
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য মার্স সোসাইটি আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬’–এ তৃতীয় স্থান অর্জন করায় নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউআইইউ মার্স রোভার’ দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউআইইউ মার্স রোভার দলের সদস্যদের লালগালিচার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিকসহ শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউআইইউ মার্স রোভার দলের এই অর্জন হঠাৎ আসেনি। কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে দলটি। ২০২৫ সালে তাদের তৈরি রোভার ‘অ্যাক্সিওস’ বিশ্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিল এবং টানা চার বছর এশিয়ার সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। একই বছর বিজ্ঞানভিত্তিক মিশনে শতভাগ নম্বর অর্জন করে ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জের ইতিহাসে প্রথম এশীয় দল হিসেবে ‘সেরা বিজ্ঞানী দল’ পুরস্কারও পেয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ইউআইইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘আমরা এবার তৃতীয় হয়েছি, কিন্তু এইটাই শেষ নয়। আমাদের প্রথম হতে হবে এবং এই কাজগুলো কীভাবে দেশের ও দেশের মানুষের উপকারে আসে, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।’ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চের (আইইএআর) নির্বাহী পরিচালক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক এম রিজওয়ান খান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান “কোয়েস্ট ফর এক্সেলেন্স”। এই এক্সেলেন্স আমরা শুধু যে নামে নয়, তার উদাহরণ ২০২৫ সালে “ইউআইইউ মেরিনার” প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিশ্বে পঞ্চম এবং ইউআইইউ ক্যানস্যাট একাদশতম হয়েছিল।’
প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ দল ৪০০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট অর্জন করে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, পরিবেশ বিশ্লেষণ ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ সক্ষমতায় অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়ে দলটি অর্জন করেছে ‘বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম রিকগনিশন’ বা সেরা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা স্বীকৃতি। এই সম্মাননা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুধু ইউআইইউ নয়, এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ব্র্যাকু মঙ্গোল–তোরি’ দল সপ্তম ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ‘মিস্ট মঙ্গোল বারোতা’ দল একাদশ স্থান অর্জন করেছে। ফলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।