
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাঠ শুধু রাজপথ বা জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা স্মার্টফোনের পর্দায় বেশ জমে উঠেছে। কয়েক কোটি তরুণ ভোটারের অংশগ্রহণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে জনমতের প্রধান প্রতিফলন কেন্দ্র বলা যায়। ফেসবুক থেকে শুরু করে টিকটকের মতো সব মাধ্যমেই এখন বইছে নির্বাচনের উত্তাপ। আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ধারা বা ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এখানে।
নির্বাচন ঘিরে গুগলে গত কয়েক দিনে সার্চের বিভিন্ন তথ্য দেখা যাচ্ছে। আজ বেলা তিনটার সময় দেখা যায়, গুগল ট্রেন্ডসের শেষ চার ঘণ্টা অনুযায়ী election শব্দটি নিয়ে ৫০ হাজারের বেশি সার্চ হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘নির্বাচন কমিশন’, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ ও ‘নির্বাচন ভোটার নম্বর’ শীর্ষক শব্দ শীর্ষ সার্চের তালিকায় রয়েছে। ভোটাররা, বিশেষ করে তাঁদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও স্মার্ট আইডি কার্ড–সংক্রান্ত তথ্যের জন্য গুগলের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ইউটিউবে #bdelection2026–সহ বিভিন্ন কি–ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে বেলা তিনটা পর্যন্ত কয়েক হাজার ভিডিও দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন চ্যানেলের আলাদা আলাদা ভিডিওতে কয়েক হাজার ভিউ থেকে কয়েক লাখ ভিউ দেখা যাচ্ছে।
ফেসবুকে ভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও পোস্ট দেখা যাচ্ছে। ফেসবুক সার্চ থেকে #bdelection2026, #Bangladesh ও #vote হ্যাশট্যাগ দিয়ে কয়েক লাখ পোস্ট শেয়ার হয়েছে। ভোটাররা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত ও বিভিন্ন ছবি হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রকাশ করছেন। ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবাল তাঁর ভেরিফায়েড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন।’ চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকা নোশিন ফেসবুকে ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছি।’ তাঁর পোস্টে #womenrights হ্যাশট্যাগটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ঈশিকা সাকিন নিজের ভোট দেওয়ার ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিচ্ছি, ভালোই লাগছে। রাস্তায় অনেক মানুষকে দেখছি উচ্ছ্বসিত অবস্থায়। পরিবারের সবার সঙ্গে মিলে একসঙ্গে ভোট দিয়েছি।’ তরুণ পেশাজীবী অদ্রিকা এষণা পূর্বাশা ফেসবুকে নিজের ছবি প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আজকের দিনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন সম্পন্ন করলাম। কী হবে, কী হবে না—কী হলে ভালো হতো বা না হতো—এসব হিসাব–নিকাশে না গিয়ে নিজের যেটুকু করণীয় ছিল, তা করতে পেরেছি—এটুকুই শান্তি।’ ফেসবুক ব্যবহারকারী সুরাইয়া হেনা ফেসবুকে ছবি ও নিজের মন্তব্য প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদান একেই বলে। পরিবারের সবাই মিলে ভোট দিয়ে আসলাম।’ ফেসবুকে সুরাইয়া তাঁর বন্ধু–পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি তাদের মিডিয়া সেলের মাধ্যমে #VoteBNP ও #BNPForYouth হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তরুণদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পোস্টে #ElectionObservation #Election2026 হ্যাশট্যাগ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে এক্সে ট্রেন্ডিং তালিকায় শীর্ষে রয়েছে #ElectionDay ও #BangladeshElection। এখানে মূলত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের পোস্টের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিয়মিত বিরতিতে #নির্বাচন #bdelection2026 #Bangladesh #election2026 #election #vote হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করছে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক। এবারের নির্বাচনে ৪৪ শতাংশই তরুণ ভোটার, যাঁদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। ইনস্টাগ্রামে #firstvote হ্যাশট্যাগে আঙুলের কালির চিহ্ন দিয়ে হাজার হাজার সেলফি প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবের মতো তরুণেরা তাঁদের অতীত অভিজ্ঞতা ও আগামীর স্বপ্ন শেয়ার করছেন। টিকটকে ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নির্বাচনী গান, প্রার্থীর প্যারোডি ও ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ দেখা যায়। #bdelection হ্যাশট্যাগের বিভিন্ন ভিডিওতে কয়েক হাজার পর্যন্ত ভিউ দেখা যাচ্ছে। বিনোদনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে টিকটক এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে স্টোরি। ব্যবহারকারীরা নিজের হাতের আঙুল, ভোটার কার্ড, ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ও ভোট শেষে গ্রুপ ছবিসহ নানান স্মৃতি স্টোরির মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, রিলস আকারের ভিডিও প্রকাশের আগ্রহ দেখা যায় ব্যবহারকারীদের। এ ছাড়া বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট দেওয়ার পরে বৃদ্ধাঙ্গুলিতে নীল মার্কসহ বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করছেন ব্যবহারকারীরা। ইউটিউব বা টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ভিডিও বেশি পোস্ট করছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিওতে নির্বাচনসংক্রান্ত হ্যাশট্যাগের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।