বা ং লা ১ ম প ত্র

২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিশেষ প্রস্তুতি

মাসুক হেলাল
মাসুক হেলাল

সৃজনশীল প্রশ্ন  পরার্থে
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ১ম পত্রের পরার্থে কবিতার প্রেক্ষাপট ও মূলভাব নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ,}
রাজ্যের কুশল কার্যে সদা হাস্য মুখ।
কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার,
মানুষ তারেই বলি, মানুষ কে আর?
ক. কামিনী রায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? ১
খ. ‘লুকানো বিষাদ’কে অন্ধকার রাতে তারার স্নিগ্ধ আলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন? ২
গ. উদ্দীপকে ‘পরার্থে’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. ‘উদ্দীপকের জীবনদর্শনই ‘পরার্থে’ কবিতার মূল চেতনা ’ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। ৪
উত্তর: ক. কবি কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
উত্তর: খ. লুকানো বিষাদকে অন্ধকার রাতে স্নিগ্ধ আলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কারণ দুঃখ থেকে মহৎ কিছুর সৃষ্টি হয়।
অন্ধকার অমাবস্যার রাতে যখন চাঁদের আলো থাকে না, তখন তারার মিটিমিটি আলোই পথ চলার একমাত্র ভরসা। তারার এই স্নিগ্ধ আলোকে লুকানো বিষাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কবি কামিনী রায় মনে করেন, মানুষ তার জীবনে প্রাপ্ত বিভিন্ন বিষাদ-বেদনা জগৎভরে প্রকাশ না করে অন্তরে লুকিয়ে রাখলে তা ভবিষ্যতে দুঃখ জয় করতে শক্তি ও সাহস জোগাবে। লুকানো বিষাদ মানুষের মনে রাতে স্নিগ্ধ তারার মতো সুমধুর আলো ছড়িয়ে থাকে। রাতে তারা যেমন মানুষকে আলো দিয়ে মহৎ কাজ করে, তেমন দুঃখ থেকে মহৎ সৃষ্টি হয়।

উত্তর: গ. উদ্দীপকে ‘পরার্থে’ কবিতার পরোপকারে আত্মনিয়োগ করার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
কবি কামিনী রায় ‘পরার্থে’ কবিতায় বলেছেন, পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই মানবজনমের সার্থকতা। তিনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বারণ করেছেন। তিনি অন্যের হাসিমাখা মুখ দেখে নিজের দুঃখ ভুলে যেতে বলেছেন। অন্যের কল্যাণে নিয়োজিত হয়ে নিজের কষ্টের কথা ভুলে থাকতে বলেছেন। তিনি অন্যের সুখে সুখী ও পরের দুঃখে দুঃখী হতে বলেছেন। তিনি মনে করেন, মানুষের মন অসার নয়, এটি সংবেদনশীল হলেও ভেঙে পড়বে না। মানবজীবনের সার্থকতা পরের কল্যাণেই নিহিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ তাকেই বলে, যে পরের কল্যাণ করে আনন্দ পায়। যে নিজের সুখ চায় না, যে অন্যের কুশল করতে হাসিমুখে নিয়োজিত থাকে—সে-ই প্রকৃত মানুষ। উদ্দীপকের পঙিক্ত দ্বারা পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে সুখ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘পরার্থে’ কবিতায়ও পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

উত্তর: ঘ. উদ্দীপকের জীবনদর্শনই ‘পরার্থে’ কবিতার মূল চেতনা। কারণ, ‘পরার্থে’ কবিতায় কবি বলেছেন, পৃথিবীতে কেউ আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করতে আসেনি। প্রত্যেকে পরের হিতে ব্রতী থাকতে এসেছে। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, নিজের সুখ না চেয়ে পরের কল্যাণ করার কথা। যে এরূপ করে, সে-ই প্রকৃত মানুষ।
‘পরার্থে’ কবিতায় কবি কামিনী রায় বলেছেন, মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসবে, এটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় এত বিষাদ আসবে, যা মানবজীবনকে বিষিয়েও তুলতে পারে। তাই বলে সারা জীবন কেঁদে কেঁদে মানবজনমের মতো দুর্লভ জনমকে ব্যর্থ করা অনুচিত। তিনি বিষাদকে চেপে রাখতে বলেছেন। কেননা, বিষাদ প্রকাশে আত্মমর্যাদা লোপ পায় আবার লুকানো বিষাদ থেকে মহৎ কিছুর সৃষ্টি হয়। তিনি বলেছেন, পরের সুখ দেখে নিজের বিষাদ চেপে রাখতে। কারণ, তিনি মনে করেন, এ পৃথিবীতে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য মানবজীবন নিয়ে কেউ স্বীয়স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি, এসেছে পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে। ‘পরার্থে’ কবিতার মূল বক্তব্য এই যে পরের কল্যাণ করে মানবজীবনকে সার্থক করে তোলা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ তাকেই বলা যেতে পারে যে অন্যের কল্যাণ করে আনন্দ পায়। নিজের সুখ না চেয়ে যে রাজ্যের সবার কুশলকাজে, পরোপকারে হাসিমুখে আত্মনিয়োগ করে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ সে-ই হবে, যে মানবজনম সার্থক করবে। আর মানবজনমের সার্থকতা হলো পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে ‘পরার্থে’ কবিতায় ও উদ্দীপকে পরের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখার কথা বলা হয়েছে, যা ‘পরার্থে’ কবিতার মূল চেতনা প্রকাশ করে। অতএব, উদ্দীপকে জীবনদর্শনই ‘পরার্থে’ কবিতার মূল চেতনা।

সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল, ঢাকা