টয়োটার নতুন সিইও হচ্ছেন কেনটা কন (ডানে)। পাশে বর্তমান সিইও কোজি সাতো।
টয়োটার নতুন সিইও হচ্ছেন কেনটা কন (ডানে)। পাশে বর্তমান সিইও কোজি সাতো।

টয়োটার নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন কেনটা কন

পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে বড় ধরনের চমক উপহার দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এবারই প্রথম দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কোনো প্রকৌশলী বা গাড়ি বিশেষজ্ঞ নয়, বরং নিজেদের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) কেনটা কনকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টয়োটা মোটর করপোরেশন জানিয়েছে, বর্তমান সিইও কোজি সাতো আগামী ১ এপ্রিল পদত্যাগ করবেন। সেদিনই কোজি সাতোর স্থলাভিষিক্ত হবেন কেনটা কন। বিদায়ী কোজি সাতো টয়োটার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বর্তমানে অটোমোবাইলশিল্প এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার ধরার প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান শুল্কযুদ্ধের মতো সব মিলিয়ে টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য আগামী কয়েক বছর অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টয়োটা নেতৃত্বের আসনে এমন একজনকে চেয়েছে, যিনি আবেগ দিয়ে নয়; বরং সংখ্যা এবং মুনাফার হিসাব দিয়ে কোম্পানিকে প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

নতুন সিইও কেনটা কন জানিয়েছেন, তিনি একজন সংখ্যার মানুষ। তবে তাঁর একটি শখের জায়গাও আছে। তিনি বড় পারিবারিক গাড়ি পছন্দ করেন। সিইও হিসেবে নিজের মিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হলো টয়োটার জন্য একটি বিশাল আর্থিক ভান্ডার গড়ে তোলা। যাতে আমাদের কোম্পানি এই পরিবর্তনশীল শিল্পে যেকোনো সাহসী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সামর্থ্য রাখে।’

২০২৫ সালে টয়োটা বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ গাড়ি বিক্রি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটার হাইব্রিড এবং জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত নিয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এমন অস্থির সময়ে উৎপাদন খরচে লাগাম টানা এবং বিনিয়োগের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করাই টয়োটার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: অটোনিউজ