ওপেনএআই চিপ তৈরি করছে
ওপেনএআই চিপ তৈরি করছে

এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের এআই চিপ বানাল ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি সেসব মডেল চালানোর হার্ডওয়্যারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে ওপেনএআই। এরই অংশ হিসেবে চিপ নির্মাতা ব্রডকমের সঙ্গে যৌথভাবে ‘জালাপেনিও’ নামের একটি চিপ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই মডেল চালানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই চিপ কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি কাজ করতে পারবে এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে কম সময় নেবে বলে দাবি করেছে ওপেনএআই।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ব্লগ বার্তায় ওপেনএআই জানিয়েছে, জালাপেনিও চিপটি জিপিটি-ওএসএস–১২০বি, ডিপসিক আর–১ ও কিমি কে–২.৫ একটি মডেলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। এআই হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বেশি কর্মক্ষমতা ও দ্রুত সাড়া পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনএআইয়ের দাবি, জালাপেনিও সেই দুই প্রয়োজনই পূরণ করতে পারে। জালাপেনিও চিপের প্রধান লক্ষ্য এআইয়ের ‘ইনফারেন্স’ প্রক্রিয়া। সহজভাবে বললে, প্রশিক্ষিত কোনো এআই মডেল ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে যখন উত্তর তৈরি করে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ইনফারেন্স বলা হয়। চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন করা বা এআই দিয়ে কোড লেখানোর মতো কাজের পেছনেও এই প্রক্রিয়া কাজ করে। এই কাজের ধরন বিবেচনায় রেখেই জালাপেনিওর নকশা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। চিপ তৈরির কাজে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিল ব্রডকম। আর চিপের বোর্ড, র‍্যাক সিস্টেম ও উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার তৈরিতে কাজ করেছে সেলেস্টিকা। ওপেনএআই জানিয়েছে, শুধু চিপের নকশা নয়, সফটওয়্যার, মেমোরি, নেটওয়ার্কিং ও এআই মডেল চালানোর অবকাঠামোকেও একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে জালাপেনিও তৈরি করা হয়েছে। ফলে পুরো ব্যবস্থার কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতাও উন্নত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনটি এআই মডেলে পরীক্ষা চালিয়ে ওপেনএআই দাবি করেছে, তুলনামূলক ব্যবস্থার চেয়ে জালাপেনিও প্রতি ওয়াট বিদ্যুতে ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৯ গুণ বেশি এআই কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাড়া পাওয়ার সময় ১ দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৬ গুণ কমেছে। ব্যবহারকারীর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে হয় এমন কাজে চিপটির কর্মক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ১ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ কম বিদ্যুৎ খরচ করে একই সময়ে আরও বেশি অনুরোধ প্রক্রিয়া করাই জালাপেনিওর অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর উত্তর পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও কমানো হবে। কোটি কোটি অনুরোধ সামলাতে হয় এমন এআই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সামান্য দক্ষতা বাড়লেও তা পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জালাপেনিও তৈরি ওপেনএআইয়ের এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন স্তরের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এত দিন এআই মডেল তৈরির পর সেগুলো চালানোর জন্য মূলত অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে ওপেনএআইকে। এবার চিপ, সফটওয়্যার, মেমোরি, নেটওয়ার্কিং ও এআই মডেল চালানোর অবকাঠামোকে একসঙ্গে উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রাথমিক নকশা থেকে উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত নকশা তৈরির পর্যায় পর্যন্ত জালাপেনিওর উন্নয়নকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে মাত্র ৯ মাস। চিপটির নকশা ও কার্যকারিতা উন্নত করার বিভিন্ন পর্যায়েও ওপেনএআইয়ের নিজস্ব এআই মডেল প্রকৌশলীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তবে জালাপেনিও তৈরি করলেও এখনই এনভিডিয়ার চিপের ব্যবহার বন্ধ করছে না ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সীমিত পরিমাণে জালাপেনিও চিপ ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালে এর ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।

ভবিষ্যতে এই চিপের নতুন প্রজন্ম তৈরির কাজও চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি। এনভিডিয়াসহ অন্যান্য হার্ডওয়্যার অংশীদারের সঙ্গেও কাজ অব্যাহত রাখবে ওপেনএআই। ফলে জালাপেনিওকে এনভিডিয়ার বিকল্প হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা গেলেও আপাতত তৃতীয় পক্ষের হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করছে না প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে