
রেক্স লি আসুসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসিফিক কমার্শিয়াল বিজনেসের মহাব্যবস্থাপক। তিনি ২০০৭ সালে আসুসে যোগ দেওয়ার পর এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কৌশল ও বাজার সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কম্পিউটার, টেকসই প্রযুক্তি উদ্যোগ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বাজার সম্প্রসারণে কাজ করা রেক্স লি বাংলাদেশে এসেছিলেন আসুসের নতুন ল্যাপটপ উন্মোচন করতে। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেক্স লি বাংলাদেশের জন্য আসুসের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মো. আতিফুজ্জামান
কম্পিউটার ব্যবসার জন্য বাংলাদেশের বাজার কেমন?
রেক্স লি: বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে, ১৭ কোটিরও বেশি মানুষ। একই সঙ্গে কয়েক বছরে আমরা ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয়, এটি খুবই ইতিবাচক একটি সংখ্যা। বিশ্বের কয়টি দেশে প্রতিবছর এ ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে? তাই আমরা বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে দেখি। হয়তো বর্তমানে এখানকার বাজারের আকার খুব বড় নয়, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক বছরে এটি অনেক বড় হবে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের কোন কোন ক্ষেত্র আসুসের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
রেক্স লি: বর্তমানে মানুষ বাণিজ্যিক কম্পিউটারের বাজারের দিকে তাকাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আমরা সব ক্ষেত্রেই কাজ করতে চাই। কারণ, আমাদের লক্ষ্য হলো বাজারে বাণিজ্যিক কম্পিউটারের শীর্ষ ব্র্যান্ড হওয়া। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে বাজারে আমাদের বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারণ করছি।
বাংলাদেশে আসুসের পণ্য উৎপাদন বা সংযোজনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
রেক্স লি: এই মুহূর্তে আমাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পিসির চাহিদা সম্পর্কে আসুস কী প্রত্যাশা করছে?
রেক্স লি: আমরা মনে করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের উৎপাদনশীলতা অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি নিজেও প্রতিদিন অনেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে অনেক মানুষ ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। তাই আমরা এখন যন্ত্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমাধান নিয়ে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা যন্ত্রের ভেতরে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্র ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বিত পদ্ধতি অথবা অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা, এগুলোর মধ্য থেকে বেছে নিতে পারবেন। আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ সমাধান দিতে চাই। আমি মনে করি, আপনারা এ কথা অনেকবার শুনেছেন। যাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবেন, তাঁরা যাঁরা এটি ব্যবহার করবেন না, তাঁদের তুলনায় এগিয়ে থাকবেন। তাই আমরা আমাদের পণ্যের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশকে এগিয়ে নিচ্ছি।
বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীর জন্য উন্নত ল্যাপটপ এখনো ব্যয়বহুল। আসুস কি আরও সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চক্ষমতার যন্ত্র বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা করছে?
রেক্স লি: সম্প্রতি র্যাম ও এসএসডির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। তবে কোনোভাবে আমাদের সদর দপ্তর কিছু ডিডিআর৪ র্যাম মজুত নিশ্চিত করতে পেরেছে। তাই আমরা এখন সেগুলো বাজারে পাঠাচ্ছি। চতুর্থ প্রান্তিক ও পরবর্তী বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমরা এগুলো বাজারে আনব। এতে মেমোরির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে বলে আমরা মনে করি।
আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে আসুসের কী লক্ষ্য রয়েছে?
রেক্স লি: আমরা বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসা আরও বাড়াতে চাই। এ জন্য জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের কার্যালয় আরও বড় জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করে যেতে চাই।
প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়তে বাংলাদেশের তরুণদের কোন দক্ষতাগুলো শেখা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
রেক্স লি: আমি মনে করি, বর্তমানে আমরা প্রোগ্রামিং এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে বেশ শক্তিশালী। এই দক্ষতাগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। অবশ্যই আমাদের নিয়মিত নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে এবং নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে। শুধু অন্যদের মতো একইভাবে চললে হবে না। নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা বাজারে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভালো উপায়। বর্তমান শক্তির জায়গাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
ধন্যবাদ।
রেক্স লি: ধন্যবাদ