জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলা ২য় পত্র

ব্যাকরণ 
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা ২য় পত্র থেকে প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

শব্দ ও পদ
বিশেষ্য পদ: বাক্যে ব্যবহূত যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কাজ, বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। এক কথায়, কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন: নজরুল, মানুষ, বই, খাতা, লেখাপড়া, পশু, সভা, সমিতি, ঢাকা, খুলনা, শয়ন, ভোজন ইত্যাদি।
বিশেষ্য পদের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। যেমন:
১. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, নদী, সমুদ্র, পর্বত, গ্রন্থ ইত্যাদির নির্দষ্টি নাম বোঝায়, তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে। একে নামবাচক বিশেষ্যও বলা হয়। যেমন:
ব্যক্তির নাম: আলাওল, বঙ্কিম,
প্রাণীর নাম: গরু, ছাগল
স্থানের নাম : খুলনা, ঢাকা
নদ-নদীর নাম: ব্রহ্মপুত্র, বুড়িগঙ্গা
সমুদ্রের নাম: বঙ্গোপসাগর
পাহাড়-পর্বতের নাম: হিমালয়
গ্রন্থের নাম: গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা
বাক্যে প্রয়োগ:
কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি।
সুন্দরবন খুলনা জেলায় অবস্থিত।
নজিবের মামা লন্ডনে থাকেন।
২. শ্রেণিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, নদী, পর্বত ইত্যাদির সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে শ্রেণিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: মানুষ, পাখি, পর্বত, শহর, সাগর ইত্যাদি।
সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যর সঙ্গে শ্রেণিবাচক বিশেষ্যর আপাত মিল লক্ষ করা গেলেও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যর দ্বারা সুনির্দষ্টি কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী বা স্থানের নাম বোঝায়।
কিন্তু শ্রেণিবাচক বিশেষ্য পদ এসবের সাধারণ বা অনির্দষ্টি নাম প্রকাশ করে। যেমন:
সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (নির্দষ্টি) ১. মানুষটি ক্ষুধায় কাতর।
২. পোড়াবাড়ির চমচম খুব মিষ্টি।
৩. আমি অগ্নিবীণা' পড়েছি। ৪. ময়না পাখি কথা বলে।
শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (অনির্দষ্টি.
১. মানুষ মরণশীল।
২. মিষ্টি সবাই পছন্দ করে না।
৩. আমি বই পড়ছি।
৪. পাখি আকাশে ওড়ে।
৩. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা একজাতীয় ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: জনতা, সভা, সমিতি, দল, পাল, মালা, সারি ইত্যাদি।
বাক্যে প্রয়োগ:
জনতা ক্ষেপে গেলে কারও রক্ষা নেই। এখানে একটা বহুমুখী সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে।
দল বদল করে আর কত দিন চলবে?
ইংরেজদের নেৌবহর বিশ্বখ্যাত।
আমি সেনাবহিনীর কুচকাওয়াজ দেখেছি।
৪. ভাববাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।
ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদ এক নয়। যেমন :
ভাববাচক বিশেষ্য
১. কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।
২. বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি।
১. আমি কোর্টবাড়ি দেখেছি।
২. বাবা শুয়েছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
শিক্ষক, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল