
ছবি তোলার ভীষণ শখ গোয়েন্দা গল্পের পাঁড় ভক্ত রাইসার। চঞ্চলা রাইসার ইচ্ছা করে তিন গোয়েন্দা—কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড আর মুসা আমানের সঙ্গে তাঁদের গোয়েন্দা দলের হয়ে বিভিন্ন রহস্য উদ্ঘাটনে যাওয়ার। কিন্তু পরীক্ষার দৌড়াদৌড়ি, স্থাপত্যবিদ্যার নানা কারিগরি আঁকাআঁকির কারণে আর তা হয়ে ওঠে না। শুধুই কি এই তিন গোয়েন্দা? জানা গেল ফরাসি দুঁদে গোয়েন্দা টিনটিন ও তাঁর পোষা কুকুর কুট্টুসের সঙ্গেও নাকি রাইসা অভিযানে বের হতে চান। কিন্তু তা আর হলো কই? রাইসা বলেন, ‘ইশ্, আমি যদি কল্পনার সেই রাজ্যে টিনটিনের সঙ্গে কঙ্গো, রাশিয়া; তিন গোয়েন্দার সঙ্গে রকি পর্বতে ঘুরে বেড়াতে পারতাম—কী মজাই না হতো! থাকত না পড়াশোনার চাপ। সারা দিন রহস্যের সমাধান আর ছবি তুলতে তুলতে সময় কেটে যেত।’ এভাবেই নিজের কল্পনার জগতের গল্প করছিলেন রাইসা। বর্তমানে তাসফিয়া মুনতাসি রাইসা আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিন গোয়েন্দা, টিনটিন আর ক্যানন-৫ ডি মার্ক টু ক্যামেরার সঙ্গে চলে তাঁর দিনভর প্রেম, আড্ডা আর খুনসুটি। শুধুই কি খুনসুটি আর দৌড়াদৌড়ি? বন্ধুবান্ধবেরা জানান, রাইসার নাকি বেশ ভালো গানের গলা। রাইসা ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা করেন। স্কুল-কলেজে থাকতে রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে বেশ কয়েকবার পুরস্কারও জিতেছিলেন রাইসা। কিন্তু এখন সবকিছু ছাড়িয়ে পেয়ে বসেছে ছবি তোলার নেশা। এমনও দিন গেছে, পরীক্ষা বিকেলে কিন্তু রাইসা পুরো সকালটা কাটিয়ে দিয়েছেন ক্যামেরা নিয়ে।
গৃহিণী মা নাহিমা আকতার, ব্যবসায়ী বাবা এ জে এম সালাহউদ্দিন আর দুই ভাইকে নিয়ে রাইসার পৃথিবী। যদিও বাবা-মা থাকেন চট্টগ্রামে, কিন্তু পড়াশোনার জন্য রাইসাকে ছুটে আসতে হয়েছে ব্যস্ত রাজধানীতে।
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত মোড়গুলোর ছবি তোলায় মনোযোগ বেশি রাইসার। ‘মোড়ে মোড়ে জীবনের মেলা বসে। জীবনের সত্যিকারের মানে খুঁজে পাওয়া যায় রাস্তার মোড়গুলোতে। কেউ জানে না কে কোন দিকে যাবে, কিন্তু সবাই ব্যস্ত। আর ব্যস্ততা মানেই ছোটাছুটি, ছবি তোলার নানা সুযোগ।’ এভাবেই ছবি তোলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান রাইসা। লোহালক্কড়ের জঞ্জালের এই শহরে রাইসার স্বপ্ন একটা ফটো স্টুডিও করা। সেই যে বিশ শতকের মাঝামাঝিতে বটতলার নিচে পর্দাঘেরা ক্যামেরাওয়ালা চাচা ছবি তুলতেন, তেমনই এক স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে জীবন ও স্বপ্ন এক করে রাঙিয়ে তুলবেন রাইসা। রাইসা বলেন, ‘ভবিষ্যতে বড় স্থপতি হতে চাই, সেই সঙ্গে হতে চাই বড় আলোকচিত্রী।’