিবর্তন, বর্ণ, সন্ধি ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান প্রভৃতি ধ্বনি সম্বন্ধীয় বিষয় আলোচিত হয়।
রূপতত্ত্ব: এ অংশে শব্দের প্রকার, পদের পরিচয়, শব্দ গঠন, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, লিঙ্গ, বচন, ধাতু, শব্দরূপ, কারক, সমাস, ক্রিয়া-প্রকরণ, ক্রিয়ার কাল,
ক্রিয়ার ভাব, শব্দের ব্যু ৎপত্তি ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা থাকে।
বাক্যতত্ত্ব: বাক্য, বাক্যের অংশ, বাক্যের প্রকার, বাক্য বিশ্লেষণ, বাক্য পরিবর্তন, পদক্রম, বাগ্ধারা বা বাগিবধি বা বাক্যরীতি, বাক্য সংকোচন, বাক্য সংযোজন, বাক্য বিয়োজন,
যতিচ্ছেদ বা বিরাম চিহ্ন প্রভৃতি বিষয় এ অংশে আলোচিত হয়।
উপরের তিনটি বিষয় ছাড়াও ব্যাকরণের আরও দুটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে। যেমন:
ক. ছন্দ প্রকরণ: এ অংশে ছন্দের প্রকার ও নিয়মসমূহ আলোচিত হয়।
খ. অলংকার প্রকরণ: অলংকারের সংজ্ঞা, প্রকার ইত্যাদি বিষয় এ অংশে আলোচিত হয়।
প্রশ্ন: সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা বলতে কী বুঝ? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর প্রায় সব ভাষারই লেখ্য ও কথ্যরূপ আছে। বাংলা ভাষার লেখ্যরীতি হিসেবে সাধু এবং কথ্যরীতি হিসেবে চলিতরীতির উদ্ভব হয়েছে।
সাধু ভাষা: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দ সম্পদ, ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ এবং কিছু ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন
সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।
ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সাধুরীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘সাধারণত গদ্য সাহিত্যে ব্যবহূত বাঙালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।’
উদাহরণ: জন্মিলে মরিতে হয়, আকাশে প্রস্তর নিক্ষেপ করিলে তাহাকে ভূমিতে পড়িতে হয়, খুন করিলে ফাঁসিতে যাইতে হয়, চুরি করিলে কারাগারে যাইতে হয়, তেমনি ভালোবাসিলেই কাঁদিতে হয়।
অপরাপরের মতো ইহাও জগতের একটি নিয়ম।
চলিত ভাষা: তদ্ভব শব্দ, ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং লেখকের মনোভাব অনুযায়ী পদবিন্যাস প্রণালির ব্যবহারসহ যে স্বচ্ছন্দ, চটুল ও সর্বজনীন সাহিত্যিক গদ্যরীতি মুখের ভাষার আদলে গড়ে
উঠেছে, তার নাম চলিত ভাষা। বাংলাদেশের উত্তরাংশসহ কলকাতা ও ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষিত জনগণের মুখের ভাষার আদলে যে শক্তিশালী সাহিত্যিক গদ্য প্রবর্তিত হয়, তাই চলিত
ভাষা বা চলিত গদ্য বলে খ্যাত। প্রমথ চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ চলিত গদ্যের সার্থক রূপকার।
উদাহরণ: মেয়ের বয়স অবৈধ রকমের বেড়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তার চেয়ে কিঞ্চি ৎ উপরে আছে সে জন্যই তাড়া।
প্রশ্ন: গুরুচণ্ডালী দোষ কাকে বলে? গুরুচণ্ডালী দোষ দূষণীয় কেন? উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো।
অথবা, ‘ভাষায় সাধু ও চলিতরীতির মিশ্রণ দূষণীয়, ইহা বর্জন অবশ্যই কর্তব্য।’—আলোচনা করো।
উত্তর: গুরুচণ্ডালী দোষ: বাংলা ভাষার দুটি রূপ আছে। তার মধ্যে একটি সাধু এবং অপরটি চলিত। উভয়রীতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। তাই একই রচানায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ
অসংগত ও অশুদ্ধ। ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলা হয়।
সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে ভাষা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে কলুষিত হয়ে পড়ে। তাই সাধু ও চলিতরীতির মিশ্রণ দূষণীয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এ জন্য উভয়রীতির মিশ্রণ পরিহার করা অবশ্যই
কর্তব্য।
# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল

 প্রভাষক