
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম দামের কিছু স্মার্টফোনে আগে থেকেই ম্যালওয়্যার ইনস্টল করা থাকে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা। তাঁদের মতে, ‘মিডনাইট মিমোসা’ নামের একটি ম্যালওয়্যার কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ফার্মওয়্যারে আগে থেকেই যুক্ত থাকে।
ফার্মওয়্যার হলো ফোনের হার্ডওয়্যার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সফটওয়্যার। ফলে ফোনটি চালু করার আগেই এতে ম্যালওয়্যারটি অবস্থান করে। সাধারণ অ্যাপের মতো এটি আনইনস্টল করে মুছে ফেলা যায় না। এ কারণে ফোন কিনে ব্যবহারের পর থেকেই নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারেন ক্রেতারা।
বিটডিফেন্ডারের গবেষকদের তথ্যমতে, মিডনাইট মিমোসা ফোনের ফার্মওয়্যারে যুক্ত একটি স্থায়ী সিস্টেম অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করে। এর ফলে ম্যালওয়্যারটি ফোনের সিস্টেম পর্যায়ে প্রবেশাধিকার পায়। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে এটি ফোনে অ্যাপ ইনস্টল ও মুছে ফেলতে পারে। এমনকি দূরবর্তী সার্ভার থেকে অতিরিক্ত কোড ডাউনলোড এবং বিভিন্ন অ্যাপকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে ম্যালওয়্যারটির।
গবেষকেরা এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ৩২টি ছদ্মবেশী অ্যাপের সন্ধান পেয়েছেন। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের ভুয়া ভিউ তৈরি ও ক্লিক জালিয়াতি করা হয়। ব্যবহারকারীর অজান্তে বিজ্ঞাপনে ভুয়া কার্যক্রম চালিয়ে এর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে এই চক্র। ম্যালওয়্যারটি শনাক্তকরণ এড়াতে বিশেষ কৌশলও ব্যবহার করে। ক্ষতিকর কার্যক্রম চালানোর সময় এটি গোপনে সাময়িকভাবে গুগল প্লে স্টোরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করার সময় গুগলের প্লে প্রোটেক্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
মিডনাইট মিমোসা মূলত মিডিয়াটেক প্ল্যাটফর্মে তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্বল্পমূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ফোনগুলোর বেশির ভাগই কম পরিচিত ব্র্যান্ডের হলেও ১৫০টির বেশি দেশে পাওয়া যায়। তবে কোন কোন মডেলের ফোনে ম্যালওয়্যার আগে থেকেই যুক্ত থাকে, তা প্রকাশ করেননি গবেষকেরা।
সূত্র: অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ