স্মার্টফোনের চার্জ বিভিন্ন কারণে বেশি খরচ হয়
স্মার্টফোনের চার্জ বিভিন্ন কারণে বেশি খরচ হয়

রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও চার্জ কমে যাওয়ার ৭ কারণ

রাতে ঘুমানোর আগে ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ ছিল। কিন্তু সকালে উঠে দেখলেন, ব্যবহার না করার পরও ব্যাটারির চার্জ ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকেই মনে করেন, হয়তো ব্যাটারির সমস্যার কারণে এমনটি ঘটে থাকে। আসলে তা নয়, ফোনের পর্দা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ কমে যায়। আর তাই রাতে ব্যাটারির চার্জ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে তড়িঘড়ি করে ফোনের বিভিন্ন সেটিংস পরিবর্তন না করে আগে সমস্যার উৎস শনাক্ত করতে হবে। আইফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে ব্যাটারি এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে ব্যাটারি অপশনে গিয়ে ব্যাটারি ইউজেস মেনুতে ক্লিক করে কোন অ্যাপ বা সেবা সবচেয়ে বেশি চার্জ ব্যবহার করছে, তা দেখতে পারবেন। রাতে ব্যাটারির চার্জ কমে যাওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ ও সেগুলো সমাধানের কৌশল জেনে নেওয়া যাক।

১. দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক

দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকলে ফোন বারবার শক্তিশালী সিগন্যালের খোঁজ করতে থাকে। এ সময় নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান চলতে থাকায় ব্যাটারির চার্জ তুলনামূলক দ্রুত কমে যায়। রাতে ব্যবহারের প্রয়োজন না হলে ফোনে এরোপ্লেন মোড চালু রাখার পাশাপাশি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

২. ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ চালু

কোনো অ্যাপ বন্ধ করলেই সেটির সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই–মেইল, স্বাস্থ্যসেবা বা কেনাকাটার অনেক অ্যাপ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্য হালনাগাদ করতে থাকে। ফলে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনের ব্যাটারির চার্জ খরচ হয়। ব্যাটারি ব্যবহারের তালিকা দেখে যেসব অ্যাপ অস্বাভাবিকভাবে বেশি চার্জ ব্যবহার করছে, সেগুলোর অনুমতি সীমিত করলে ব্যাটারির চার্জ কম খরচ হবে।

৩. অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ

অনেক অ্যাপ প্রয়োজন না থাকলেও ব্যবহারকারীদের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে, ফলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আর তাই যেসব অ্যাপের জন্য অবস্থান জানা জরুরি নয়, সেগুলোর অবস্থান শনাক্তের অনুমতি বন্ধ রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে ‘অলওয়েজ’ এর পরিবর্তে ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ অনুমতি নির্বাচন করলে ব্যাটারির চার্জ কম খরচ হবে।

৪. নোটিফিকেশন

প্রতিটি নোটিফিকেশন ফোনের প্রসেসর, নেটওয়ার্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্দার কিছু অংশকে সক্রিয় করে। ফলে অল্প অল্প করে ব্যাটারির চার্জ কমতে থাকে। অপ্রয়োজনীয় বা খুব কম ব্যবহার করা অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে ব্যাটারির খরচ কমানো সম্ভব।

৫. অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে

অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে সুবিধা চালু থাকলে পর্দার কিছু অংশ সব সময় সক্রিয় থাকে। এটি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও দীর্ঘ সময় চালু থাকলে বাড়তি চার্জ খরচ হয়। আর তাই রাতে এই সুবিধা বন্ধ করে রাখতে হবে।

৬. সফটওয়্যার হালনাগাদ

নতুন সফটওয়্যার হালনাগাদের পর ফোন কিছু সময় তথ্য সাজানো, ফাইল অপ্টিমাইজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। এ সময় সাময়িকভাবে ব্যাটারির ব্যবহার বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো সংস্করণের অ্যাপও অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে চার্জ ব্যবহার করে। তাই অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।

৭. ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া

দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা কমতে থাকে। অতিরিক্ত তাপও ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেও চার্জ কমে যেতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অনুমোদিত সেবা কেন্দ্রে ফোনের ব্যাটারি পরীক্ষা করাতে হবে।

সূত্র: টেক২ ডটকম