
ইউটিউবে কোনো নির্মাতার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব পরিমাপের অন্যতম সূচক হলো গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা। এই সংখ্যা জনপ্রিয়তা ছাড়াও একজন নির্মাতার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেরও ইঙ্গিত দেয়। সেই বিবেচনায় নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও নির্মাতা জিমি ডোনাল্ডসন, যিনি ইউটিউবে ‘মিস্টারবিস্ট’ নামে পরিচিত।
ইউটিউবের তথ্য অনুযায়ী, মিস্টারবিস্টের চ্যানেল ৫০ কোটি ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ইউটিউবের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি নির্মাতা হিসেবে ৫০ কোটি গ্রাহক অর্জনের রেকর্ড গড়লেন। ইউটিউবের প্রায় দুই দশকের ইতিহাসে এর আগে কোনো ব্যক্তিগত চ্যানেল এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষ এখন তাঁর চ্যানেলের গ্রাহক।
মিস্টারবিস্টের সাফল্য কোনো একক ভাইরাল ভিডিও বা আকস্মিক জনপ্রিয়তার ফল নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে আধেয় বা কনটেন্টের মান ও পরিসর বাড়ানোর ফলেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। কিশোর বয়সে ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ শুরু করেন জিমি ডোনাল্ডসন। শুরুতে তাঁর ভিডিওগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে সাধারণ। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি ভিডিও তৈরির ধরন বদলাতে থাকেন। দর্শকের আগ্রহ, প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তন এবং নতুন প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিয়মিত নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করেছেন। বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার, ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা এবং বিশাল আয়োজনভিত্তিক ভিডিও দ্রুতই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। এসব ভিডিওর জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাঁর দর্শক ও সাবস্ক্রাইবার।
মিস্টারবিস্ট চ্যানেলের ভিডিওগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল পরিসর। অনেক নির্মাতা নির্দিষ্ট বিষয় বা দর্শকগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে কাজ করলেও জিমি ডোনাল্ডসন এমন কনটেন্ট তৈরি করেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাঁর অনেক ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীরা বিপুল অর্থ বা মূল্যবান পুরস্কারের জন্য নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এসব আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে সেট নির্মাণ, বড় প্রযোজনা দল গঠন এবং দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়। ফলে তাঁর অনেক ভিডিওই প্রচলিত টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সমমানের প্রযোজনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবারদের নিয়ে আয়োজিত বৃহৎ প্রতিযোগিতাগুলোও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শুরুর দিকে জিমি ডোনাল্ডসনের তৈরি ভিডিও মূলত ইংরেজি ভাষাার দর্শকদের জন্য তৈরি হলেও পরে বিভিন্ন ভাষার সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি এমন ধরনের ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যা ভাষা না বুঝলেও সহজে উপভোগ করা যায়। এর ফলে তার দর্শকসংখ্যা দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ নিয়মিত তাঁর ভিডিও দেখেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া