অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সনি মিউজিক পাবলিশিং ও ওয়ার্নার চ্যাপেল মিউজিক
অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সনি মিউজিক পাবলিশিং ও ওয়ার্নার চ্যাপেল মিউজিক

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে সনি ও ওয়ার্নারের মামলা

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংগীতশিল্পের দুই বড় প্রতিষ্ঠান সনি মিউজিক পাবলিশিং ও ওয়ার্নার চ্যাপেল মিউজিক। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে করা এ মামলায় অ্যানথ্রোপিকের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের জেলা আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নথিতে অ্যানথ্রোপিককে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় ও স্পষ্ট’ মেধাস্বত্ব চুরির ঘটনাগুলোর একটির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছে সনি ও ওয়ার্নার। মামলায় অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেই এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা বেঞ্জামিন ম্যানকেও আসামি করা হয়েছে।

মিউজিক বিজনেস ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রথম মামলাটির খবর প্রকাশ করে। মামলায় সনি ও ওয়ার্নারের অভিযোগ, জনপ্রিয় এআই মডেল ক্লডকে প্রশিক্ষণের জন্য অ্যানথ্রোপিক ব্যাপক পরিসরে কপিরাইট করা সংগীত অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে। টরেন্টোর মাধ্যমে সংগীত নামানো, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য উপায়ে এসব কপিরাইট করা সংগীতকর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। সনি ও ওয়ার্নার আরও অভিযোগ করেছে, অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সংগীত ব্যবহার করে অ্যানথ্রোপিক বিপুল অর্থ আয় করেছে। মামলায় প্রতিটি কপিরাইট করা সংগীতকর্মের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং প্রতিটি কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য আরও ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, অ্যানথ্রোপিক হাজারো সংগীতকর্ম অবৈধভাবে ব্যবহার করেছে। ফলে মামলায় চাওয়া মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। মামলায় অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানের কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এইন্ট নো মাউন্টেন হাই এনাফ’, ‘অল আই ওয়ান্ট ফর ক্রিসমাস ইজ ইউ’, ‘আই অব দ্য টাইগার’ এবং ‘হিয়ার কামস সান্তা ক্লজ’।

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে এর আগেও অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বই প্রকাশকদের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যানথ্রোপিক কপিরাইট করা বই অবৈধভাবে সংগ্রহ করে এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। সনি ও ওয়ার্নারের করা নতুন মামলায় আগের সেই সমঝোতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগীত প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপও (ইউএমজি)। ইউএমজি, কনকর্ড মিউজিক গ্রুপ ও এবিকো মিউজিক ২০২৩ সালে অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। চলতি বছরের শুরুতেও প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে মামলা করেছে। সর্বশেষ মামলায় তারা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

সূত্র: ম্যাশেবল