
বিমানবন্দর, হোটেল, রেস্তোরাঁ, রেলস্টেশন বা গণপরিবহনে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে অপরিচিত ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে অসতর্কভাবে যুক্ত হলে ব্যক্তিগত তথ্য ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলেই যে বিপদে পড়তে হবে, এমন নয়। তবে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আগে ও পরে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় নিরাপদ থাকার পাঁচ পদ্ধতি জেনে নেওয়া যাক।
পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার আগে প্রথমেই নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জানতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বিমানবন্দর, হোটেল, রেস্তোরাঁ বা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সহায়তা নিতে হবে। কারণ, সাইবার অপরাধীরা বৈধ নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি করে থাকে। আর তাই নেটওয়ার্কের নাম নিয়ে সন্দেহ হলে অনুমান করে কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুবিধাও বন্ধ রাখতে হবে।
পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ভিপিএন ব্যবহার করলে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ভিপিএন আপনার যন্ত্র ও ইন্টারনেটের মধ্যে একটি এনক্রিপ্ট করা সংযোগ তৈরি করে। ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ব্যক্তির পক্ষে আপনার ইন্টারনেট কার্যক্রম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়। তবে ভিপিএন ব্যবহার করলেই অনলাইনের সব ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি দূর হয়ে যায় না। তাই ভিপিএন অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা আগেই পরীক্ষা করতে হবে।
পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ফাইল শেয়ারের সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে ফাইল শেয়ারের সুবিধা চালু থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। এর ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য যন্ত্রগুলোর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েব ঠিকানা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। বিশেষ করে ওয়েবসাইটের ঠিকানার শুরুতে ‘এইচটিটিপিএস’ আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া খুব বেশি প্রয়োজন না হলে পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় অনলাইন ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, অফিসের গোপনীয় সিস্টেম বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে ব্যবহার না করাই ভালো।
পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার শেষে অবশ্যই সংযোগটি ফরগেট নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে সেটি থেকে সাইন আউট করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সংযোগের সুবিধা বন্ধ করতে হবে।