আহসান হাবিব
আহসান হাবিব

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা ২৫ বছরের আহসান হাবিব

একজন প্রশিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল বিপণন কাজের ধরন, মানুষের চাহিদা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ জানার জন্য আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়। প্রতিটি সফর আমাকে নতুন কিছু শেখায়, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তোলে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় সফরের সময় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁরা কেউ পড়াশোনা করছেন, কেউবা পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করছেন। আমি সব সময় একটি বিষয় বিশ্বাস করি, বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীকেই প্রথমে নানা ধরনের পার্টটাইম বা সাধারণ চাকরি করতে হয়। কিন্তু যদি কেউ আগে থেকেই একটি দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে যায়, তাহলে সেই দেশের বাজারে নিজের জন্য অনেক ভালো সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন একটু আলাদা। তাঁর নাম আহসান হাবিব। বয়স মাত্র ২৫ বছর। বাড়ি যশোরে। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি জিওম্যাটিকা মালয়েশিয়ায় কম্পিউটারবিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করছেন। কথা বলতে গিয়ে জানতে পারলাম, পড়াশোনার পাশাপাশি আহসান হাবিব মালয়েশিয়ায় একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তুলেছেন। সেই এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা দিচ্ছেন তিনি। বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তবে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে আহসান হাবিবের আরেকটি উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাঁরা প্রায়ই তথ্যের অভাব, সঠিক দিকনির্দেশনার সংকট ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হন। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নাঈম সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে একটি পরামর্শ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। স্টাডি এশিয়া কনসালটেন্সি নামের প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আসা নতুন শিক্ষার্থীদের তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন তিনি।

আহসান হাবিবের সঙ্গে লেখক (ডানে)

আমার মনে পড়ছিল ২০১৮ সালের কথা। যখন আমি একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জগতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন অনেকেই সেই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেননি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। আজ যখন দেখি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী তরুণ–তরুণীরা আমার প্রশিক্ষণ থেকে শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন, তখন সেই সিদ্ধান্তের সার্থকতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু মালয়েশিয়া নয়, বিশ্বের প্রায় ৪০টির বেশি দেশে আমার কোর্সের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। কেউ ফ্রিল্যান্সার, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ আবার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

আরও একটি বিষয় আমাকে আশাবাদী করে। এই তরুণদের অনেকেই প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন। সম্মিলিতভাবে তাঁদের অবদান বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রবাহকে শক্তিশালী করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আহসান হাবিব নাঈমের মতো তরুণদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি দক্ষতা শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই বদলে দেয় না, এটি একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শামীম হুসাইন: স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা, ডিজিটাল বিপণনকারী, প্রশিক্ষক ও পরামর্শক।