প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

এআই শিক্ষক নাকি শর্টকাট

‘স্যার, অঙ্কটা কীভাবে করব, একটু বুঝিয়ে দেবেন?’ দশম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা রাত আটটায় এআই টিউটরকে এভাবেই প্রশ্ন করল। মজার ব্যাপার হলো, এআই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ধাপে ধাপে অঙ্কটা বুঝিয়ে দিল, ঠিক যেমন একজন যত্নশীল গৃহশিক্ষক করে থাকেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে এআই এখন ব্যক্তিগত শিক্ষা বা পারসোনালাইজড লার্নিংয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। এর মানে হলো, প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব দুর্বলতা বুঝে আলাদাভাবে সহায়তা দেওয়া, যা একজন শিক্ষকের পক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাসে একসঙ্গে করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের অনেক স্কুলেই এখন এমন এআই টিউটর পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর প্রাথমিক ফলাফলও বেশ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করে, তাদের জন্য এটা বেশ কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।

কিন্তু বাস্তব চিত্রটা কিছুটা জটিল। অনেক শিক্ষার্থীই আছে, যারা এখন এআই দিয়ে সরাসরি বাড়ির কাজ (হোম ওয়ার্ক) সম্পূর্ণ করিয়ে ফেলে, নিজে আর কষ্ট করে কিছু শেখে না। ফলে দক্ষতা তৈরির বদলে তৈরি হচ্ছে নির্ভরতা, যা দীর্ঘ মেয়াদে আরও ক্ষতিকর।

তাহলে কি এআই শিক্ষার/শিক্ষকের শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে? না, বরং আসল প্রশ্নটা হলো, আমরা কি একে শেখার সঙ্গী বানাচ্ছি, নাকি নিছক ফাঁকিবাজি করার সহজ হাতিয়ার? উত্তরটা আমাদেরই তৈরি করতে হবে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর